
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবনির্মিত ছাত্র হল-১ এর বহুতল ভবনে লিফট চালু করতে শিক্ষার্থীদের দাবির পর এবার সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থেকে লিফটের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
কাজ পরিদর্শন কালে নির্ধারিত তারিখে লিফট চালু না হওয়ার কারণ জানতে প্রশ্নের সম্মুখীন হন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। এসময় ঠিকাদার ও লিফট সংযোগকারী প্রতিষ্ঠানের এসব প্রকৌশলীদের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হওয়া এবং বারবার নির্ধারিত সময় অতিক্রম হওয়ার কারণ দর্শাতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কাজের ক্ষেত্রে তাদের গাফিলতি ও প্রশাসনকে যথাযথ অবহিত না করার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এদিকে লিফট চালুর প্রসঙ্গে প্রশাসন একাধিকবার সময় নির্ধারণ করে দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ১০ অক্টোবর লিফট হস্তান্তরের কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হয়নি। পরে আগামী ১৬ অক্টোবর সকালে এটি চালু করা হবে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল জানান, “লিফট সংযোগকারী প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তারা যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করেনি। বিভিন্ন সময়ে কালক্ষেপণ করেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছি, যেন দ্রুত লিফট চালু করে। এর মাঝে ১০ অক্টোবরের চালুর কথা থাকলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আজ সরাসরি কাজের অগ্রগতি দেখে তাদের আবারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৬ অক্টোবর সকালে লিফট চালু করে দিবে বলে তারা জানিয়েছে। আমরা আশা করছি, এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের স্বস্তি নিশ্চিত হবে।”
উল্লেখ্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বারবার গাফিলতিতে লিফট স্থাপনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলেছে। এমনকি কাজ এর মাঝে বন্ধও ছিল বলে জানা যায়। ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও লিফট চালু করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসনের সরাসরি উপস্থিতি ও অগ্রগতি তদারকি দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর দ্রুত লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশ্যে লং মার্চ করেন ছাত্র হল-১ এর আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাসিক এ হলটিতে দীর্ঘদিন ধরে লিফট চালুর দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান না আসায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত লিফট চালুর বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নবনির্মিত ১০ তলা ভবনটিতে বসবাস শুরু করার পর থেকে ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন একাধিকবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে ওপরের তলাগুলোর শিক্ষার্থীদের শারীরিক ভোগান্তি বেড়েছে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত নিচে নামানো কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
হল-১ এর লিফট চালু না থাকলেও একই সময়ে নির্মিত পাশের ছাত্র হল-২ এর দুটি লিফট গত ২০ আগস্ট চালু করা হয়। এ বৈষম্যের কারণে হল-১ এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল মুঠোফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে লিফট চালুর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ ৯ অক্টোবর রাতে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিতি ও কাজের অগ্রগতির জবাবদিহি প্রশাসনের তৎপরতা সুস্পষ্ট করে। সর্বশেষ সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর সকালে লিফট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, এবার যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে লিফট চালু করা হয় এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।
আরটিভি/টিআর


