
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। অভিযোগ গঠন হওয়া তিন আসামি হলেন বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আদালতে শুনানিকালে আসামি বর্ষার আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল বলেন, মামলার ৪৪ জন সাক্ষীর কেউই তার মক্কেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য দেননি। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি কেনার টাকা দেওয়া কিংবা ঘটনাস্থলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষেও তদন্ত সংস্থা যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
আইনজীবী আরও বলেন, বন্ধু মাহিরের ডাকে বর্ষা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল, জোবায়েদকে শুধু ভয় দেখানো হবে; হত্যার কোনো পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। তাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই। এ যুক্তিতে বর্ষাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, জোবায়েদকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে থেকেই তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তেও তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় মাহির ও আয়লানের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় এক ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে হত্যার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তার হত্যার খবর জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।
আরটিভি/টিআর




