ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

১৪ বছর ধরে গুম ইবির দুই শিক্ষার্থী, অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বাবা-মা

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: আরটিভি

আওয়ামী শাসনামলে সাড়ে ১৪ বছর আগে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া ফেরার পথে গুমের শিকার হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী আল-মুকাদ্দাস ও মো. ওয়ালীউল্লাহ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থীর ফেরারও আশা করেছিল তাদের পরিবার। কিন্তু এখনও না ফেরায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা। রাষ্ট্রের কাছে সন্তানদের সন্ধান ও ঘটনার বিচার চেয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরাও।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় যান আল-মুকাদ্দাস। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ও তার বন্ধু মো. ওয়ালীউল্লাহ রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে (নম্বর-৩৭৫০) ওঠেন। বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণপুর থেকে ছেড়ে রাত ১টার দিকে সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে র‍্যাব-৪-এর একটি কালো গাড়ি বাসটির গতিরোধ করে। র‍্যাবের পোশাক পরিহিত ৮-১০ জন এবং সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি বাসে উঠে র‍্যাব ও ডিবি পরিচয়ে মুকাদ্দাস ও ওয়ালীউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ৬ ফেব্রুয়ারি মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই রাজধানীর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওয়ালীউল্লাহর নিখোঁজের ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি তার বড় ভাই খালেদ সাইফুল্লাহ আশুলিয়া থানায় জিডি করেন। পরে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর পরিবার পুলিশ, র‍্যাবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে যোগাযোগ করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট পিটিশন করেন। পরবর্তীতে রিট দুটিও খারিজ হয়ে যায়।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আল-মুকাদ্দাস ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তার বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামে। বাবা মাওলানা আবদুল হালিম ও মা আয়শা সিদ্দিকার তিন সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন তিনি। তার একমাত্র বোন তাজরিয়ান এবং ছোট ভাই মুকাররম হোসাইন জারি।

অন্যদিকে, মো. ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন ইবির দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম শৌলজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন সাত ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আল-মুকাদ্দাস ও মো. ওয়ালীউল্লাহর নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হান্নানকে আহ্বায়ক এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক অন্যান্য সদস্যের অসহযোগিতায় পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি পুনর্গঠন বা নতুন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম থমকে গেছে।

মো. ওয়ালীউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, এসব নিয়ে কথা বলতে বলতে আর লিখতে লিখতে আমরা ক্লান্ত। সরকারের কাছে প্রত্যাশা করলেও তো কিছু পাব না। আপনার কী মনে হয়, সরকার আসলে এসব ঘটনার বিচার করতে পারবে? এই ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত। সেখানে যারা এখনো কর্মরত, তারা কি তাদেরই বিচার করবে?

আল-মুকাদ্দাসের ছোট ভাই মুকাররম হোসাইন জারির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করলেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। গুম কমিশন বা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়নি। এ বিষয়ে ছাত্রশিবির গুম কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের পরামর্শে আশুলিয়া একটি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছি। সেটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে এ বিষয়ে আর তেমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

দুই পরিবারের বাবা-মা এখনও অপেক্ষায় আছেন। সন্তান জীবিত না মারা গেছে, তাও নিশ্চিত নন পরিবার।

আরও পড়ুন

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, দুইজনের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তাদেরকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনা সরকার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নীতিভ্রষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই দুই মেধাবী ছাত্রনেতাকে গুম করে।

তিনি আরও বলেন, আজ বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশে দাঁড়িয়েও আমরা আমাদের এই প্রিয় ভাইদের কোনো সন্ধান পাইনি। এটি শুধু রাষ্ট্রের নয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও চরম ব্যর্থতা ও উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা এই বর্বরোচিত গুমের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনো স্বপদে বহাল আছেন, যা শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে এক চরম নির্লজ্জতা ও তামাশার শামিল। আজও মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ভাইয়ের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মা পথ চেয়ে বসে আছেন—মৃত্যুর আগে অন্তত একবার হলেও আদরের সন্তানের মুখটি দেখার আশায়।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি হিসেবে একদিনের জন্য প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শীতল। 
ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্বে এইচএসসি পড়ুয়া শীতল 
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
দেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের দীর্ঘ পদযাত্রা ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা অতিক্রম করে রোববার (১১ অক্টোবর) দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ তারা হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এসে পৌঁছান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে দেশের সর্বোত্তরের স্থান বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে আমরা আমাদের এই ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পদযাত্রা শুরু করেছি। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের কাছে আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে, বিচারের দাবিতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয় ১. আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা। ২. গণভোটে জনগণের দেওয়া ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রায় বাস্তবায়ন করা। ৩. জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তরুণেরা সব রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। সমাবেশ শেষে শহীদ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত এবং আন্দোলনকারীদের সুস্থতা ও নিরবচ্ছিন্ন পদযাত্রার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাবের জানান, ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য জনসমর্থন তৈরি করে সরকারকে সহযোগিতা করা। তবে এ বিষয়ে কোনো টালবাহানা বা চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো চক্রান্ত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের আরও জানান, দিনাজপুরের কর্মসূচি শেষ করে টেকনাফ অভিমুখে তাদের দীর্ঘ পদযাত্রা অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
চুয়েটে রুটিন উপাচার্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এ নিয়ে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বলেন, আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ১২ কার্যদিবসে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিকল্প উপাচার্য হিসেবে কাউকে তারা দেখছেন না। তাকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হয়, সে বিষয়েও তারা জোরালো অবস্থান জানাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষকদের একটি মৌন মিছিল উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জানায়, সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা এবং অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্তটিকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে দূর থেকে তথাকথিত ‘অনলাইন ভিসি’ উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাঁকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেননি, তার দেওয়া কোনো রুটিন দায়িত্ব কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম জানান, অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হতো। কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। তবে এবার তারা এ ধরনের কোনো অফিস আদেশ পাননি। ফলে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক আরাফাত রহমানের উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার খবর দেখেছেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শরিফুল ইসলামকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যোগ দেন। ফলে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আরটিভি/টিআর
চুয়েটে রুটিন উপাচার্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা
জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল
হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার ২০২৬–২৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ সদস্যের এই কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুহার আলমাস লাবিব। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাকেরুল ইসলাম এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের নুরে হাসানা ও আসাদুল্লাহ ওয়াকিফ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের নিলাঞ্জলা হালদার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আইন বিভাগের মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের মিনহাজুর রহমান। এ ছাড়া কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হাসিব সরদার, যুগ্ম কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. ফারহান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নুসরাত আফিন নাফিয়া এবং ডকুমেন্টেশন সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মো. সাবিক। সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সুজন প্রামাণিক। অন্যান্য পদে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম রিয়ন, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের খাদিজা আক্তার ঈশিতা এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. সিদ্দিকুর রহমান সায়েদ। আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. লিমন মিয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শরীফ উদ্দিন সিয়াম। যুগ্ম আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রাফিয়া রাইহানা রিশা। গবেষণা ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. মাহমুদুর রহমান এবং তথ্য অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পাদক হয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের মো. মানিক চৌধুরী। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন দর্শন বিভাগের ফাহিমা আক্তার, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শাজিয়া খান, অর্থনীতি বিভাগের অন্তরা আক্তার নদী এবং বাংলা বিভাগের বিন ইয়ামিন। নবনিযুক্ত সভাপতি জুহার আলমাস লাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে তাঁরা কাজ করবেন। পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অধিকারবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করে তুলতে সবার সহযোগিতায় এইচআরডিএসকে মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। আরটিভি/টিআর
জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল
আরও পড়ুন
ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ইবির ৩৬ শিক্ষার্থী
প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই: ইবি উপাচার্য
ইবিতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’
ইবিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত