ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদিতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১১:১২ পিএম
ফাইল ছবি

অবৈধভাবে বসবাস, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

রোববার (৭ জুন) সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪ হাজার ৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ১২৬ জন রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ইথিওপিয়ান ৭০ শতাংশ, ২৮ ইয়েমেনি ও বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ২৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ায় সৌদিতে বসবাসরত ১৬ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এর আগে ১৭ মে ১১ হাজার ২৭২ প্রবাসীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯ হাজার ৫৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই সপ্তাহে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর ১৪ হাজার ৪৯৫ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বহিষ্কারের আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও ৮৫০ জনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারীসহ মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তার চেষ্টাকারী ব্যক্তির ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে দিয়ে আসছে।

মরু অঞ্চলের দেশ সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক সৌদিতে কর্মরত রয়েছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে দেশটিতে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন ধরপাকড় অভিযান ও অবৈধ প্রবাসীদের আটকের খবর প্রকাশ করছে।

সূত্র : গালফ নিউজ।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
দাম্মাম-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত
বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫,৭৭৯ যাত্রী
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’, মক্কায় দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ