ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

চোখের সামনে কেউ কাঁদলে কী করা উচিত, কী উচিত নয়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

যখন আপনার চোখের সামনে কাউকে কাঁদতে দেখেন তখন স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ে যান। সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে বলতে থাকেন ‘ভেঙ্গে পড়ো না’, ‘ধৈর্য্য ধরো’, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ বা ‘শক্ত হও, জীবন এমনই’ ধরনের কথা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কথা বেশির ভাগ সময়ই ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করে না। বরং মানুষের আবেগকে স্বীকৃতি দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কী করবেন?

এই মুহূর্তে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন না। বরং ওই মুহূর্তে তার পাশে থাকুন। অনেক সময় মানুষ সমাধান নয়, কেবল একজন মনোযোগী শ্রোতা চায়।

আপনি বলতে পারেন

  • আমি তোমার পাশে আছি।
  • তোমার যেমন লাগছে, এটা স্বাভাবিক।
  • তুমি চাইলে আমাকে বলতে পারো কী হয়েছে।
  • তোমার জন্য এটা নিশ্চয়ই খুব কঠিন।

এসব বাক্য মানুষকে বোঝায় যে তার অনুভূতিকে আপনি গুরুত্ব আর স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

কী বলা উচিত না

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের কথাগুলো অনেক সময় উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে—

  • সব ঠিক হয়ে যাবে।
  • কেঁদো না।
  • বিষয়টা এতটা খারাপ নয় যে এমন কাঁদতে হবে।
  • ভুলে যাও।
  • শক্ত হও।

এ ধরনের বাক্য অনিচ্ছাকৃতভাবে অপর পক্ষের অনুভূতিকে ছোট করে দিতে পারে।

নীরবতাও গুরুত্বপূর্ণ
সব সময় কিছু বলতেই হবে, এমন নয়। কখনো কখনো নীরবে পাশে বসে থাকা, চোখে চোখ রাখা বা (যদি সম্পর্ক অনুযায়ী উপযুক্ত হয়) একটি আলতো স্পর্শও অনেক বড় সমর্থন হতে পারে।

প্রশ্ন করার ধরন
খুব বেশি জিজ্ঞাসাবাদ না করে খোলা মনে প্রশ্ন করাও ভালো। এতে অপর ব্যক্তি নিজের মতো করে কথা বলার সুযোগ পান। যেমন—

  • এ মুহূর্তে তোমার কী দরকার বলে মনে হচ্ছে?
  • তুমি কী এটা নিয়ে কথা বলতে চাও?
  • আমি কীভাবে তোমাকে সাহায্য করতে পারি?
আরও পড়ুন

যদি মানুষটি কথা বলতে না চান
সবাই কান্নার সময় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সে ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন। বলতে পারেন, ‘ঠিক আছে। যখন কথা বলতে ইচ্ছা করবে, আমি আছি।’

এতে তিনি চাপ বোধ করবেন না।

যদি আপনি কিছুই বুঝতে না পারেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত কথা বলার চেয়ে আন্তরিক উপস্থিতি বেশি মূল্যবান। এমনকি আপনি যদি শুধু বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না কী বলব, কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি।’ সেটিও অনেক সময় গভীর সান্ত্বনা দিতে পারে।

এককথায়
কেউ কাঁদলে তার কান্না থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং তার অনুভূতিকে স্বীকৃতি দিন। বিচার না করে শুনুন এবং পাশে থাকুন। মানুষ নিখুঁত পরামর্শ নয়, বরং আন্তরিক সহমর্মিতা মনে রাখে।

সূত্র: টাইম

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
ভাত না রুটি, কোনটি খাওয়া উচিত?