
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই-৩৬’ আবাসিক হলের এক ছাত্রী কর্তৃক লন্ডনপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে বান্ধবীদের গোপন ছবি পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সংগঠনটির শাখা আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ও সদস্যসচিব ইফতেখার উদ্দিন মো. তামিমের যৌথ স্বাক্ষরে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঘটনাটির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বিবৃতিতে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, স্লাট-শেমিং এবং ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রচার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া; প্রতিটি আবাসিক হলে প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও গোপনীয় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; এবং ছাত্রীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও তার অনুমতি ছাড়া ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার কিংবা হয়রানির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ছাত্রশক্তি মনে করে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে তদন্তের নামে কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিচয় প্রকাশ করে তাকে নতুন করে হয়রানির শিকার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর হল প্রশাসন ও আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা করে অভিযুক্ত ছাত্রীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও তদন্ত কমিটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা আগামী ৯ আগস্ট অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রভোস্ট বরাবর লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য হলের সব আবাসিক ছাত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে।
আরটিভি/জেএমএ


