
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) জুলাই-৬ হল ও গণতন্ত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে ওঠার এক বছর সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পাননি হলের পরিচয়পত্র। পরিচয়পত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও তা সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এদিকে অনেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অনেক আগেই শেষ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে জুলাই-৬ হলে বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের কক্ষে ওঠার অনুমতি দেয় হল প্রশাসন। একই বছরের ডিসেম্বর থেকে গণতন্ত্র হলে বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে জুলাই-৬ হলে শিক্ষার্থীদের ওঠার এক বছর এবং গণতন্ত্র হলে ওঠার প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি হলের পরিচয়পত্র।
এদিকে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জুলাই-৬ ও গণতন্ত্র হলের আবাসিক কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করলেও হলের পরিচয়পত্র পাননি। ফলে পরিচয়পত্র ছাড়াই তাদের আবাসিক হলের জীবন শেষ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পরিচয়পত্রের জন্য তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত অর্থ নেওয়া হলেও সময়মতো পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। একজন আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে হলে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, অভিযোগ, আবেদন কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া হলের পরিচয় পত্র থাকলে একজন শিক্ষার্থীকে সহজে শনাক্ত করা যায়। বহিরাগত প্রবেশ করলে ও তা শনাক্ত করা যাবে। এতে হলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কম ঘটবে।
জুলাই-৬ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, জুলাই-৬ হলে ওঠার এক বছর হয়ে গেলেও আমাদের এখনো হল কার্ড দেওয়া হয়নি। হলে আবাসন নিশ্চিত করার সময় হল কার্ড দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও হল প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এর ফলে কোনো অভিযোগ, আবেদন, প্রশাসনিক কাজ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে আমরা অসুবিধায় পড়ছি।
গণতন্ত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ঐশী আক্তার বলেন, হল চালু হওয়ার প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও আমরা এখনো আইডি কার্ড পাইনি। অথচ জুলাই ৬ ছেলেদের হলের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেওয়ার কথা শুনেছি অথচ মেয়েদের দেওয়ার কোন খোঁজ আমরা পাইনি। ফলে পরিচয় নিশ্চিত করা, হলের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও এমন বৈষম্য কাম্য নয়। তাই দ্রুত মেয়েদের হলের শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জুলাই-৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, আইডি কার্ডের কাজ চলছে, দেওয়া হবে। আমার খেয়াল ছিল না। আমি মনে করেছিলাম, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দেওয়া হবে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, হল থেকেই দিতে হবে। আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। দ্রুত দিয়ে দেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম



