ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা শাটডাউন চলছে চুয়েটে

চুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
টানা ১০ দিন ধরে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে চুয়েটে। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ শ্রেণিকক্ষ, নীরব বারান্দা, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে শিক্ষার্থীদের চেনা আনাগোনা নেই। নিয়মিত পাঠদান ছেড়ে শিক্ষকরা অবস্থান করছেন তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে। উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১০ দিন ধরে শাটডাউনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) যেন হারিয়েছে তার চিরচেনা ব্যস্ততা; একাডেমিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় কোনো অভিযোগ বা কারণ উল্লেখ ছাড়াই চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানির পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। সেদিন রাতেই আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন।

এদিকে অধ্যাপক সায়েমকে অব্যাহতির কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল না এবং এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আগে থেকে তিনি কিছু জানতেন না বলে গণমাধ্যমকে জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে পুনর্বহালের দাবিতে বিবৃতি দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধ্যাপক সায়েম স্যার ২০০৫ সালে চুয়েটে শিক্ষকতা শুরুর পর থেকে দীর্ঘ এই সময়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তার প্রচেষ্টায় নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। চুয়েটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্লাব ফেস্ট আয়োজনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি ‘ডিফেন্স অ্যানালাইসিস ও উইং’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক চাকরির ক্ষেত্র তৈরির প্রচেষ্টাও চলছিল।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ মাহমুদ বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো দাবি নিয়ে গেলে সায়েম স্যার তা শুনতেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতেন। স্যারের প্রতি শিক্ষার্থীদের এই ভালোবাসা ও স্যারকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের এই আন্দোলনের একমাত্র কারণ স্যারের শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে চাপে আছি, শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, বর্তমান সরকারের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এ চলমান সমস্যার সমাধান করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি রক্ষা করা।

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মো. ইকরাম বলেন, একটা দেশের উন্নয়ন তো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে; এগুলোর অনেকটা অংশ নির্ভর করে একজন উপাচার্যের ওপর, একজন উপাচার্যের সততার ওপর। অন্যান্য জায়গায় উপাচার্য অপসারণের জন্য আন্দোলন হয়, কিন্তু এখানে উপাচার্য পুনর্বহাল রাখার জন্য আন্দোলন হচ্ছে। এটাই বোঝায় যে উপাচার্য অপসারণের আন্দোলন যে যে কারণে হয়, তার কোনো কারণ সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সায়েমের মধ্যে নেই।

উল্লেখ্য, চুয়েট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নরওয়ের মতো বিভিন্ন দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩ জন অধ্যাপক চিঠি দিয়ে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন।

দেড় মাসের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তন ও উদ্ভূত পরিস্থিতির নেপথ্যে কারা?

চুয়েটে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি বলেন, সরকারের একটা সিদ্ধান্তকে সামনে এনে যে আন্দোলন চলছে, এটা একটা অযৌক্তিক আন্দোলন। একজন শিক্ষার্থী কখনো ঠিক করতে পারে না, ভিসি কে হবেন। ভিসি পরিবর্তনের মতো একটা ইস্যু সামনে এনে এটা মূলত বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার একটা অপচেষ্টা। এই আন্দোলনের সাথে সাবেক ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরপন্থী লোকজনের সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি মনে করি।

চুয়েট ছাত্রদল সভাপতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চুয়েট ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির ৯ জনের ৪ জন নেতারই পূর্বে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারা হলেন, চুয়েট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হাসান তন্ময়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন সজল ও আবু সুফিয়ান আল সাবিত।

অনুসন্ধানে চুয়েট ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। চুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মুন্নার ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দেখা যায় ২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ছাত্রলীগের ব্যানারে শহিদ মিনারে ফুল দেন বিপ্লব, সজল ও সাবিত। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামক একটি পেইজ থেকে। উক্ত ভিডিওর মিছিলে এবং কেক কাটা কর্মসূচীতে উপস্থিতি দেখা যায় বর্তমান চুয়েট ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল ও সাবিতের।

একই পোস্টের কমেন্টে বিপ্লব ও সজল লিখেন, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। ৯ নভেম্বর ২০২৩ চুয়েট ছাত্রলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম মুন্নার ফেসবুক পোস্টে ‘বিএনপি-জামায়াত রাজাকার, এই মূহুর্তে বাংলা ছাড়’ স্লোগানের একটি মিছিলের ভিডিওতেও কমেন্ট করতে দেখা যায় চুয়েট ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হাসানকে। এছাড়া ৩১ জুলাই ২০২৪ পুরো দেশ যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল, তখনো নিজের ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাষণ শেয়ার করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি থেকে চুয়েট ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হোসাইনের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছবিতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে চুয়েট ছাত্রলীগের পক্ষে ফুল দিয়ে বরণ করতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে আওয়ামীলীগের রাউজান-৬ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর সাথে চুয়েট ছাত্রলীগের সাক্ষাতের একটি ছবিতেও তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

চুয়েটের ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে চুয়েটে তারেক রহমানের কুশপুত্তলি দাহন করা ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে তাকে দেখা যায়। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর সমালোচনা হয়।

শিক্ষার্থীরা শঙ্কা প্রকাশ করেন যে উপাচার্য অপসারণ করার মাধ্যমে চুয়েটের মত শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে চুয়েট ছাত্রদলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ জানান, উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সরকারের উপরমহল থেকে নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ছাত্রদল কিংবা আমরা যারা ছাত্র আছি, এই বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকার প্রশ্নই আসে না। কারণ আমরা শিক্ষার্থী আর আমাদের কাজই হচ্ছে পড়াশোনা করা। উপাচার্য পরিবর্তনে ছাত্রদলের ভূমিকা রয়েছে, এমন অভিযোগ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৬তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট চুয়েট প্রশাসন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও ২০২৫ সালের ১০ জুলাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি খসড়া কমিটি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচি

২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) অধ্যাপক সায়েমকে অব্যাহতি প্রদান ও নতুন উপাচার্যের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই চুয়েট শিক্ষার্থীরা অত্র ক্যাম্পাসে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন। পরের দিন ২২ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটির দিন থাকলেও নতুন উপাচার্যের প্রবেশ রুখতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে সকাল থেকে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। ২৩ সেপ্টেম্বর একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করেন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করে চুয়েট শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠ করে তাঁদের এক দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ছাড়া একই দিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্র শিক্ষার্থী মিলে এক মশাল মিছিলের আয়োজন করেন।

ইতোমধ্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে যোগদান করলে ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে ‘রেড কার্ড’ কর্মসূচি পালন করেন।

এছাড়া সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকাল ফুটিয়ে তুলতে ‘৫৬’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা, পথনাট্য, শ্বেত শাড়িতে গণস্বাক্ষর ও অধ্যাপক সায়েমের ছবিসংবলিত ‘মুখোশ মিছিল’ পালন করেন তাঁরা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা জানান, এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ভ্রুক্ষেপ কিংবা যোগাযোগ করা হয়নি। এরই প্রতিবাদে কমপ্লিট শাটডাউনের নবম দিনে আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে অংশ নেন, যা প্রশাসনের নীরবতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন তারা।

এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, আমরা প্রায় নয় দিন ধরে চুয়েটে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখছি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কিংবা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এর প্রতিবাদে আজ দুপুরে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রশাসনের এই নীরবতার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

যোগদানের পর এখনও সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হননি নবনিযুক্ত উপাচার্যের

প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তবে, এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে না এসেই ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) যোগদান করেন নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। প্রজ্ঞাপন জারির নয় দিন পেরোলেও এ পর্যন্ত সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হননি তিনি। নতুন উপাচার্যের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

যোগদানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার শেখ মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে এসেই উপাচার্যকে যোগদান করতে হয়। পাশাপাশি নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হয়।

চুয়েটের নতুন উপাচার্যের অতীত দায়িত্ব ঘিরে প্রশ্ন

চুয়েটের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়টিরই সাবেক শিক্ষার্থী। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশলে স্নাতক শেষে ইতালিতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন করে কুয়েটে শিক্ষকতা করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি কুয়েটের সহ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। তবে দায়িত্ব নেওয়ার ৪ মাস ২১ দিনের মাথায় ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল আন্দোলনের মুখে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ক্যাম্পাসে আন্দোলন ও অচলাবস্থা শুরু হয়। ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ ও সহ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কমপ্লিট শাটিডাউনে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ

এদিকে, চলমান আন্দোলনের কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম। আন্দোলনকারীদের মধ্যেও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং পড়াশোনার ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছয়টি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, পূর্বেও সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি আমরা পুষিয়ে নিয়েছি। যেমন ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের দুটি ব্যাচ আমরা একসঙ্গে চালিয়েছি। বর্তমানে সংকটটি এতটা দীর্ঘমেয়াদি নয়। আমাদের আশা ছিল, ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ বছরই পাস করে বিদায় নেবে। তবে সংকটময় পরিস্থিতির কারণে হয়তো তারা আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে পাস করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট। কোভিড-পরবর্তী সময়েও আমরা শুক্র ও শনিবার ক্লাস নিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরোলেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন
প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) এখনও গড়ে ওঠেনি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। 
প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরোলেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন
ক্যানসার, দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড: চার মাসে ৫ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীকে হারালো মাভাবিপ্রবি
ক্যানসার, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া ও সড়ক দুর্ঘটনায় চার মাসে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) চার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। 
ক্যানসার, দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড: চার মাসে ৫ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীকে হারালো মাভাবিপ্রবি
ক্যানসারে আক্রান্ত ডেন্টাল ছাত্রীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আহ্বান রামেক অধ্যক্ষের
ক্যানসারে আক্রান্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থী ডা. নূর ফাতেমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রশাসন।
ক্যানসারে আক্রান্ত ডেন্টাল ছাত্রীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আহ্বান রামেক অধ্যক্ষের
১৮তম বার দ্রুততম মানবী যবিপ্রবির শিরিন আক্তার
কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ মহিলাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়ে ১৮তম বারের মতো দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শিরিন আক্তার। 
১৮তম বার দ্রুততম মানবী যবিপ্রবির শিরিন আক্তার
ঢাবিতে প্রতি শনিবার ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং ডে’ পালন করবে ছাত্রদল
ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি শনিবার ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। চলমান দুর্গাপূজার ছুটি শেষে এ কর্মসূচি শুরু হবে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘Green & Clean Campus First’ এবং ‘পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস করি, প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ি’ এ দুটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাবি ছাত্রদলের হল শাখাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ লক্ষ্য হলো দেশে সবুজায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এ কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজ পরিবার থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের সহপাঠী ও পরিচিতজনসহ সবার মধ্যে সবুজায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। আরটিভি/এসকে
ঢাবিতে প্রতি শনিবার ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং ডে’ পালন করবে ছাত্রদল
আরও পড়ুন
তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে: ডিআইইউ উপাচার্য
হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি চুয়েট শিক্ষার্থীদের
মুখ খুললেন চুয়েট উপাচার্য