
গার্মেন্টস শিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের ওপর হয়রানি বন্ধ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্মানজনক নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমজীবী ঐক্য পরিষদ (সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটি)। একই সঙ্গে শিল্পের স্থিতিশীলতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে শ্রমিক ভাই-বোনদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উৎপাদন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সাভার প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের ১২টি শ্রমিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করার জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সুমাইয়া ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রম অসন্তোষের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং বেআইনি পদক্ষেপ গ্রহণে তারা গভীরভাবে ব্যথিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের প্রতি কোনো প্রকার বেআইনি বা মানবাধিকার পরিপন্থি কার্যক্রম না চালানোর জোর আহ্বান জানান তারা।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন— চলমান শ্রম অসন্তোষে যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর জন্য সাধারণ শ্রমিকরা দায়ী নন এবং সরকার এসবের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, শ্রম অসন্তোষের নেপথ্যে যৌক্তিক কারণ থাকলেও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে শ্রমিকরা জড়িত নন। তাই শ্রমিক সমাজকে শান্ত থেকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদনে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
দাবিগুলো হলো-
> অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা সব নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
> চলমান শ্রম অসন্তোষের অজুহাতে কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
> শ্রমিক নেতাদের ওপর যেকোনো ধরনের হয়রানি, নির্যাতন ও নজরদারি/গোয়েন্দা তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
> অবিলম্বে মজুরি বোর্ডের সভা আহ্বান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সম্মানজনক নতুন মজুরি ঘোষণা করতে হবে।
> ইতোমধ্যে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল করতে হবে এবং ব্ল্যাকলিস্ট বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিক হয়রানি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
আরটিভি/এমএইচজে


