
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এখনো শুরু হয়নি মামলার বিচার কার্যক্রম। সন্তান হত্যার বিচার দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে স্বজনদের মধ্যে। তাদের দাবি, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূর বক্স লেনের একটি ভবনে ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভবনটির নিচতলায় তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন—জোবায়েদের ছাত্রী শাবনাম বর্ষা, তার কথিত প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। ওই দিন আসামিদের জামিন আবেদন করা হলে তা নাকচ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন খান বলেন, মামলাটি বিচারের জন্য আমাদের আদালতে এসেছে। আগামী ২৮ অক্টোবর চার্জ গঠনের দিন ধার্য রয়েছে। আমরা আশা করছি, ওই দিনই অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হবে এবং দ্রুত সাক্ষী হাজির করে বিচার শেষ করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
বিচার শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত। তিনি বলেন, ভাই হত্যার বিচারটা হলে অন্তত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম। আজ এক বছর হয়ে গেল, বিচারই শুরু হলো না। প্রতিদিন মা কান্নাকাটি করেন, বাবার চোখে পানি। তারা জানতে চান বিচার কবে শুরু হবে, কবে রায় হবে—আমি কোনো জবাব দিতে পারি না। আমরা আসামিদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ সাজা চাই।
এদিকে, মামলার আসামিদের দায় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা। শাবনাম বর্ষার আইনজীবী নূর মাহাবুবুল আলমের দাবি, তার মক্কেল নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার। অন্যদিকে মাহিরের আইনজীবী এম রাশেদুজ্জামান দাবি করেন, ত্রিভুজ প্রেমের টানাপোড়েন ও জোবায়েদের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হওয়ার বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার ভাষ্য, ঘটনার মূল পরিকল্পনায় বর্ষা জড়িত ছিলেন। তবে এসব দাবি আদালতে বিচারাধীন মামলার অংশ।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে চলতেন জোবায়েদ। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এই শিক্ষার্থী। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ ঘিরে দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর এখন বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটছে তার পরিবারের। স্বজনদের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার শুরু হয়ে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হবে।
আরটিভি/এমএম


