
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এ নিয়ে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বলেন, আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ১২ কার্যদিবসে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিকল্প উপাচার্য হিসেবে কাউকে তারা দেখছেন না। তাকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হয়, সে বিষয়েও তারা জোরালো অবস্থান জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষকদের একটি মৌন মিছিল উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জানায়, সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা এবং অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্তটিকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে দূর থেকে তথাকথিত ‘অনলাইন ভিসি’ উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাঁকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেননি, তার দেওয়া কোনো রুটিন দায়িত্ব কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম জানান, অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হতো। কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। তবে এবার তারা এ ধরনের কোনো অফিস আদেশ পাননি। ফলে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক আরাফাত রহমানের উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার খবর দেখেছেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শরিফুল ইসলামকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যোগ দেন। ফলে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আরটিভি/টিআর




