ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে পরীক্ষার সূচনা হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন।

সূচি অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা। সেগুলো হলো–

১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে।

৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনও বিরতি থাকবে না।

৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন আগে সংগ্রহ করবে।

৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাতে হবে।

৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনও অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয় বা বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনও অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন

২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।

১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না।

১২. সৃজনশীল বা রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গত বছর এবং এ বছর তার ব্যত্যয় ঘটেছে।

আরটিভি/ এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফলাফলে দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম। এর আগে ১৩তম থেকে ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় টানা চারবার প্রথম হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ১৩তম থেকে ১৮তম—সর্বশেষ ছয়টি বিজেএস পরীক্ষার মধ্যে পাঁচটিতেই প্রথম হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ১৩তম, ১৪তম, ১৫তম ও ১৬তম পরীক্ষায় টানা চারবার রাবির শিক্ষার্থীরা প্রথম হওয়ার পর ১৭তম পরীক্ষায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শীর্ষস্থান অর্জন করেন। ১৮তম পরীক্ষায় সিয়ামের সাফল্যের মাধ্যমে আবারও মেধাতালিকার শীর্ষে রাবি। ১৩তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন শিউলী নাহার। ১৪তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রথম হন সুমাইয়া নাসরিন। ১৫তম বিজেএসে প্রথম স্থান অর্জন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশিক-উজ-জামান। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায়ও শীর্ষস্থান ধরে রাখেন রাবির শিক্ষার্থী নুসরাত জেরিন জেনি। তবে ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় এ ধারাবাহিকতার অবসান ঘটে। ওই পরীক্ষায় প্রথম হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া। এর ফলে রাবির শিক্ষার্থীদের টানা চারবার প্রথম হওয়ার ধারাটি থেমে যায়। পরবর্তী ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফুল করিম সিয়ামের প্রথম হওয়ার মাধ্যমে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে আসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৮তম বিজেএসে প্রথম হওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল করিম সিয়াম তার সাফল্যের বিষয়ে বলেন, আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা মহান আল্লাহর দান। অনেকেই হয়তো আমার চেয়েও বেশি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু দিন শেষে সৃষ্টিকর্তা যাকে ইচ্ছা কবুল করেন। ভবিষ্যতে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দীর্ঘ যাত্রায় যেন কেউ ধৈর্য না হারায়। প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রতিদিন সমান সাফল্য আসবে না, কখনো ঘাটতি থাকবে, কখনো ভালো হবে। কিন্তু পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে একটু একটু করে ঝালিয়ে নেওয়া খুবই জরুরি। সাফল্যের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আনজু বলেন, খুবই ভালো লাগছে শুনে। রাবির আইন বিভাগ থেকে আবারও দেশসেরা হয়েছে—এটা অবশ্যই আমার জন্য, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। সিয়ামসহ ১৮তম বিজেএসে যে ২০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আরটিভি/টিআর  
শেষ ছয় জজ নিয়োগ পরীক্ষার পাঁচটিতেই প্রথম রাবির শিক্ষার্থীরা
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ছয় শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তারা সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়। সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের মাহবুবা সুলতানা এবং ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাসিম বিল্লাহ, হাফসা বিনতে আইয়ুব, সজল আহমেদ বাপ্পী, কামরুজ্জামান বাদশা ও ২০ ব্যাচের নাজমুল ইসলাম সিয়াম। মেধাতালিকায় হাফসা বিনতে আইয়ুব ৭ম, সজল আহমেদ বাপ্পী ৮ম, নাজমুল ইসলাম সিয়াম ৩০তম, কামরুজ্জামান বাদশা ৫৭তম এবং নাসিম বিল্লাহ ৬৫তম স্থান অর্জন করেছেন। বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নাসিম বিল্লাহ বলেন, “সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার নিকট অশেষ শুকরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমরা ছিলাম তৃতীয় ব্যাচ। আমাদের সিনিয়র ব্যাচ যখন জুডিশিয়ারির পরীক্ষা দিতেন, আমরা খুবই আগ্রহ নিয়ে তাদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করতাম। অনেক পরিশ্রমের পরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আমাদের ছয়জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, আমাকে এই দিনে নিয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের শিক্ষকদের, আমাদের সিনিয়রদের, আমার জুনিয়রদের, আমার খাজা হলের সকল মানুষের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মানুষের। অনেক অনেক ধন্যবাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সকলের নিকট দোয়া চাই, যেন বিচারক হিসেবে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। এছাড়াও সজল আহমেদ বাপ্পী বলেন, আইন ডিসিপ্লিন তথা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে দোয়া চাই, যাতে সারাজীবন ন্যায়ের পথে থাকতে পারি এবং মানুষের জন্য সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি। এ বিষয়ে আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক পুনাম চক্রবর্তী বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বিচারক হিসেবে কয়েকজন শিক্ষার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইন ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রথম ১৪ জন ভাইভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মধ্যে ছয়জন জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এটি শুধু আইন ডিসিপ্লিনের জন্য নয়, পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও যেন এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভালো করতে পারে, সে জন্য আইন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন দেশের অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা আয়োজন করে। প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিকসহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়। আরটিভি/টিআর  
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
ছাত্রীকে ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই সামনে ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রীনিবাস থেকে এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিসিএস গলির শেষপ্রান্তে অবস্থিত ফজিলা ছাত্রীনিবাসের তৃতীয় তলার ৩০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে মেসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই ছাত্রীকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তাকে আর বাইরে দেখা যায়নি। বুধবার সন্ধ্যায় বারবার ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় মেসের মালিক ও কয়েকজন ছাত্রী হাতুড়ি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে জানালার সঙ্গে কাপড় দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি প্রায় ৮-৯ মাস ধরে ওই ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি দিনাজপুর শহরের অন্য একটি মেসে থাকতেন। খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগতভাবে পরিবারের সম্মতিতে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখে আমাদের কাছে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার আগে আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তার মধ্যে আত্মহত্যার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ ছিল। পোস্টমর্টেমের পর এসব বিষয় নিশ্চিত করে বলা যাবে। ছাত্রীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে বাকি প্রক্রিয়া শুরু হবে। আরটিভি/টিআর
ছাত্রীকে ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই সামনে ‘অপ্রত্যাশিত দৃশ্য’
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ১৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চৈতি বিশ্বাস। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তার স্বামী উদাস গোস্বামী একই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবনে আছেন। এবার স্ত্রীর সাফল্যে পরিবারে যোগ হয়েছে নতুন আনন্দ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা গেছে, চৈতি বিশ্বাস পরীক্ষায় সফল হয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার স্বামীও এর আগে একই পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দুজনের এই সাফল্যের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও আইন অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিচার বিভাগে যুক্ত হওয়াকে অনেকে অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। স্ত্রীর সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উদাস গোস্বামী লিখেছেন, জজ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই খুব আগ্রহ ছিল। এখন ঘুম থেকে উঠেই একজন জজ দেখার সৌভাগ্য হবে। স্রষ্টার অশেষ কৃপায় তোমার (তার স্ত্রী) পরিশ্রম তোমাকে সম্মানিত করেছে। স্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ১৮তম জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তোমাকে অভিনন্দন, প্রিয়তমা সহধর্মিণী চৈতি বিশ্বাস। বাবা তার এত প্রিয় বউমার এই সাফল্য অল্প সময়ের ব্যবধানে দেখতে পারলেন না—এটাই আফসোস। যাহোক, আবারও অভিনন্দন, জজ সাহেবা। আরটিভি/টিআর
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় স্বামী, এবার জজ হলেন স্ত্রী
নোবিপ্রবিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজিটাল স্ক্রিনে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান (মাইক্রোবায়োলজি) বিভাগের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দলের’ সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং পুরো বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ কর্তৃক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোঅর্গানিজম ডে-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত চলাকালে ডিজিটাল স্ক্রিনে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা ইতোমধ্যে সেই কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নোবিপ্রবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এ সময়কালে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের সময় ব্যাকগ্রাউন্ড ভিডিওর শেষ অংশে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি উপস্থিত অতিথিদের নজরে এলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। পরবর্তীতে পুনরায় শুধু অডিওর মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। ঘটনাটিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি অবমাননাকর এবং চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ঘটনার বিষয়ে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও আয়োজকেরা জানান, অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যস্ততায় প্রজেক্টরে চালানো ইউটিউব ভিডিওটি আগে পর্যালোচনা করা হয়নি। এ কারণে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এই ভুলটি ঘটে যায়। আরটিভি/টিআর
নোবিপ্রবিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি
আরও পড়ুন
এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে যা জানা গেল
নিউইয়র্কে চোখের পরীক্ষার খরচ কত, করাবেন কোথায়! জানুন
গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে রাবিতে ১০ দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা
বর-কনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখুন