
রংপুরের পীরগঞ্জের গুর্জিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নগণ্য, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ, পাঠদানের মানের অবনতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা নুরের ছবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। আরটিভিতে বিদ্যালয়টির অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এ পদক্ষেপে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ২০২৬/৯২৮-এর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষিকা নুরের ছবীকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত সপ্তাহে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বন্ধ দেখতে পান। এ সময় বিদ্যালয়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার শিক্ষক হায়দার আলীর দুর্ব্যবহারের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পাঠদানের মানের কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে নোটিশে বলা হয়। বরং দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও প্রধান শিক্ষিকা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষিকার নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে তার দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় কেন তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার কোনো বক্তব্য নেই বলে ধরে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।
আরটিভি/এমএইচজে




