ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

একসঙ্গে তিন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একসঙ্গে তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক নামে তিনটি যুদ্ধজাহাজকে শনিবার (২০ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এই তিন যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মোদি।

কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপইয়ার্ডে নির্মিত এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন মোদি। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই তিনটি যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধনের পরই নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে। আইএনএস দুনাগিরি ও আইএনএস অগ্রয় উদ্বোধনের পর আন্দামানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গে আসতে পেরে আমি গর্বিত। ভারতের পুনর্জাগরণে গতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক ও আইএনএস অগ্রয়। নৌবাহিনী শক্তিশালী না হলে কোনও রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। ভারত এখন আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত। বাংলা থেকেই আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত ভারতের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, মিসাইল বহনে সক্ষম আইএনএস দুনাগিরিসহ তিনটি যুদ্ধজাহাজই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। ভারত শুধু ভোক্তা নয়, নির্মাতা হতে চায়। দেশ যেদিন নির্মাতা হবে, সেদিনই নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে। তিনটি জাহাজের নকশাও ভারতের নিজস্ব। আজ বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবস, আর আজই আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জাহাজেরও সূচনা হলো।

আইএনএস সংশোধকে হালকা ওজনের টর্পেডো ও রকেট লঞ্চার রয়েছে। এটি ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম জরিপ জাহাজ। উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক খাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে।

তিনটি জাহাজের মধ্যে আইএনএস দুনাগিরি প্রজেক্ট-১৭এ স্টেলথ ফ্রিগেট শ্রেণির একটি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত এই ফ্রিগেট ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এটি ভূমি থেকে ভূমি এবং ভূমি থেকে আকাশে হামলা চালাতে পারে।

আইএনএস অগ্রয় সমুদ্রের উপকূলীয় অঞ্চল ও গভীর পানিতে জরিপ পরিচালনা করতে সক্ষম। এতে অত্যাধুনিক সার্ভে সিস্টেম রয়েছে। এটি আর্নালা শ্রেণির চতুর্থ অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ। অগভীর সমুদ্রে শত্রু সাবমেরিন মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। সমুদ্রের নিচ থেকে আসা যেকোনো হুমকি মোকাবিলার জন্য এতে টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার রয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ভারতীয় নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তিনটি জাহাজই সমুদ্রযুদ্ধ, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন অভিযানে সক্ষম। এগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত। জাহাজগুলোর নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। আর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)।

ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্যমতে, উদ্বোধনের পর তিনটি জাহাজই সমুদ্রে একযোগে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে। দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েই জাহাজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যবহৃত উপকরণের ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়। জাহাজ নির্মাণে ২০০টির বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত
বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি বিড়াল চুরি করে মাংসের জন্য বিক্রির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে বিড়াল ধরার ফাঁদ, পশম তোলার মেশিন ও ডিজিটাল স্কেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ভিয়েতনামে ২৭০০ বিড়াল চুরি করে মাংস বিক্রি
যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা
ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই
ভারতের প্রখ্যাত আলেম, সাহিত্যিক ও দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লখনৌর মুহতামিম মাওলানা ড. সাঈদুর রহমান আজমি নদভী ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে তিনি মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ উপমহাদেশের ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে দ্বীনি শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ধর্মীয়-সাহিত্যিক সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী দীর্ঘদিন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাধারা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আনুমানিক ১৯৩৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের মউ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান। ১৯৫২ সালে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন তিনি। সেখানে মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী হাসানি নদভী (রহ.)-সহ সে সময়ের খ্যাতিমান আলেমদের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন। আরবি ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন মাওলানা সাঈদুর রহমান। শিক্ষকতা ও ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিতি লাভ করেন। নদওয়াতুল উলামার ঐতিহ্যবাহী আরবি মাসিক ‘আল-বায়সুল ইসলামী’ পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। লেখালেখি ও সম্পাদনার মাধ্যমে আরবি ভাষা, ইসলামি জ্ঞান এবং নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা পাঠকদের কাছে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও দ্বীনি সেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে দীর্ঘদিনের শিক্ষা, দ্বীনি ও সাহিত্যিক অবদানের জন্য জয়পুরের জামিয়া হিদায়া তাকে আজীবন সম্মাননা দেয়। তার ইন্তেকালে আলেম, শিক্ষক, লেখক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকে। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন তারা। আরটিভি/এসকে  
ভারতের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভী আর নেই
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
ভারতে অন্যায্যভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল পর্যায়ে পৌঁছেছে বিক্ষোভ। দ্বিতীয় দিনের মতো এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা। তবে, আগের দিনের মতো এবারও কংগ্রেসের নেতৃস্থানীয় এই দুই ভাই-বোনকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাহুল ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি আন্দোলনরত আরও অনেকজনকে টেনেহিঁচড়ে অপেক্ষমাণ পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। । এর আগে, গতকাল মঙ্গলবারও (৬ অক্টোবর) একই ইস্যুতে অবস্থান ধর্মঘটে বসার পর গান্ধী পরিবারের এই ভাই-বোনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলে আবারও বাধা দেয় পুলিশ। পূর্বানুমতি না নেওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে দেওয়া হয়। এদিন দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় কৌশল নির্ধারণী মধ্যাহ্নভোজ শেষ করে সংসদ সদস্যরা যন্তরমন্তরের দিকে রওনা হলে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে। শুরুতে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের একটি বাসে নিয়ে বসানো হয়। কিন্তু পুলিশ যখন অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের আটক করতে যায়, তখন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বাস থেকে নেমে রাস্তার ওপরই বসে পড়েন। পুলিশ বারবার সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা রাস্তায় বসে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাস্তায় শুয়ে পড়ে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কি এভাবে আচরণ করা হয়? এটি নজিরবিহীন। আমরা এখান থেকে এক চুলও নড়বো না।’ পরবর্তীতে পুলিশ দুই ভাই-বোনকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক বাসে তুলে থানায় নিয়ে যায়। আরটিভি/এসএইচএম
আবারও রাহুল-প্রিয়াংকাকে টেনেহিঁচড়ে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
আরও পড়ুন
এবার ভারতে ককরোচ পার্টির ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
মোদিকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিলেন শ্রীলেখা, সঙ্গে আরও যা লিখলেন ফেসবুকে
জেন-জিদের মন জয়ে মোদির নতুন কৌশল