ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাকরি না খুঁজে উদ্যোক্তা হতে হবে: ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন

হাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ছবি: আরটিভি

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কারিকুলামকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অডিটোরিয়াম-১-এ ‘দ্য রোল অব অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কলাবোরেশন: রিসার্চ এক্সেলেন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করে চাকরি খুঁজতে না হয়; বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোই তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শিল্পখাতের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কারিকুলাম নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সেমিনারে দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিসম্পন্ন মানুষ খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় আসার আগ থেকেই উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গেলে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন এবং অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ বলেন, নতুন সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী একাডেমিক কারিকুলাম সাজানোর সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথিদের বক্তব্য ও ক্রেস্ট প্রদান শেষে উপাচার্যের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

হাবিপ্রবি প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সেমিনারে অংশ নেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: নির্ধারিত সময়ে জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
নির্ধারিত সময় পার হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। উপাচার্য বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। শুনেছি, প্রতিবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হতে মধ্যরাত বা শেষ রাত হতে পারে। যদি মধ্যরাত পেরিয়ে যায়, তাহলে আগামীকাল প্রতিবেদনের সুপারিশ প্রকাশ করা হবে। এরপর আমরা কাল অফিস খুলে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ঘোষণা করব। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম-২ বলেন, প্রতিবেদনের খসড়া সংশোধন এবং এর সঙ্গে কিছু সংযুক্তির কাজ চলছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারব। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার সময় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো জমা হয়নি। উপাচার্যের দেওয়া আশ্বাসের ৭২ ঘণ্টা সময় শেষ হবে আজ রাতে। এ সময় সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিট করার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেন উপাচার্য। বর্তমানে ওই হলের আবাসিক শিক্ষক মো. মতিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞ এমন কাউকেই প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। এতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি। সাংবাদিকদের অন্যতম দাবি ছিল, হামলায় চিহ্নিত ব্যক্তিদের নামে মামলা করতে হবে। সাংবাদিকদের দাবির মধ্যে আরও ছিল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে রাতেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া যাঁদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে। উপাচার্য এসব দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন। আহত সাংবাদিকেরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরটিভি/টিআর
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: নির্ধারিত সময়ে জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন
জবির দুই অধ্যাপক হলেন সিন্ডিকেট সদস্য
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সিন্ডিকেটে সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে মনোনয়ন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার (৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর ১৭(১)(চ) ও ১৭(২) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ক্যাটাগরিতে ওই দুই শিক্ষককে সদস্য হিসেবে দুই বছরের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
জবির দুই অধ্যাপক হলেন সিন্ডিকেট সদস্য
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও সান্ধ্যকালীনদের অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন ফি এবং প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ এবং সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নিতে স্নাতক (সম্মান), বিবিএস ও সমমান ডিগ্রিধারীদের রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মূল সনদের জন্য দিতে হবে আরও ৫০০ টাকা। ফলে সনদসহ একজন নিয়মিত গ্র্যাজুয়েটের মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, প্রফেশনাল বা সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে তাঁদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এবারের সমাবর্তন ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির অন্যতম কারণ আগের সমাবর্তনের তুলনায় ফি বৃদ্ধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হয়েছিল। ছয় বছর পর দ্বিতীয় সমাবর্তনে সেই ফি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার টাকা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফি নির্ধারণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেন, সদ্য পড়াশোনা শেষ করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য একসঙ্গে ৫ হাজার বা সনদসহ ৫ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা কঠিন। তাদের মতে, সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি মুহূর্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনে ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে এক শিক্ষার্থী বলেন, যেখানে সরকারের তেমন বরাদ্দ থাকে না, তারপরও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কম। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার এখানে বরাদ্দ দেয়। তারপরও এতে এত ফি রাখার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। এই অর্থের কারণে অনেক শিক্ষার্থীই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবে না। প্রশাসনের উচিত ফি কমিয়ে সবাইকে সুযোগ করে দেওয়া। আরেক শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, আমি মাত্রই অনার্স শেষ করেছি। ৫ হাজার টাকা একসঙ্গে জোগাড় করা আমার জন্য কঠিন। এত বেশি ফি নির্ধারণ করা হলে সমাবর্তনের আনন্দটাই অনেকের জন্য ম্লান হয়ে যাবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ফি কমানো উচিত। এদিকে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও সমাবর্তনের স্বাতন্ত্র্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এ বিষয়ে একজন শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমাদের অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। সমাবর্তন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও সম্মানের একটি স্বীকৃতি। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা। প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আরও এক সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, রেগুলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন কেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যদি তাদেরকে সমাবর্তন দিতে হয়, তাহলে সেটা আলাদাভাবে দিক, কোনো আপত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, রেগুলার শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫/৬ ব্যাচ সিনিয়রদের সাথেও যে বন্ডিং থাকে, সেই সুবাদে সমাবর্তনের আনন্দ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য দুটোই ইফেক্টিভ হবে বলে বিশ্বাস করি। সান্ধ্যকালীন কোর্স দিয়ে আপনারা ব্যবসা করবেন, সেটা ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন। আপনাদের কেউ নিষেধ করেনি। কিন্তু সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেগুলার শিক্ষার্থী, যারা দীর্ঘ ৫ বছর ক্যাম্পাসের প্রতিটি কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাদের সঙ্গে প্যারালাল করার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে? অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ইউসুব উসমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রফেশনাল বা ইভিনিং কোর্সের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আগের সমাবর্তনের তুলনায় ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন আরটিভিকে বলেন, ছয় বছর আগে সমাবর্তনের ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ছয় বছর আগের ফি এখন রাখলে কী হবে—তোমরাই বিবেচনা করো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব এক নয়। তাদের ফান্ডে অনেক টাকা থাকে, আর সরকারের ভর্তুকিও নেই। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে কত টাকা আছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। ফি পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত তো আমি একা নেই না। সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন বিবেচনা করা হবে কি না, সেটাও আমি একা বলতে পারি না। সান্ধ্যকালীন বা প্রফেশনাল কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, প্রথম সমাবর্তনেও তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যেহেতু তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি সার্টিফিকেট পায়, তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়েই সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। আরটিভি/টিআর
জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি ও সান্ধ্যকালীনদের অংশগ্রহণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইবির ৬ গবেষক
বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৬ জন শিক্ষক-গবেষক। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার যৌথভাবে সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা তৈরিতে গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের গবেষণাগত প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার মান ও প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এ তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৬ সালের তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থান পাওয়া ৬ গবেষক হলেন—অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, রুহুল আমিন ভূঁইয়া, হাবিবুর রহমান, শাহিন আলি, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও নজরুল ইসলাম। এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ৬ জন স্থান পেয়েছেন, তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা নিশ্চয়ই আনন্দের খবর। আশা রাখছি, আগামীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইবি থেকে গবেষকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষকদের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চায় ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন ও এইচ-ইনডেক্সের ভিত্তিতে বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আরটিভি/টিআর
বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীর তালিকায় ইবির ৬ গবেষক
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কাটা হলো রামেবি উপাচার্যের কক্ষের তালা
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের কার্যালয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া তালা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কেটে খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে তালাটি খোলা হয়। এর আগে উপাচার্যকে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবিরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা কাটার পর উপাচার্যের কক্ষটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় তারা উপাচার্যকে তার বাসা থেকে সসম্মানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনায় দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ ওঠে। উপাচার্যের ভাষ্যমতে, তাকে কাগজটি পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. আলী আকবর হোসাইন ও মো. দেলোয়ার হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু উপাচার্যকে তার কক্ষে নিয়ে যাবেন। এরপর উপাচার্য গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, যুবদল ও উলামা দলের নেতৃবৃন্দ। উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে। আরটিভি/টিআর
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কাটা হলো রামেবি উপাচার্যের কক্ষের তালা
আরও পড়ুন
হাবিপ্রবির ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আর্নিকা ও তন্ময়
ভর্তি পরীক্ষায় ইমার্জেন্সি বাইক সার্ভিস দেবে হাবিপ্রবি ছাত্রদল