ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

৪০ লাখ বছরে ৫ গুণ বেড়েছে মানুষের মস্তিষ্ক, কারণ জানলে চমকে যাবেন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের পথে মানুষের মস্তিষ্কের আকার বেড়েছে; গবেষণায় এর সঙ্গে শর্করাসমৃদ্ধ খাবারের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে । ছবি: সংগৃহীত

মানুষের মস্তিষ্ক আজ যে আকার ও সক্ষমতায় পৌঁছেছে, তা এক দিনের পরিবর্তন নয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বদলেছে মানুষের মস্তিষ্ক। আর এই পরিবর্তনের পেছনে প্রাণীজ প্রোটিনের পাশাপাশি শর্করা বা গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে।

৪০ লাখ বছরে মস্তিষ্কের আকারে বড় পরিবর্তন

গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্কের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর মস্তিষ্কের ওজন ছিল প্রায় ৩০০ গ্রাম। বিপরীতে আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম।

মস্তিষ্ক যত বড় হয়েছে, তার কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদাও বেড়েছে। আর সেই শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো গ্লুকোজ।

প্রাণীজ খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল শর্করার

মানুষের বিবর্তনের ক্ষেত্রে এত দিন প্রাণীজ প্রোটিন ও মাংসের ভূমিকা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য শুধু প্রাণীজ খাবারই যথেষ্ট ছিল না। প্রয়োজন ছিল পর্যাপ্ত শক্তিরও।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ জেনি ব্র্যান্ড-মিলারের মতে, কাঁচা শ্বেতসার থেকে সহজে গ্লুকোজ তৈরি করা যায় না। তাই মানুষ যখন নিয়মিত দানাশস্য খেত না এবং রান্নার প্রচলনও হয়নি, তখন ফলমূল ও মধুর মতো প্রাকৃতিক মিষ্টি খাবার থেকে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ পাওয়ার সুযোগ ছিল।

আরও পড়ুন

মস্তিষ্কের জন্য কেন এত জরুরি গ্লুকোজ?

মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য অনেক প্রাণীর তুলনায় আকারে বড়। তাই এটি সচল রাখতে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এই শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস গ্লুকোজ।

গবেষক কারেন হার্ডির মতে, মানুষের বিবর্তনে মাংস ও প্রাণীজ প্রোটিনের গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। তবে একই সঙ্গে মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস কোথা থেকে এসেছে, সেটিও বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ফল ও মধু ছিল প্রাচীন মানুষের শক্তির উৎস

মানুষের খাদ্যাভ্যাসও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ প্রাণীজ খাবারের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ খাবার, শাকসবজি ও শর্করাসমৃদ্ধ খাবার খেতে শুরু করে।

হোমো হ্যাবিলিস ও হোমো ইরেকটাসের মতো প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর খাদ্যতালিকায় ফলমূলের মতো শর্করাসমৃদ্ধ খাবারের উপস্থিতি ছিল বলে গবেষকেরা মনে করছেন। পরে মানুষ আগুন ব্যবহার ও রান্নার কৌশল আয়ত্ত করার পর ওল, কচুর মতো শিকড়জাতীয় খাবারও খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এসব খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।

ছয় পর্যায়ে বিশ্লেষণ ৪০ লাখ বছরের বিবর্তন

মস্তিষ্কের বিবর্তনে গ্লুকোজের ভূমিকা বোঝার জন্য গবেষকেরা একটি বিশেষ মডেল ব্যবহার করেন। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ বছরের মানব বিবর্তনকে ছয়টি পর্যায়ে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হয়।

শুধু মস্তিষ্ক নয়, লোহিত রক্তকণিকা, কিডনি, প্রজনন কোষ ও গর্ভফুলের জন্য প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের পরিমাণও বিবেচনায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাস কীভাবে বদলেছে, সেটিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গর্ভাবস্থাতেও বাড়ে গ্লুকোজের চাহিদা

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মানুষের শরীরে গ্লুকোজের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ ও বিবর্তনের ক্ষেত্রে শর্করার ভূমিকা বোঝার জন্য এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

গবেষক জেনি ব্র্যান্ড-মিলারের মতে, বর্তমানে শর্করা বলতেই অনেকের মনে দানাশস্য বা পাউরুটির কথা আসে। কিন্তু মানুষের দীর্ঘ বিবর্তনের সময়ে শর্করার গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল ফলমূল ও মধু।

অর্থাৎ, মানুষের মস্তিষ্কের আকার ও সক্ষমতা বাড়ার পেছনে শুধু মাংস বা প্রাণীজ প্রোটিন নয়, প্রয়োজনীয় শক্তি জোগানো শর্করাসমৃদ্ধ খাবারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। মানুষের খাদ্যাভ্যাসের এই দীর্ঘ পরিবর্তনই হয়তো মস্তিষ্কের বিবর্তনের গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
মৃত সাবেক ফুটবল খেলোয়াড়দের ৭৫ শতাংশের মস্তিষ্কে রোগের লক্ষণ, বলছে গবেষণা
দীর্ঘ নয় মাস পর শুটিংয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি
মানবমস্তিষ্ক দুটি পৃথক অঙ্গের সমষ্টি
এআইয়ের সহায়তায় বিশ্বে প্রথম মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণ