
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৭ দিন আগে শপথ নিয়ে একই দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য আকাশ দাশ। গত ৬ অক্টোবর শপথ গ্রহণের পর পদত্যাগপত্র জমা দিলেও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ করেন তিনি। সংসদে অসহযোগিতা, ইচ্ছাকৃত প্রতারণা ও কাজের অনুকূল পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলেছেন আকাশ। তবে এসব অভিযোগের জবাবে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে চাকসু।
২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আকাশ দাশ। নির্বাচনে ৪ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে পাঁচজন নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্যের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
তবে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বুয়েটের এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধর্ষণসংক্রান্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকে ধর্ষণের জন্য নারীকেও দায়ী করে মন্তব্য করেন আকাশ দাশ। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের প্রতিবাদের মুখে তার শপথগ্রহণ স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে গত বছরের ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সভায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর শর্তে তাকে ক্ষমা করা হয়। পরে ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হলে অভিযোগ থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি পান তিনি।
এরপরও প্রায় চার মাস শপথগ্রহণের অপেক্ষায় থাকতে হয় আকাশ দাশকে। অবশেষে গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান নিজ কার্যালয়ে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় দুই উপ-উপাচার্যসহ চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও জিএস সাঈদ বিন হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে আকাশ দাশ অভিযোগ করেন, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় এক বছর পার হলেও তাকে সংসদের কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার শপথের উদ্যোগ নিলেও চাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। সহকর্মীদের অসহযোগিতা, যথাযথ সম্মান না পাওয়া এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ না করায় সংসদে কাজের পরিবেশ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে কোনো আইন বা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আকাশ দাশ বলেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাকে অপদস্থ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর চাকসুর সঙ্গে তার আর কোনো দাপ্তরিক সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে চাকসু জানায়, আকাশ দাশের বিতর্কিত মন্তব্যের ঘটনায় তারা কেবল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। তদন্ত, শপথ স্থগিত ও পরবর্তী শপথগ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত ছিল। এ বিষয়ে চাকসুর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ছিল না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আকাশ দাশের পদত্যাগের বিষয়ে চাকসুর ভিপি, জিএস কিংবা কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্য প্রতিনিধিদের আগে থেকে জানানো হয়নি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনের পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধীসহ সব শিক্ষার্থীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চাকসু।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া জানিয়েছেন, পদত্যাগপত্র তার হাতে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘রিসিভড মানেই অ্যাকসেপ্টেড না। ফলে আকাশ দাশের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আরটিভি/জেএমএ


