ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

৭৩ বছর পর ধনী বিদেশিদের জন্য মদের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ফাইল ছবি (প্রতীকী)

৭৩ বছর পর সৌদি আরব মদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করেছে। নতুন এই ব্যবস্থায় রাজধানী রিয়াদে ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারা সীমিত পরিসরে বৈধভাবে মদ কিনতে পারছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ক্ষেত্রেও এ সুযোগ বাড়ানো হতে পারে।

১৯৫২ সালে সৌদি আরবে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার অধিকারী এই দেশটি এতদিন কঠোরভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছিল। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটছে।

রিয়াদের ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় চালু করা হয়েছে বিশেষ একটি দোকান। শুরুতে সেখানে শুধু অমুসলিম কূটনীতিকদের মদ কেনার অনুমতি ছিল। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। এখন ধনী অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দারাও সেখানে মদ কিনতে পারছেন।

এই সুবিধা পেতে হলে বিদেশিদের হয় প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পারমিট থাকতে হবে- যার বার্ষিক ফি প্রায় এক লাখ সৌদি রিয়াল অথবা মাসিক আয় অন্তত ৫০ হাজার রিয়াল প্রমাণ করতে হবে। দোকানে প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র, ধর্মীয় পরিচয় ও আয় সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে হয়। তবে পর্যটকদের জন্য এখনও এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়।

এ ছাড়া দোকানে মোবাইল ফোন নেওয়া নিষিদ্ধ এবং প্রবেশের আগে সেগুলো বিশেষ ব্যাগে সিল করে রাখা হয়। ক্রেতাদের অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। মদের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি হলেও কালোবাজারের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। এক ব্রিটিশ নির্বাহী জানান, একটি হুইস্কির দাম পড়েছে প্রায় ১২৪ ডলার।

তবে সরকারিভাবে এই পরিবর্তন নিয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টি নিচু স্বরে বাস্তবায়ন করছে।

বাস্তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবে গোপনে মদের ব্যবহার চলেছে। কখনও ব্যক্তিগত বাসভবনে, কখনো আবাসিক কম্পাউন্ডে কিংবা কালোবাজারের মাধ্যমে।

এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে অর্থনৈতিক চাপ বড় ভূমিকা রাখছে। তেলের দাম কম থাকায় সৌদি আরব বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় দেশটি পর্যটন, বিনোদন ও অ-তেল খাতে বৈচিত্র্য আনতে চায়।

আরও পড়ুন

পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে রেড সি উপকূল বা আল-উলার মতো পর্যটন এলাকায় সীমিত পরিসরে পর্যটকদের জন্যও মদের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু হোটেল সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দুবাইয়ের মতো পুরোপুরি উদার পথে না গিয়ে কাতারের মতো নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে এগোবে। সমাজকে প্রস্তুত করেই নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। সূত্র: বিবিসি

আরিটভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার (১৮ মিলিয়ন ডলার) জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
আরও পড়ুন
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা
সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের জরুরি বার্তা
আবারও সৌদিতে সতর্কতা জারি