
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। এ সময় চাকরিপ্রার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জকসুর নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, প্রশ্নফাঁসের মাস্টার প্ল্যান’ এবং ‘প্রশ্নফাঁস না মেধা, মেধা মেধা’।
সমাবেশে জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে না বলে তারা আশা করেছিলেন। তবে তার অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলেও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ছে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মতো দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তা স্থগিতের ঘোষণাকে অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষার্থী নেতা।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম তার বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দখলদারিত্ব ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চাকরির নিয়োগে জালিয়াতি, মৌখিক পরীক্ষায় পক্ষপাতিত্ব এবং যাচাই-বাছাইয়ের নামে হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা যুক্ত হওয়ায় যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রিয়াজুল ইসলাম আরও বলেন, মেধাবীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সরকার এসব অনিয়ম বন্ধ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করলে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হতে পারেন।
সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চাকরিপ্রার্থীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তারা।
আরটিভি/জেএমএ




