ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

চাকরি না খুঁজে উদ্যোক্তা হতে হবে: ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন

হাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কারিকুলামকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অডিটোরিয়াম-১-এ ‘দ্য রোল অব অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশন: রিসার্চ এক্সেলেন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করে চাকরি খুঁজতে না হয়; বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোই তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শিল্পখাতের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সেমিনারে দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিসম্পন্ন মানুষ খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় আসার আগ থেকেই উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন এবং অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ বলেন, নতুন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী একাডেমিক কারিকুলাম সাজানোর সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথিদের বক্তব্য ও ক্রেস্ট প্রদান শেষে উপাচার্যের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

হাবিপ্রবি প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সেমিনারে অংশ নেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি ছাত্রদলের 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং মোকাবিলায় প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সদস্য-সচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান, পরীক্ষা, গবেষণা এবং আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রচলন করা প্রয়োজন। সোলার প্যানেল স্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় এবং লোডশেডিংয়ের প্রভাব হ্রাস পাবে। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আরটিভি/এসআর
ইবিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি ছাত্রদলের 
হাবিপ্রবিতে ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং ভবিষ্যতের দক্ষ রসায়নবিদ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড-২০২৭-এর রংপুর আঞ্চলিক পর্ব (প্রিলিমিনারি)।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পর্বে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৬৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপিস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল ইসলামকে। অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্বের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. বলরাম রায় এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ড. ফাতিহা ফারহানা।  আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সেরা ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিজয়ীদের মেডেল, সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বলরাম রায় বলেন, এই খুদে রসায়নবিদদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে পারলে আমাদের দেশের রসায়নচর্চা সুদূরপ্রসারী হবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত রসায়নপ্রেমীদের খুঁজে বের করা সম্ভব। আয়োজক সূত্রে আরও জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগ বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির সহযোগিতায় ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের সার্বিক আয়োজন করছে। এবারের প্রিলিমিনারি পর্ব দেশের মোট ১৪টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। সারা দেশ থেকে নির্বাচিত সেরা ২০০ শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা চার শিক্ষার্থী আগামী বছরের ১৯ থেকে ২৮ জুলাই তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। আয়োজকরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রসায়নের ব্যবহারিক ও সৃজনশীল জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরিতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর
হাবিপ্রবিতে ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত
জবিসহ দেশের ১৪ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ (জবি) দেশের ১৪টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড-২০২৭-এর প্রাথমিক পর্ব।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অলিম্পিয়াডে সারা দেশ থেকে চার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির যৌথ আয়োজনে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।  সকালে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির পতাকা ও অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অলিম্পিয়াডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান।  তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্ব ও অর্জনের বিষয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে সহায়ক হবে। ঢাকা অঞ্চলে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের এইচএসসি এবং ইংলিশ মিডিয়ামের এ-লেভেল পর্যায়ের মোট ২৮৭ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে ২৪০ জন প্রাথমিক পর্বে অংশ নেয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে সনদ ও মেডেল প্রদান করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নবিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে রসায়নের প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. এমরান কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ কে এম লুৎফর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব ড. মো. আব্দুল করীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক। বক্তারা বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রসায়ন শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের রসায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান, ছাত্র-কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাছাই করা হবে। আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের আদলে এ পর্বের পরীক্ষা নেওয়া হবে। চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের মধ্য থেকে চারজন শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। তারা আগামী ১৯ থেকে ২৮ জুলাই ২০২৭ তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। আরটিভি/এসআর
জবিসহ দেশের ১৪ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড
পাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে ‘১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাবনা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন কলেজের ১৫ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবন-২-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পরীক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পরীক্ষার্থী ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন।  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন কলেজের ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহমেদ।  এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক এবং চার শতাধিক পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রসায়ন অলিম্পিয়াড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ সময়টি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি রসায়নের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, রসায়ন অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণাগত স্বচ্ছতা তৈরি, গাণিতিক ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে পরমাণুর গঠন, রাসায়নিক বন্ধন, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা ও জারণ-বিজারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে বোঝার আগ্রহ তৈরি করবে। ফলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী ও বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা এবং বিজ্ঞানের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতেই ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। আঞ্চলিক পর্যায় থেকে মেধাবীদের বাছাই করে আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তাই একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল তার বক্তব্যে আয়োজনটি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  তিনি বলেন, ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড সফলভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  তিনি আরও বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও রসায়নচর্চার আগ্রহ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। আরটিভি/এসআর
পাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
মানবদেহে শনাক্ত গরুর শামান্ডা ভাইরাস, সতর্কতার পরামর্শ বাকৃবি অধ্যাপকের
গবাদিপশুর রোগ হিসেবে পরিচিত শামন্ডা ভাইরাস (Shamonda virus) এবার প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সে গুরুতর অসুস্থ ও রোগপ্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল এক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে গবাদিপশুর অস্বাভাবিক রোগ ও প্রজননজনিত সমস্যা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ শনাক্তকরণ, সতর্কতা এবং  ওয়ান হেলথ (One Health) পদ্ধতিতে নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের প্রাণী কল্যাণ ও আচরণ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম।  তার মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শামন্ডা ভাইরাস শনাক্তের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন না থাকলেও পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়া ভাইরাসটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রথম মানবদেহে শামন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি প্রকাশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তি লিওঁর  হাসপাতালে গুরুতর রোগের চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার রোগপ্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল।  একাধিক জৈবিক নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ৭ অক্টোবর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তার সংক্রমণের বিষয়ে অবহিত হয়। পরে রোগীটি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC) ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের প্রাণী কল্যাণ ও আচরণ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব ফ্রান্সে সংক্রমিত কিউলিকয়েডিস (Culicoides) নামের ক্ষুদ্র রক্তচোষা মিজের (একধরনের ক্ষুদ্র পোঁকা বা মাছি বিশেষ) কামড়ে ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।  ১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ায় গরু থেকে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর শরীরে এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে গবাদিপশুর মধ্যে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়। জুন থেকে প্রাণীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর জুলাইয়ের শেষ দিকে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। ড. আরিফ আরও বলেন, ভাইরাসটি প্রধানত গরুকে আক্রান্ত করে। আক্রান্ত গবাদিপশুর জ্বর, ডায়রিয়া, অবসন্নতা, ক্ষুধামন্দা ও দুধ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এ ছাড়া গর্ভপাত, মৃত বাছুর জন্ম এবং ভ্রূণের জন্মগত বিকৃতির ঘটনাও ঘটতে পারে। গরুর পাশাপাশি ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণীতেও ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই শুধু উপসর্গ দেখে শামন্ডা ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ নির্ণয়। মানুষের শরীরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হলেও এখনই ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, একটি মানব সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে একটি বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ভিত্তিতে একে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মানুষের শরীরে ভাইরাসটি কী ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে, কতটা সংক্রমণক্ষম এবং কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে এসব বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে বাংলাদেশে রোগটি প্রতিরোধে নজরদারির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. আরিফ বলেন, বাংলাদেশে গাভীর গর্ভপাত, মৃত বা বিকৃত বাছুর জন্ম, জ্বর-ডায়রিয়া কিংবা হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিলে প্রচলিত রোগের পাশাপাশি গবেষণার প্রয়োজনে Simbu serogroup-এর ভাইরাসের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র এসব লক্ষণের ভিত্তিতে শামন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। খামারিদের গোয়ালঘর ও আশপাশের ভেজা, কাদাযুক্ত এবং জৈব পদার্থসমৃদ্ধ স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। পশুর ঘরে মিজের প্রবেশ ও সংস্পর্শ কমাতে উপযুক্ত জাল, পরিচ্ছন্ন আবাসন এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।  গাভীর গর্ভপাত, মৃত বা বিকৃত বাছুর জন্ম, জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা তারিখসহ নথিবদ্ধ করে দ্রুত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খামারে কাজের সময় শরীর ঢাকা পোশাক ও উপযুক্ত রিপেলেন্ট (পোঁকা ও মাছি নিরোধক) ব্যবহার করে কামড়ানো মিজ থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। একই সাথে অস্বাভাবিক রোগ বা প্রজননজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে গুজবে কান না দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও প্রাণিচিকিৎসককে জানাতে হবে। আরটিভি/এসআর
মানবদেহে শনাক্ত গরুর শামান্ডা ভাইরাস, সতর্কতার পরামর্শ বাকৃবি অধ্যাপকের
আরও পড়ুন
হাবিপ্রবিতে তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
হাবিপ্রবির ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আর্নিকা ও তন্ময়
ভর্তি পরীক্ষায় ইমার্জেন্সি বাইক সার্ভিস দেবে হাবিপ্রবি ছাত্রদল