ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে চাই: রুয়েট উপাচার্য

রুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর উত্তরবঙ্গের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক সংকট কাটানো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণার সক্ষমতা, শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং একাডেমিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগোচ্ছে সবুজ বৃক্ষরাজি ঘেরা ১৫২ একরের এই প্রতিষ্ঠানটি।

১৯৯৯ সালে এই রুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। এরপর একাধারে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সবশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

সম্প্রতি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির রুয়েট সংবাদদাতা তৌফিক আহমেদ। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১ বছর ১১ মাসে রুয়েটের সংকট, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার নানামুখী দিক। এ সময় শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে রুয়েটে একটি শিক্ষাবান্ধব ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্যকরী ওয়ার্ক টিম, অবকাঠামোগত স্থবিরতা, চলমান প্রকল্পে অর্থসংক্রান্ত জটিলতাসহ বেশ কিছু বিষয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, বিগত প্রশাসনে রুয়েটের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না হওয়ায় ২০১৭-২০২৪ সালে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত যায়। এ কারণে প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে এ অর্থ ছাড়ের জন্য প্রকল্প সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ গুলো দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাজ পরিচালনায় ক্রিয়াশীল ওয়ার্ক টিম তৈরি করা প্রধান চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে। কাজের পরিধির সঙ্গে সেটাও অনেকটাই গঠন করা গেছে।

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, রুয়েটে শিক্ষক সংকট আছে এটা সত্য। তবে, আমার দায়িত্ব গ্রহণের সময় শিক্ষক ছিলেন ৩০০ জনের মতো। গত দেড় বছরে তিন ধাপে ১২০ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৪৩০-এর বেশি। বুয়েট ও কুয়েটের তুলনায় শিক্ষক এখনও কম থাকলেও ধারাবাহিকভাবে এ ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে।

আবাসন ও অবকাঠামোগত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রুয়েটে চলমান প্রকল্পের কাজ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নতুন ৪টি হল নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু করা সম্ভব হয়েছে। এরই মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বর্তমান প্রশাসন। লিফটসহ কিছু সাময়িক সমস্যা আছে, প্রকল্প শেষ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।

গবেষণা ও উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে রুয়েটের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন উপাচার্য। তিনি জানান, সীমিত বাজেটের মাঝেও গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে শিক্ষক ও গবেষকদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যার অর্থে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রুয়েটকে শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ল্যাব ও শ্রেণিকক্ষের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে চাই।

ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তা ধরে রাখা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। র‌্যাঙ্কিংয়ের এসব সূচকে উন্নতির সাথে একাডেমিক সুনাম ও আমাদের ভবিষ্যত প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের কোডিং ব্যবস্থার দাবির প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলমান রয়েছে। কোথাও সমস্যা থাকলে ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধান করা হবে।

উপাচার্য বলেন, এখনকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় খাতা দেখা, প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনে একাধিক পর্যায়ের শিক্ষক যুক্ত থাকেন। একটি কোর্সে একজন শিক্ষক এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার খাতা পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। তাই কোনো শিক্ষার্থী প্রাপ্য নম্বরের চেয়ে কম পেয়েছে মনে হলে তা দেখার সুযোগ পাবে। ফলে নির্ধারিত কারো খাতা অবমূল্যায়নের সুযোগ অনেকাংশেই নেই।

একইসঙ্গে বিগত প্রশাসনে একাডেমিক অস্থিরতা ও সেশনজটের যে বিষয় গুলো ছিল, সেখানে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, একাডেমিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মতামতকে আমরা প্রাধান্য দিতে চাই। একটি শিক্ষাবান্ধব ও সুস্থ পরিবেশ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিজের কথা বলতে পারবে এবং মতের পার্থক্য থাকলেও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় থাকবে।

তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে তা প্রকাশ্যে বা গোপনে—উভয়ভাবেই নিষিদ্ধ। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা গোয়েন্দা সংস্থা নয়; তাই কোনো কার্যক্রম গোপনে হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতেও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি না চাইলে প্রশাসন তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে।

এ সময় সরকারের কাছে শিক্ষাখাতে দেশের বাজেট বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটা দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে রাখা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। আশার কথা বর্তমান সরকার আগের তুলনায় বাজেট বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। বর্তমান অর্থমন্ত্রীও আগামী বছর সেটা ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং সেটা ৫ শতাংশে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটা সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া। একইসঙ্গে রুয়েটের চলমান প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বাজেট দ্রুত পাওয়া এখন সময়ের দাবি।

সব মিলিয়ে সংকট ও ঘাটতি কাটিয়ে গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রমে অগ্রগতি ও শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশে রুয়েটকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক ও তার প্রশাসন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। কোথাও ছোট-বড় খানাখন্দ, কোথাও ভাঙা সড়কে জমে আছে পানি। আবার পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জায়গায় সড়কের ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে পানি। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পথচারী ও যানবাহনচালকেরা। প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে বিভিন্ন সড়কে সাময়িক সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান আনতে পারছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সংযোগ সড়কের অবস্থাও নাজুক। প্রায় ২০টি স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। একই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোরও। জিরো পয়েন্ট থেকে ২ নম্বর গেট এবং সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় থেকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলের সামনের সড়কে রয়েছে বড় একটি ভাঙা অংশ, যেখানে প্রায় সব সময় পানি জমে থাকে। সড়কের ওপর দিয়েই পানি প্রবাহিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়েই নিয়মিত পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হলো ২ নম্বর গেট থেকে সোহরাওয়ার্দী হল পর্যন্ত রাস্তাটি। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল ও বেশ কয়েকটি আবাসিক হল রয়েছে। এ ছাড়া ২ নম্বর গেটের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ রাস্তা দিয়ে ক্লাসে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এখানে প্রায় সব সময় পানি জমে থাকে। বৃষ্টি হোক বা না হোক, সড়কে পানি দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের সড়কগুলো যেন দ্রুত মেরামত করা হয়। অটোরিকশাচালক সুমন বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে আমাদের যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাস্তার ভাঙা অংশ ও গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছি। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত রাস্তাটি ঠিক করে দিক। ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক নিয়েও একই অভিযোগ চালকদের। এ সড়কে চলাচলকারী এক সিএনজিচালক বলেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। প্রতিমুহূর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে আমাদের গাড়ি চালাতে হয়। আমাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি মেরামত করা হোক। এদিকে, সড়কগুলোর দুরবস্থার বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান আরটিভি নিউজকে বলেন, জিরো পয়েন্ট থেকে ২ নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কের কাজ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। আমরা বর্ষাকাল চলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। বর্ষা শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, প্রথমে চলাচলের উপযোগী করার জন্য রাস্তা মেরামত করা হবে। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি রাস্তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করছি, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এসব রাস্তার মেরামতকাজ শুরু হবে। আরটিভি/টিআর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদ
সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক বৈষম্য বন্ধের দাবি জকসুর
সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক বৈষম্য বন্ধের দাবি জকসুর
সাপের ছোবলে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর কালাচ সাপের ছোবলে এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সাপের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘প্রশাসন কী করে, আমার ভাইকে সাপে কাটে’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না, মানব না’, ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার ভাইকে সাপে কাটে, প্রভোস্ট কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আশিক বলেন, আমাদের তিনটি যৌক্তিক দাবি ছিল। প্রথমত, আমাদের হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ড্রেনগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সংস্কার করা। আমাদের হলটি সীমানার দিকে হওয়ায় এখানে জঙ্গলের পরিমাণ বেশি। হলে একটি ইলেকট্রিক মেশিন দিয়ে নিয়মিত জঙ্গল পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমাদের হলটি অনেক পুরোনো, সে ক্ষেত্রে হলের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। এ বিবেচনায় আমাদের দাবি ছিল স্নেকনেট লাগানো। এই তিনটি দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মানববন্ধন থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘেরাও করেছি। এ সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, যে হল প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যাকে ইগনোর করেন, সেই প্রভোস্টকে বলতে চাই, শিক্ষার্থীরা সাপে কাটার ভয় নিয়ে হলে অবস্থান করতে পারেন, আর আপনি কেন সেই সাপের ভয় পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না? তিনি আরও বলেন, এর আগেও মশারির ওপর এই বিষধর কালাচ সাপ পাওয়া গেছে। এখন সাপ ঢুকে শিক্ষার্থীদের কামড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বারবার বলার পরও হল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। এর আগে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শামসুজ্জোহা হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামের পায়ে কালাচ সাপ কামড় দেয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে পাঠান। আরটিভি/টিআর
সাপের ছোবলে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ
নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে কলেজ ক্যাম্পাসে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শাখাভিত্তিকভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তাদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের শখ, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথাও শোনা হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এইচ. এম. হাসান জাকির নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। তিনি এ. পি. জে. আবদুল কালামের ‘মানুষ যেটা ঘুমিয়ে দেখে, সেটা স্বপ্ন নয়; মানুষ যেটা জেগে দেখে, সেটাই স্বপ্ন’—এই বক্তব্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নে নিয়মিত পড়াশোনা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সময় ভাগ করে কীভাবে পড়াশোনা করতে হবে, সে বিষয়েও বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের একে একে তাদের শখ ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা শোনেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কেউ অ্যাডভোকেট, কেউ পাইলট, কেউ নার্স, কেউ সমাজসেবক, আবার কেউ ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্নের কথা জানায়। এক শিক্ষার্থী জানান, পড়াশোনা শেষ করে তিনি অ্যাডভোকেট হতে চান এবং তার শখ বই পড়া। অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তার শখ ভ্রমণ করা। ইংরেজি বিভাগের লেকচারার মো. ইমদাদুল হক নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুমানা পারভিন নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামসুন্নাহার নবীন শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা ও সিটি পরীক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কলেজের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান ও মানসম্মত পাঠদান করবেন বলে জানান তিনি। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরিদা ইয়াছমিন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, তোমরা এই কলেজে ভর্তি হয়ে আমাদের ধন্য করেছ। এখন ভালো ফলাফল করে তোমরাই নিজেদের ধন্য করবে। তিনি বলেন, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর এ কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। একসময় বোর্ড, বুয়েট, মেডিকেল ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে উল্লেখ করে তিনি সেই সুনাম পুনরুদ্ধারে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কলেজের নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেন। কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তছমিনা বেগম চৌধুরী নবীন শিক্ষার্থীদের বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, তোমরা আজ থেকে এই কলেজের শিক্ষার্থী। উচ্চমাধ্যমিকের সময়টা খুবই সামান্য। চোখের পলকে সময় চলে যাবে। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কলেজের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা ও সুস্থ থাকার পরামর্শ দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। অন্য এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, আমার পরিবার হয়তো আমাকে এত দূর পড়তে দিতে চাইত না। কিন্তু এখানে পড়ার ইচ্ছা ছিল, তাই ভর্তি হয়েছি। নবীন শিক্ষার্থী ফারহানা আখি বলেন, আজকের দিনটা খুবই ভালো কেটেছে। নতুন অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদের কথাগুলো ভালো লেগেছে। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাগুলো শুনে একটু ভয়ও লাগছে—এখানে মানিয়ে নিতে পারব তো? অনেক আশা নিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছি। খুব আনন্দ লাগছে। একজন অভিভাবক বলেন, মেয়ের স্বপ্ন ছিল এই কলেজে পড়া। আলহামদুলিল্লাহ, তাকে এখানে ভর্তি করাতে পেরেছি। আশা করছি, সে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে ভালো ফলাফল করবে এবং ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। নবীনদের প্রাণচাঞ্চল্যে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আরটিভি/টিআর
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন: শাটডাউনে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন: শাটডাউনে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে
আরও পড়ুন
সাপের ছোবলে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন: শাটডাউনে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে
সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন রুয়েটের রাফিদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল ইসলাম