
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শুরু হয়েছে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬-২৭ আসর। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি বিভাগ অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে শারীরিক শিক্ষা বিভাগ।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অর্থনীতি বিভাগ ও ফার্মেসি বিভাগের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে এবারের আসরের উদ্বোধন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মহিউদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন, শিক্ষকবৃন্দ, খেলোয়াড় এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ম্যাচের খেলায় নির্ধারিত ৫০ মিনিট সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। পরবর্তীতে টাইব্রেকারের মাধ্যমে ৪–৩ গোলে ফার্মেসি বিভাগকে হারিয়ে জয়লাভ করে অর্থনীতি বিভাগ।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ফুটবলের মাধ্যমে টিমওয়ার্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়। এবার আমাদের ১৯টি দল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে খেলাধুলা করবে। খেলবে ১৯ দল, কিন্তু জিতবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
খেলোয়াড়দের মাঠের নিয়ম-কানুন ও রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দর্শকদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ না হয়ে খেলা উপভোগ করার অনুরোধ করেন। খেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও নিরপেক্ষতা ও সহনশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, আন্তঃবিভাগীয় এই প্রতিযোগিতাকে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখতে হবে। যে বিভাগই জয়ী হোক, জয়ী হবে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি দল। তাই খেলাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক না হয়ে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, খেলাধুলার মাঠে কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ফাউল বা বিতর্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রেফারি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করবেন। খেলোয়াড় ও দর্শকদের কারও গায়ে হাত না তোলার জন্যও তিনি কঠোরভাবে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি শিক্ষার্থী ও বিভাগগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের আনন্দ, শারীরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক বন্ধন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই প্রতিযোগিতাকে সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশে এগিয়ে নিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে জয়-পরাজয়ের কারণে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি খেলাটিকে বিনোদনমূলক ও উপভোগ্য করে তোলার আহ্বান জানান এবং পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন।
তিনি জানান, প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও পেশাদার রেফারিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্ত পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলায় মারমারির দায়ে টুর্নামেন্ট থেকে বহিস্কৃত হয়ে এবার খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি মার্কেটিং বিভাগ।
আরটিভি/এসআর


