ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত এবং হলের বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে নারী শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সমঅধিকারভিত্তিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান সর্ব মিত্র চাকমা।
এই বিষয়ে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা বা আবাসিক সুবিধায় বৈষম্য সৃষ্টি করা একটি প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সর্ব মিত্র চাকমার ভাষ্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ কোনো শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার বা স্বাধীনতা সংকুচিত করা নয়; বরং এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ক্যাম্পাস ২৪ ঘণ্টা সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ, প্রবেশযোগ্য ও অবাধ যাতায়াতের উপযোগী হয়।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে নারী শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন শুধু নারী শিক্ষার্থীদের নয়, সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি চারটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হলো, নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতি ও বিধিনিষেধ দ্রুত পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা, নিরাপত্তার নামে অধিকার সীমিত না করে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, এবং ক্যাম্পাসকে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপদ, বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমঅধিকারভিত্তিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্দোলনরত সব নারী শিক্ষার্থীর প্রতি তিনি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছেন এবং তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
আরটিভি/এসকে



