ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত ২
কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু, গুরুতর আহত ২
কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় মনিকা (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা ও অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ‘বাঁধন’-এর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
লালনচর্চার নতুন ঠিকানা ধরলা-ব্রহ্মপুত্র-তিস্তার পাড়
লালনচর্চার নতুন ঠিকানা ধরলা-ব্রহ্মপুত্র-তিস্তার পাড়
কুড়িগ্রামের ৫৬৬ মন্দির-মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে: এসআরবি-১৩
কুড়িগ্রামের ৫৬৬ মন্দির-মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে: এসআরবি-১৩
কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ইজিবাইকের ৫ যাত্রী নিহত
কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ইজিবাইকের ৫ যাত্রী নিহত
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
রিহ্যাব সেন্টার থেকে ফিরে যে কাণ্ড ঘটালেন শোভন
মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা হাসপাতালে
মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা হাসপাতালে
নৌপথ ‘সচল’ হলেও দেখা নেই ফেরি, বিপাকে ১০ হাজার মানুষ
ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ খনন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে নৌপথের প্রয়োজনীয় গভীরতা। কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে এখন ফেরি চলাচলে বাধা নেই। অথচ ফেরি নেই। ফলে প্রায় ২২ কিলোমিটারের গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী-রৌমারী নৌপথ এখন পুরোপুরি ফেরিশূন্য। বিপাকে একাধিক উপজেলার ১০ হাজার মানুষ। নাব্যতা ফেরাতে কোটি টাকা ব্যয়ে খনন শেষ হয়েছে। গত আগস্টে নাব্যতা সংকটের কথা বলে ফেরি চলাচল বন্ধের পর একে একে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তিনটি ফেরি। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের কথা বলে একমাত্র সচল ফেরি ‘কদম’ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হলে চিলমারী-রৌমারী নৌপথ এখন পুরোপুরি ফেরিশূন্য। এতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই পাড়ের মানুষ, চালক ও ব্যবসায়ীরা। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, জুলাইয়ের শেষ দিকে চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে নিবিড় খনন শুরু হয়। খননের পর নৌপথে ফেরি চলাচলের প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে চ্যানেল সচল রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং চলছে। তবে ফেরি না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা। বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল করায় বাড়ছে সময় ও জ্বালানি ব্যয়। পচনশীল পণ্য পরিবহনে বাড়ছে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নৌপথ খনন করে প্রস্তুত রাখার পরও ফেরি না চললে এ বিনিয়োগের সুফল মিলবে কীভাবে? বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) দ্রুত ফেরি চালুর তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ফেরি না চললে নৌপথে আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে। ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এ রুটে ‘কুঞ্জলতা’, ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘কদম’ নামে তিনটি ফেরি চলাচল করত। কিন্তু চালুর তিন বছরের মধ্যেই বারবার বন্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত ফেরি চালু এবং দুই সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত ড্রেজিং অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, এইভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে ফেরি আর চালু হবে না, আমাদের দুর্ভোগও শেষ হবে না। ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ফেরি বন্ধ হওয়ার পরে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। রংপুর থেকে এসে মাল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় মালবাহী নৌকার জন্য। এতে হয়রানি হচ্ছে এবং পোষাচ্ছে না। কুলি মজনু মিয়া বলেন, ড্রেজিং করে জনগণের টাকা তো খায়ই খায়ই। কর্মকর্তারা টেবিলে শুয়ে খায়। এখানে শুনছিলাম ৬০০ কোটি টাকা বাজেট বলে আসছিল। সব টাকা ব্যাটা তারা একাই খেয়ে লাইছে। বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মাহমুদুল আলম তায়েফ বলেন, ঘাট ম্যানেজমেন্টসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বিআইডব্লিউটিএ করে। কিন্তু নৌপথের নাব্যতা সংকট দূরীকরণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ পর্যাপ্ত পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নিয়েছে। আরটিভি/টিআর
ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, আতংকিত এলাকাবাসী
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকল কেডিওয়ারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধে আবারও ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয়রা জানান, ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়ে তীব্র স্রোতে নদী আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ফাটল তৈরি হওয়ায় যে-কোনো সময় আরও অংশ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বারবার এভাবে ধসে যাওয়া অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীরা আতংকিত হয়ে পড়ছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও স্থানীয় সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, রাতেই বিকট শব্দে বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যায়। যেহেতু বাঁধের পাশেই আমাদের বাড়ি এখন আমাদের বাড়িঘর নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দল। সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি অধ্যাপক ফজলুল হক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।  কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কাঁচকল কেডিওয়ারী এলাকার ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ তীর সংরক্ষণের জন্য একটি ডিপিপি দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘমেয়াদে এই ভাঙন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। আরটিভি/এসএস
কুড়িগ্রামের ধরলা পাড়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে ধরলা নদীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ফুলবাড়ী ধরলা সেতুর উত্তরে আয়োজিত এ নৌকা বাইচ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী। স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল এ নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় গত ২৬ আগস্ট। সেই দিন থেকে স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের মোট ১২ টি বড় বড় নৌকাসহ বাইচালরা অংশ নেয়। এরপর থেকে খেলার দিন করে নির্ধারিত সময়ে ধরলা নদীতে জমে উঠেছে নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতা।  নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে নদীর পাড় পরিণত হয় মিলনমেলায়। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, কেউবা নৌকায় কিংবা আশপাশের উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়ে উপভোগ করছেন প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে নৌকা বাইচ শুরু হলে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ধরলা পাড়। প্রতিযোগী নৌকাগুলো ঢেউ কেটে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি, চিৎকার ও উৎসাহে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। স্থানীয়রা জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য। একসময় নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এমন আয়োজন তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তাই ধরলা নদীতে এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আয়োজকরা বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। নৌকা বাইচকে ঘিরে ধরলার পাড়ে বসেছে ছোট-বড় নানা ধরনের দোকানপাট। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার সুযোগ পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ীর ধরলা পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থী অসীম কুমার রায়, ববিতা খাতুন ও রুবিন খাতুন জানান, তারা প্রত্যেকেই খেলার দিন করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। সড়ক থেকে ধরলা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। উপচে পড়া ভিড় ও নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করেও তারা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ মনোমুগ্ধকর খেলা উপভোগ করছেন। নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি সত্যিই আনন্দদায়ক। খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নদীর ঢেউয়ের মতো এ খেলা মানুষের মনকে নির্মল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে নেয়। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আয়োজকদের অনেক ধন্যবাদ জানাই।  নৌকা বাইচ কমিটির উপদেষ্টা ও খেলা পরিচালনাকারী শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সামচুজ্জামান হাসু জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। সময়ের পরিক্রমায় খেলাটি অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। নৌকা বাইচ আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে আসছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছেও এই ঐতিহ্যবাহী খেলার পরিচিতি বাড়ছে। তারা আরও বলেন, নৌকা বাইচসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো যদি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। যেহেতু সেমিফাইনাল শেষ, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ভালো দিন দেখে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত করা হবে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছর ধরলা নদীর তীরে নিয়মিত নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে। আরটিভি/এসএস
আরও