
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সওজ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ার কারণ জানতে চায়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম তাদের তোপের মুখে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার মৃত্যুর পর সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
ওই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সামনে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সড়কে গর্ত তৈরি হলে তা বিটুমিন দিয়ে সংস্কার, ১০ অক্টোবরের মধ্যে সড়কের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু, ১০ নভেম্বরের মধ্যে মূল সড়কে আরসিসি ঢালাই এবং সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার কথা ছিল।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর একবার গর্তগুলো বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দপদপিয়া সেতুর টোল প্লাজা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলা রোড পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর ওপর কয়েকটি বড় গর্ত দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনেও ড্রেনে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সড়কের খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে প্রায় পাঁচটি থ্রি-হুইলার উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. রাজীব বলেন, কথা ছিল ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ১০ নভেম্বরের মধ্যে আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা করার কথা। কাজের তদারকির জন্য সওজ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিনিধি দলও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কাজই হচ্ছে না। এখনো কোনো কাজের টেন্ডার করা হয়নি। তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে কাজ শুরু হবে—সেটি জানতেই আমরা এসেছি।
আরেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেছিলেন, রাস্তায় যতবার গর্ত হবে, ততবার বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হবে। কিন্তু নামমাত্র একবার সংস্কার করে সওজের লোকজন আর কোনো খোঁজ নেয়নি। রাস্তায় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কের দুরবস্থার কারণে আমরা মাইশা ও ইয়াসিন আরাফাতকে হারিয়েছি। এখন আর কত মরদেহ হলে এই রাস্তার সংস্কার হবে?
তিনি আরও বলেন, লিখিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সড়ক সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই ও সড়কের পাশে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়েই আমরা এসেছি।
এ বিষয়ে বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম— ১০ অক্টোবরের মধ্যে ফুটপাত নির্মাণ, আরসিসি রোড নির্মাণ ও সড়কে লাইটের ব্যবস্থা করা— সে বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে অতিশিগগিরই নতুন দরপত্র আহ্বান করে কাজগুলো করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু করতে পারব, তা এখনই বলতে পারছি না।
আরটিভি/এসএস


