ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে নেই কোনো আয়োজন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরাটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সৌজন্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর জুলাই মাসজুড়ে গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে 'মসজিদ ও মন্দিরে শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে গণ-স্বাক্ষর, অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন, কালো ব্যাজ ধারণ, শহিদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ, কবর জিয়ারত, জুলাই ৩৬ কর্নার উদ্বোধন, গ্রাফিতি অঙ্কন ও চিত্রাঙ্কন' কর্মসূচি সহ নানা আয়োজন হলেও এবার শহিদদের স্মরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ কিংবা কোনো প্রস্তুতিমূলক সভাও করা হয়নি।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিকভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এ আন্দোলনে দেশের আপামর জনতা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে। এ আন্দোলনে দেশের অনেক মানুষ আহত ও নিহত হন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা ও উদ্যোগহীনতা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়কে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক দায়িত্ব। তাই প্রশাসনের এ ধরনের উদাসীনতা হতাশাজনক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই স্মরণে কোনো কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, ‘জুলাই শুধু একটি মাস নয়, এটি ধারণ করার বিষয়। এটি জোর করে পালন করার বিষয়ও নয়। জুলাইয়ের প্রকৃত অংশীদার সাধারণ মানুষ। তাই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং জুলাই শহিদদের স্মরণে যথাযথ কর্মসূচির আয়োজন করা জরুরি। এমন আয়োজন হওয়া উচিত, যাতে শহিদদের প্রতি সম্মান জানানো যায় এবং গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও মানুষের প্রত্যাশা তুলে ধরা সম্ভব হয়। কিন্তু আমরা দেখছি, যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই জুলাইকে স্মরণ করে প্রশাসনের কোনো আয়োজন নেই, যা হতাশাজনক। আমি আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত জুলাই স্মরণে কর্মসূচি ঘোষণা করবে এবং এমন আয়োজন করবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে জানতে ও এর চেতনা ধারণ করতে পারবে।’

লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অলি উল্লাহ বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল এ বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে জুলাই উদ্‌যাপন করা হবে এবং জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ় ভূমিকা রাখবে। জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং তরুণরাই ছিলেন এ আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। জুলাই উদ্‌যাপনের মাধ্যমে আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কী করতে পারি, তা আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসা দরকার ছিল। গত বছরও সরকারি কোনো বাজেট না থাকলেও আমরা জুলাই পালন করেছি। এবারও জুলাই উপলক্ষে আয়োজনের জন্য এখনো কোনো বাজেট দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সরকার বরাদ্দ দিক বা না দিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ উদ্যোগে জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা উচিত ছিল। নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের চেতনা পৌঁছে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় যখন এ কাজ করবে না, তখন রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিজেদের মতো করে ব্যবহার করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে জুলাইয়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করা এবং তা সঠিকভাবে তুলে ধরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব উদ্যোগ না থাকাটা খুবই হতাশাজনক।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, কেন্দ্র থেকে এখনো আমাদের কোনো নির্দেশনা আসেনি, গতবছর আমাদের মাসব্যাপী পালন করার নির্দেশনা ছিলো। আমরা প্রস্তুত আছি নির্দেশনা পেলেই আয়োজন করবো।

তবে গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস (ভলিউম ২, ডিসেম্বর ২০২৪)’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিয়মিত জার্নাল প্রকাশনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু অভ্যন্তরীণ প্রকাশনা নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে গুণগত গবেষণা ও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে গবেষকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তিস্তা অববাহিকার জীবিকা ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার বিশেষ সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানা অনুষদের গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আলোচনা শেষে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে জার্নালটির মোড়ক উন্মোচন করেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘ওয়ার্কশপ অন অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এ ছাড়া কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেরোবি আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম। কর্মশালায় গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত গবেষণাপদ্ধতি, কৌশল এবং আধুনিক মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আবদুর রাকিব এবং ড. মো. সজিব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যশোরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, তা বাস্তবে রূপ দিতে স্থান নির্বাচন, আইনি জটিলতা নিরসন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআজাকফ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। আরটিভি/টিআর
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। কেক কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে পর্যটন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলায় রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় হস্তশিল্প, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে মেলা চলবে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলকাপ, গম্ভীরা, সংগীতানুষ্ঠান এবং আরইউ ড্যান্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘পর্যটন বিভাগে কেউ বেকার থাকে না। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ট্যুর গাইড, মেন্টর, ট্যুর অপারেটর ও হসপিটালিটি অপারেটর হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে ট্যুরিজম বোর্ড সব সময় পাশে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেসব স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায়। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হসপিটালিটি ব্যবস্থাপক ও পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভাগটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম এবং কোষাধ্যক্ষ (অব.) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। আরটিভি/টিআর
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
আরও পড়ুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হুদা
স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব পেল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
২১ শিক্ষককে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্মাননা প্রদান
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিন্ডিকেট সদস্য ড. আখতার হোসেন খান