
রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ভিডিওতে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে রবীন্দ্রসংগীত উপস্থাপন করেছেন। এর প্রতিবাদে রাকসু ভবনে পোস্টার সাঁটিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘স্বাধীনতা তুমি রবি ঠাকুরের অজর কবিতা অবিনাশী গান।’
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে তারা এ পোস্টার সাঁটান।
এর আগে রোববার রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে লেখেন, ‘রবীন্দ্রনাথ হওয়া এতো সোজা না! ৪৩টা পতিতালয় চালাইয়া, কাস্টমার রিভিউ ঠিক রেখে আবার সাহিত্যসাধনা করা চাট্টেখানি কথা না।’ এ ছাড়া রবীন্দ্রসংগীত ব্যঙ্গ করে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। তবে তার দাবি, এগুলো ‘প্যারোডি’।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের অবমাননার প্রতিবাদে রাকসু ভবনে ছবিসহ পোস্টার সাঁটান শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে এমন আপত্তিকর বক্তব্য আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও চেতনার প্রতি অসম্মান। আমার মনে হয়, এ ধরনের বিদ্বেষের পেছনে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের সংকট কাজ করে। যারা বাংলাদেশের জন্ম ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরোধিতা করেছে, তাদের মধ্যেই এই সংকটের প্রতিফলন দেখা যায়।
পোস্টার সাঁটানোর কারণ হিসেবে কাফি বলেন, রাকসু নির্বাচনে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে বলেছিলাম, ‘রবীন্দ্রনাথকে হারাতে দেব না।’ এই বক্তব্যে তিন হাজারের বেশি ভোট পেয়েছি। সেই ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও একজন বাঙালি-বাংলাদেশি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অসম্মানের প্রতিবাদে এই নীরব অবস্থান।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমি রবীন্দ্রসংগীত পারি, তাই পোস্ট করেছি। রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করব কেন? আমরা যখন থিয়েটার করতাম, তখন নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীতসহ বিভিন্ন গান নিয়ে প্যারোডি করতাম।
আরটিভি/এমএম


