
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) হল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই-৬ হলের ছয়টি স্টোররুমের তালা ভেঙে অবৈধভাবে দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিশান নামে এক শিক্ষার্থী বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নিশান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের অনুসারী।
সরেজমিনে জুলাই-৬ হলের দশটি স্টোররুম ঘুরে দেখা গেছে, হলের নিচতলা, দ্বিতীয় তলা, চতুর্থ তলা ও ষষ্ঠ তলা ছাড়া বাকি ছয়টি স্টোররুমের দরজার তালা ভেঙে সেখানে ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মী অবস্থান করছেন।
স্টোররুমে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. সিহাব হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সিয়াম, পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনিক দাস ও উৎসব কুমার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দশম তলার ১০২৪ নম্বর রুমে পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) অনিক দাস দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া কীভাবে তিনি এই রুমটি পেলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিক দাস বলেন, এই রুমটি নিশান ভাইয়ের (ছাত্রদল কর্মী, গণিত বিভাগ, ১৬ ব্যাচ)। তিনি আমাকে উঠিয়ে দিয়েছেন।
নবম তলার ৯২৪ নম্বর রুমে পরিসংখ্যান ও উপাত্তবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) উৎসব কুমার অবস্থান করছেন। স্টোররুমটিতে কীভাবে উঠেছেন জানতে চাইলে উৎসব কুমার বলেন, আমাকে নিশান ভাই রুমে উঠিয়ে দিয়েছেন। ভাইয়ের কাছে চাবি ছিল, তালা খুলে আমাকে তুলে দিয়েছেন।
পঞ্চম তলার ৫২৪ নম্বর রুমে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৫ ব্যাচ) সিহাব হোসেন অবস্থান করছেন।
তৃতীয় তলার ৩২৪ নম্বর রুমে গিয়ে দেখা যায়, রুমটিতে তালা ঝুলছে। তবে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া তালাটি সেখানে নেই। রুমের দেয়াল ও দরজায় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘সিয়াম, বিবিএ—১৭তম ব্যাচ’।
এভাবে হলের বাকি ফ্লোরগুলোর স্টোররুমগুলোও বিভিন্ন ছাত্রদল কর্মীর দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রশাসনের দেওয়া তালা ভেঙে রুমগুলোতে নতুন তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁদের রুমে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল কর্মী নিশান বলেন, তালা ভাঙা হয়নি। নবম তলার স্টোররুমের তালা খোলাই ছিল। আর দশম তলার স্টোররুমে স্থাপত্য বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু জিনিস রেখেছিলেন। তাদের দুজনের পারিবারিক অবস্থা অনেক খারাপ হওয়ায় আমি হল প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করি, যেন তাদের ওই রুমে থাকতে দেওয়া হয়। পরে তারা প্রভোস্টের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই রুমে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, স্টোররুম দখলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। হল প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কারও স্টোররুমে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
আরটিভি/টিআর




