ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

চুয়েটে রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ গ্রহণ করলেন উপাচার্য

চুয়েট সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
চুয়েটে রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ গ্রহণ করলেন উপাচার্য। ছবি: চুয়েট সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদ থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীরকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

উক্ত কর্মকর্তা ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নিজ দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পরবর্তীতে, এবছর গত ১ সেপ্টেম্বর উক্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির জন্য পদত্যাগপত্র দাখিল করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার আমাকে জানান, তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এ ব্যাপারে অধ্যাপক শেখ হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি আগের উপাচার্যের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ দিয়েছিলাম। অধ্যাপক শরীফুল আলমের কাছে জমা দিই নি। তাই পদত্যাগ পত্রটি আগের উপাচার্য গ্রহণ করলেই ভালো হতো। আর গতানুগতিক উপায়ে অব্যাহতিও দেন নি। পদত্যাগ জমা দিলে সেটা একটা নথি হয়ে আসে। সেই নথিতে উপাচার্য অনুমোদন দেন।

‘তারপর অন্য একজনের মাধ্যমে অফিস আদেশ করেন। কিন্তু এরকম কিছু হয় নি। আমাকে শুধু একটি মেইল দিয়েছেন। তবে কোনো স্মারক নম্বর নেই। আর উনি আমাকে মেইলে বলেছেন 'আপনাকে' অব্যহতি দেওয়া হলো। এখানে আমার নামও নেই। এগুলো কোনোটাই নিয়মের মধ্য থেকে হয় নি। তবু, আমি আসলেই ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলাম।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে ৩৬ দিন শাটডাউনের পর একাডেমিক কার্যক্রমের স্বার্থে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাসে ফিরলেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
‎
আরটিভি/এসআর


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।  শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।  র‌্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্বর ঘুরে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, দপ্তর, আবাসিক হল, ইনস্টিটিউটটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক এবং ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। আলোচনা সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, আবাসিক হলের প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ৭ নভেম্বরের চেতনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।  তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান-এঁর মুক্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে এ দিনটি বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করে।  বেরোবি উপাচার্য আরও বলেন, দেশের যেকোনো সংকট ও পরিবর্তনের সময়ে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বেরোবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর সদস্য সচিব মোঃ মাসুদ রানার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. তানজিউল ইসলাম, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার গোলাম মোস্তফা, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স এর প্রিন্সিপ্যাল রিসার্চ অফিসার ড. মো. রোকনুজ্জামান, বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন, সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার।  আলোচনা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটি-২০২৬ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আরটিভি/এসআর  
যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
‘সিপাহি-জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অনন্য’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের প্রাধাক্ষ ড. মো: ছামিউল ইসলাম সরকার বলেছেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেভাবে দিশেহারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, ঠিক তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার সংহতির মধ্য দিয়ে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতা থেকে রক্ষা করে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সিপাহি- জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অপরিসীম ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।  শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।  অধ্যাপক ছামিউল বলেন, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য, ভাষাগত পার্থক্য এবং ভৌগোলিক দূরত্বের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা অর্জন করলেও, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে দেশ নানা সংকটে নিপতিত হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৪-৭৫ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় শাসনব্যবস্থা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে চরম অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটতে থাকে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সংঘটিত এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দি হন। সেই চরম ক্রান্তিকালে দেশ যখন নেতৃত্বশূন্যতা ও অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সর্বপ্রথম দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ শুরু করেন। অধ্যাপক ছামিউল সরকার বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন এবং সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি সকল দল ও মতের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করেছিলেন। অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এবং দেশের খাদ্য সংকট নিরসনে তিনি কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন, যা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বর্হিবশ্বে শহিদ জিয়াউর রহমানের কৃতিত্ব বর্ণনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে তিনি ভারসাম্যমূলক ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। মুসলিম বিশ্ব ও বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সৌদি আরব, চীন, ইউরোপ এবং আমেরিকা সফর করেন এবং বাংলাদেশের সাথে তাদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ একজন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া আদর্শ ও দর্শনের কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে জনগণের আস্থা অর্জন করে হাল ধরতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ আরও সুসংহত ও শক্তিশালী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও সরকার গঠন করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও অগ্রগতির কথা মাথায় রেখে তিনি প্রতিটি পদক্ষেপে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন ;এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামণা করে এই অধ্যাপক বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তার সহধর্মিণী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এই কামনাই করি। আরটিভি/এসআর  
‘সিপাহি-জনতার সংহতি ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার ভুমিকা অনন্য’
ববিতে ১৪ শিক্ষক নিয়োগের আগেই বিজ্ঞপ্তিতে কারসাজির অভিযোগ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) তিন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর আগেই বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন করে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের আস্থাভাজনদের সুযোগ করে দিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিভাগে কৃষিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রভাষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি, যা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বয়সসংক্রান্ত গেজেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সরাসরি সাংঘর্ষিক।  তবে প্রশাসনের দাবি, বিভাগগুলোতে বৈচিত্র্য আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বয়সসীমা উল্লেখ না করার বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার। অভিযোগ উঠেছে, উপাচার্যের পূর্ববর্তী কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সুযোগ করে দিতেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টসহ কৃষির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই—এমন কয়েকটি বিভাগেও কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীরা আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিভাগে কৃষিসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে এসব বিভাগে ভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকৌশল বিভাগের নাম উল্লেখ করা হতো। এবার সেই শর্তের পরিবর্তে কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিগ্রিধারীদের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বছির বলেন, ‘বিভাগগুলোতে বৈচিত্র্য আনতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যাকগ্রাউন্ডের আবেদনকারীদের সুযোগ দিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কৃষিসংশ্লিষ্ট বিষয়টি শুধু কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জন্য রাখা হয়েছে। এ বিভাগে কৃষিসংশ্লিষ্ট কোর্স রয়েছে।’ প্রভাষক পদে বয়সসীমা উল্লেখ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ভুলে মিস্টেক হয়েছে।’ তবে বিভাগগুলোর পাঠ্যক্রম (সিলেবাস) বিশ্লেষণ ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে কৃষিসংশ্লিষ্ট কোনো কোর্স নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা। ফলে এসব বিভাগে কৃষিসংশ্লিষ্ট ডিগ্রিধারীদের আবেদনের সুযোগ রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ জামাল উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের বিভাগের সঙ্গে কৃষিসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই। আমরা এ ধরনের কোনো চাহিদাও দিইনি। নতুন ও ভিন্নধর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কারণে এবার কৃষি ব্যাকগ্রাউন্ডের কয়েকজন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। এখন উচ্চপর্যায়ের কেউ যদি তাঁদের কার্ড দিয়ে নিয়োগের সুযোগ করে দিতে চান, তাহলে অবশ্যই আমরা প্রতিবাদ করব।’ ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমরা এবার পরিবর্তনশীল একধরনের বিজ্ঞপ্তি দেখেছি, যেখানে বিষয়গুলো বেশ অস্পষ্ট। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের সঙ্গেই আসলে কৃষির কোনো বিষয় জড়িত নয়। আমার বিভাগের কথা বলতে গেলে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যার সঙ্গে কৃষির সংশ্লিষ্টতা নেই।’ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কৃষিসংশ্লিষ্ট কোনো কোর্স নেই বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগের এক শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগে কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কোর্সই নেই। যদি কেউ(প্রশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে) কৃষিবিষয়ক ডিগ্রিধারী কাউকে ইন্জিনিয়ারিং এ বিভাগে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা শুভকর হবে না।’ এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে কৃষি নিয়েই কাজ। এখানে নাম-কাজে একটু ভিন্নতা আছে। এই সাবজেক্টটি ইন্জিনিয়ারিং এবং কৃষির সমন্বয়ে গঠিত এজন্য কৃষি ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষক দরকার হবে। সরকারের নির্দেষনা থাকলেও বয়সের বাইন্ডিংস কেন দেওয়া হয়নি এবিষয়ে তিনি বলেন, বয়সের চেয়ে যোগ্যতায় মুখ্য। যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে এটি উল্লেখ করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সহযোগী অধ্যাপক পদে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে একটি করে মোট পাঁচজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। সহকারী অধ্যাপক পদে রসায়ন ও ইতিহাস বিভাগে একটি করে মোট দুজন এবং প্রভাষক পদে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, গণিত, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগে একটি করে মোট সাতজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ‎ আরটিভি/এসআর
ববিতে ১৪ শিক্ষক নিয়োগের আগেই বিজ্ঞপ্তিতে কারসাজির অভিযোগ
প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও তার অনুসারীরা: জবি উপাচার্য
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও ক্রান্তিলগ্নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার আদর্শের অনুসারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন।  শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য বলেন, এই দেশ যখনই কোনো ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর দর্শনের অনুসারীরা জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও আমরা তা দেখেছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর বর্তমান সময়েও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা দেশ পরিচালনা করছেন। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ সম্মান ও জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই জাতীয় সত্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে উপাচার্য বলেন, এই দিবসটি যাতে মানুষ ভুলে যায় তাই বিগত সরকার ৭ নভেম্বরের সরকারি ছুটি বাতিল করেছি। এ দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানও পালন করতে দেওয়া হয়নি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ধারণ করতে হবে। এসব ইতিহাস ও চেতনাকে লালন করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশকে ধ্বংস করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনা করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। অনেকেই অনেক সময় বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করেন। তবে জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। এ জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রয়োজনীয় ঐক্য ও শক্তি অর্জনের তৌফিক কামনা করেন তিনি। এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ‎ আরটিভি/এসআর  
প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও তার অনুসারীরা: জবি উপাচার্য
যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানাবিধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে ডা. এম. আর. খান মেডিকেল সেন্টারে দিনব্যাপী ফ্রি ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে শুরু হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক ঐক্য আমাদের জাতীয় রাজনীতি ও মুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। ৭ই নভেম্বরের মূল শিক্ষা হলো- জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার। ইতিহাসের সঠিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সম্মিলিত প্রত্যয় হওয়া উচিত। শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতীয় অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর জাতীয় অগ্রগতি নির্ভর করে না; এর জন্য জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব বিকাশ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। যবিপ্রবি জ্ঞানভিত্তিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যতবারই দেশ ও মেহনতী মানুষ বিপদে পড়েছে, ততবারই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামনে এসে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমেই মূলত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নতুনভাবে সুরক্ষিত হয়েছিল এবং সেদিন সিপাহী-জনতা তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। বিগত দিনগুলোতে ৭ই নভেম্বরকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হলেও সঠিক ইতিহাস জেনে নতুন প্রজন্মের সামনে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষকে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর স্বতন্ত্র পরিচয় ও দর্শন উপহার দিয়েছিলেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো সংকট মোকাবিলায় দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।” ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তাঁর শিক্ষা দর্শন: প্রেক্ষিত ৭ নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, তাৎপর্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের দর্শন, মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ নানা দিক স্লাইড আকারে উপস্থাপন করেন। আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্বাবদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়াসহ সকল শহিদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্বাবদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মো. আকরামুল ইসলাম। আলোচনা সভায় অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল আমিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালেক খান ও আলেয়া জোয়ার্দ্দার। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের  বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধানগণসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। আরটিভি/ এসআর
যবিপ্রবিতে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত
আরও পড়ুন
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্মারকলিপি চুয়েট শিক্ষার্থীদের
ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
দীর্ঘ এক যুগ পর রুয়েট পেল উপ-উপাচার্য, অগ্রাধিকার গবেষণা-একাডেমিক উন্নয়ন
ইউজিসি কর্তৃক ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে চুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ