ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ হয় ক্যাম্পাস, শেষ হয় না অপেক্ষা

লেখক: আবুবকর সম্পদ

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনটি একজন শিক্ষার্থীর কাছে যতটা আনন্দের, তার পরের দিনগুলো ততটাই অনিশ্চয়তায় ভরা। কয়েক বছরের ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, রাত জেগে পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন শেষে হাতে আসে একটি সনদ। কিন্তু সেই সনদ হাতে নিয়েই শুরু হয় আরেকটি কঠিন অধ্যায়—চাকরির অপেক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের কোনো কমতি থাকে না। কেউ ব্যাংকার হতে চান, কেউ বিসিএস ক্যাডার, কেউ যেতে চান করপোরেট প্রতিষ্ঠানে। কেউ আবার স্বপ্ন দেখেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার। কিন্তু পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বাস্তবতা অনেক সময় সেই স্বপ্নের সঙ্গে তাল মেলায় না।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চাকরির ওয়েবসাইট দেখা, একের পর এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খোঁজা, সিভি তৈরি, অনলাইনে আবেদন, লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি—দিনের পর দিন চলতে থাকে একই রুটিন। কোনো দিন আসে একটি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, আবার কোনো দিন আসে প্রত্যাখ্যানের বার্তা। কখনো লিখিত পরীক্ষায় বাদ পড়তে হয়, কখনো মৌখিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় ফলাফলের জন্য।

শেষ হয় না অপেক্ষার দীর্ঘ সময়

একসময় যে তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে বসে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতেন, চাকরি না পেয়ে তাকেই হয়তো পরিবারের সামনে বারবার একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় - চাকরির কী হলো?

প্রশ্নটি হয়তো খুব সাধারণ। কিন্তু বেকার একজন তরুণের কাছে প্রতিদিনের এই প্রশ্ন হয়ে ওঠে তার মানসিক চাপের আরেক নাম।

সন্তানের পড়াশোনার পেছনে বছরের পর বছর অর্থ ও শ্রম দেওয়ার পর বাবা-মাও স্বাভাবিকভাবেই চান, সন্তান দ্রুত নিজের পায়ে দাঁড়াক। কিন্তু চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় অনেককে।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ যেন একজন তরুণকে এক অদ্ভুত বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায় - শিক্ষাজীবন শেষ, কিন্তু কর্মজীবন এখনও শুরু হয়নি।

এই সময়টায় অনেকের আত্মবিশ্বাসেও ভাটা পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমবয়সীদের চাকরি, পদোন্নতি কিংবা বিদেশযাত্রার ছবি চোখে পড়ে। নিজের অবস্থানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে তখন হতাশ হয়ে পড়েন কেউ কেউ। অথচ প্রত্যেকের পথ যে আলাদা—এই সত্যটিই তখন মনে রাখা সবচেয়ে কঠিন হয়ে যায়।

বেকারত্ব শুধু আয় না থাকার সমস্যা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মপরিচয়, আত্মসম্মান, পারিবারিক দায়িত্ব, সম্পর্ক হারানোর ভয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা একজন তরুণের দক্ষতা ও সম্ভাবনার পাশাপাশি তার মানসিক শক্তির ওপরও চাপ তৈরি করে।

এর মধ্যে কখনো খবর আসে, প্রেমিকার বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেছে। বাবার অবসরের সময় ঘনিয়ে আসে। ছোট বোনও বড় হয়ে ওঠে, সামনে আসে তার বিয়ের চিন্তা। দায়িত্বগুলো যেন একের পর এক সামনে এসে দাঁড়ায়। অথচ নিজের জীবনটাই তখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ মানেই জীবনের শেষ নয়। একটি চাকরি না পাওয়া মানে একজন মানুষের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। চাকরির পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন, প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা হওয়া কিংবা উচ্চশিক্ষার মতো বিকল্প পথও রয়েছে। প্রয়োজন শুধু নিজের সক্ষমতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পথটি খুঁজে নেওয়া।

তবু বাস্তবতা হলো, একজন তরুণের জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মজীবনে যাওয়ার এই মধ্যবর্তী সময়। একদিকে পরিবারের প্রত্যাশা, অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন; একদিকে চাকরির প্রস্তুতি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে সময়টা হয়ে ওঠে এক কঠিন পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিনে যে তরুণটি সনদ হাতে হাসিমুখে ছবি তোলেন, কয়েক মাস পর সেই একই তরুণ হয়তো একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তির সামনে বসে নিজের যোগ্যতা মেলাতে থাকেন। কোথাও বয়সের হিসাব মেলেনা, কোথাও অভিজ্ঞতার ঘাটতি, আবার কোথাও প্রতিযোগীদের ভিড়ে হারিয়ে যায় তার আবেদন।

তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হওয়া শুধু একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; শুরু হয় অপেক্ষার আরেক অধ্যায়।

আর সেই অপেক্ষার শেষে যখন কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে আসে, তখন হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলোর কথা—যেদিন ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় ছিল না। সেই দিন মনে পড়ে ক্যাম্পাসের করিডোর, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পরীক্ষার আগের রাত, আর চায়ের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা সেই সময়গুলো। তখন হয়তো এসব মুহূর্তের মূল্য বোঝা যায়নি। কিন্তু কর্মজীবনের ব্যস্ততায় পেছনে ফিরে তাকালে সেই দিনগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে স্মরণীয়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস একদিন শেষ হয়ে যায়, ক্লাসরুমের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়ে ভিন্ন ভিন্ন শহরে, ভিন্ন ভিন্ন জীবনে। কিন্তু সেই দিনগুলোর স্মৃতি থেকে যায়—আর চাকরির অপেক্ষায় থাকা তরুণের কাছে সেসব স্মৃতিগুলো যেন হয়ে ওঠে পাওয়া না পাওয়ার হিসাবরেখা।

লেখক: আবুবকর সম্পদ, জবি সংবাদদাতা

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের ‘হারভেষ্ট মুন’ উপভোগ করছেন তো?
পশ্চিম আকাশের সন্ধ্যায় আজ যখন ছিল রক্তিম আভার মতো লাল অবায়ব তখনই পূর্ব আকাশে দেখা গিয়েছে সোনালি উজ্জ্বল রঙের গোলকের মতো একটা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অত্যন্ত ২০ মিনিট আগেই উদিত হওয়া একটা চাঁদ। আজকের উদিত হওয়া এই বিশেষ চাঁদটির নাম ‘হারভেস্ট মুন’।
আজকের ‘হারভেষ্ট মুন’ উপভোগ করছেন তো?
সবার মাঝে থেকেও কখনো নিজেকে একা লেগেছে? 
সব বন্ধুর মাঝে বসে আছেন,আশে পাশের সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে,গল্প করছে।তবুও মনে হচ্ছে যে আপনি বড্ড একা।কখনো এমন অনুভূতি মনে হয়েছে আপনার?বিজ্ঞানের ভাষায় এমন সবার মাঝে থেকেও নিজেকে একা মনে হওয়াকে বলে সাবজেক্টিভ লনলিনেস বা আত্মগত একাকিত্ব।  মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের মতে মানুষের একাকিত্ব দুই ধরণের হয়ে থাকে।প্রথমটি হলো Social Loneliness বা আশেপাশে মানুষের অভাব,অপরটি হলো Emotional Loneliness  বা ভালোবাসার মানুষের অভাব। মানুষের ভিড়ে বা বন্ধুদের মাঝে থেকেও যখন কেউ  নিজের আবেগকে প্রকাশ করতে পারে না বা অপরপক্ষের কাছ থেকে পারস্পরিক বোধগম্যতা পায় না, তখনই তার মাঝে Emotional Loneliness তৈরি হয়। মূলত যখন আমরা আশেপাশের মানুষের সাথে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি,চলতে পারি তখন আমাদের দেহে 'বন্ডিং হরমোন' নামের অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হওয়ার উদ্দীপনা তৈরি হয়।তবে যদি সেই পরিবেশে মুক্তভাবে মানিয়ে নিতে না পারি বা সামাজিক প্রত্যাখ্যান, উপেক্ষা বা অস্বস্তিকর লাগে তাহলে দেহে স্ট্রেস বৃদ্ধিজনিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।যার কারণে ভিড়ের মাঝেও নিজেকে একা লাগতে লাগে। তবে এরকম সাবজেক্টিভ লনলিনেসের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হচ্ছে আশেপাশের মানুষের আচরণ।ধরুন, বন্ধুদের সঙ্গে বাসে করে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন। দেখা গেল, তারা সবাই পাশাপাশি সিটে বসেছে, আর সিট না থাকায় আপনাকেই বারবার বসতে হলো একা অন্য একটি সিটে। কিংবা একসঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে তারাই নিজেদের মধ্যে গল্প করছে, আর আপনি শুধু নীরবে তাদের পেছন পেছন হেঁটে যাচ্ছেন।কিংবা আপনি কথা বলছেন, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দিলে না; বারবার কথার মাঝেই থামিয়ে দিল। আবার বন্ধুদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক হলেও যদি সবসময় আপনাকেই লক্ষ্য করে মজা করা হয়, তাহলে এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আত্মগত একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথমেই প্রয়োজন সোশ্যাল মাস্কিং কমানো—অর্থাৎ অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত অনুভূতি সবসময় লুকিয়ে না রাখা।আশেপাশের ফ্রেন্ড সার্কেলে পরিবর্তন আনাও জরুরি। এমন বন্ধুদের সাথেই চলা উচিত যারা আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে; আপনাকে গুরুত্ব দিবে।তবে সবাই আপনাকে সবসময় সমান হারে গুরুত্বদিবে এমন প্রত্যাশা রাখাটাও অনুচিত।আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সঙ্গে একা সময় কাটানোকে শাস্তি নয়, বরং উপভোগ করার অভ্যাসে গড়ে তোলা। লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম  শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সবার মাঝে থেকেও কখনো নিজেকে একা লেগেছে? 
মীনা দিবস আজ, যে কার্টুন বদলে দিয়েছিল শিশুদের ভাবনা
শৈশব মানেই খেলতে খেলতে শেখা, নতুন কিছু জানার কৌতূহল আর নিজের মতো করে পৃথিবীকে চেনা।
মীনা দিবস আজ, যে কার্টুন বদলে দিয়েছিল শিশুদের ভাবনা
২০০০ অন্তর্বাস ও ১২ হাজার টি-ব্যাগ পুঁতলেন গবেষকেরা, মিলল চমকপ্রদ তথ্য
মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য বোঝার জন্য অভিনব এক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন সুইজারল্যান্ডের গবেষকেরা। দেশটির বিভিন্ন বাগান, তৃণভূমি, কৃষিজমি ও লনে দুই হাজারের বেশি জোড়া তুলার অন্তর্বাস পুঁতে রাখা হয়। পাশাপাশি মাটির নিচে দেওয়া হয় প্রায় ১২ হাজার টি-ব্যাগ। দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষা করে মাটির জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা।
২০০০ অন্তর্বাস ও ১২ হাজার টি-ব্যাগ পুঁতলেন গবেষকেরা, মিলল চমকপ্রদ তথ্য
মঞ্চ একই, সময় আলাদা: জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে এবার আলোচনায় বাংলাদেশের জিয়া পরিবার।
মঞ্চ একই, সময় আলাদা: জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর
আরও পড়ুন
নবীনদের পদচারণায় মুখর বদরুন্নেসা কলেজ
খুলনায় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল
জবি ক্যাম্পাসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী আটক
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে জবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি