ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সিঙ্গাপুরে চুরি করে ধরা খেলেন দুই ভারতীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
চাঙ্গি বিমানবন্দরে দেশ ছাড়ার আগেই আটক করা হয় অভিযুক্তদের। ছবি: সংগৃহীতআন

সিঙ্গাপুরের চায়নাটাউনের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার) মূল্যের একটি হিরা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন দুই ভারতীয় নাগরিক।

আসল হিরার পরিবর্তে একই আকার ও নম্বরের নকল হিরা রেখে পালানোর কৌশলও নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পুরো ঘটনাই ধরা পড়ে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। পরে দেশ ছাড়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী মাঙ্গরোলিয়া মনোজকুমার কুরজিভাইকে দুই বছর দুই মাস দুই সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত। তিনি চুরির অভিযোগ স্বীকার করার পর গত ১৭ জুলাই আদালত এ রায় দেন।

একই মামলার অপর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী সেরাসিয়া মিলান রামনিকভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, দুই অভিযুক্ত ভিজিট পাসে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করেন। সেখানে যাওয়ার আগে ভারতের সুরাটে তারা আসল হিরার আকৃতি, ওজন ও সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে একটি নকল হিরা তৈরি করান। উদ্দেশ্য ছিল দোকানের কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসল হিরা বদলে নকলটি রেখে চলে যাওয়া।

আরও পড়ুন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মনোজকুমার দোকানের বিক্রয় ব্যবস্থাপককে বিভিন্ন গয়না দেখানোর অনুরোধ করে ব্যস্ত রাখেন। সেই সুযোগে মিলান মুখে লুকিয়ে রাখা নকল হিরাটি বের করে প্রদর্শনের জন্য আনা ৪ দশমিক ৯৫ ক্যারেটের আসল হিরার সঙ্গে অদলবদল করেন। এরপর আসল হিরাটি মুখে লুকিয়ে ফেলেন।

তবে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। দুই ব্যক্তি দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিক্রয় ব্যবস্থাপক বিশেষ পরীক্ষার যন্ত্রে হিরাটি পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সেটি আসল নয়।

ঘটনার পরপরই দুই অভিযুক্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই হোটেল থেকে চেক-আউট করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় ভারতের উদ্দেশে বিমানের টিকিট বুক করেন। কিন্তু চাঙ্গি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ অভিবাসন কার্যক্রম শেষ করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে মিলানের ব্যাগ তল্লাশি করে চুরি হওয়া আসল হিরাটি উদ্ধার করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র চুরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন। অপরাধ সংঘটনের আগে থেকেই নকল হিরা তৈরি করা, আসল হিরা অদলবদলের কৌশল নির্ধারণ এবং দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের প্রমাণ।

অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজকুমার আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে জানান, ভারতে তার দুই সন্তান রয়েছে। তিনি আদালতের কাছে কম শাস্তির আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ধরন, পরিকল্পনা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় আদালত কারাদণ্ডের রায় দেন।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
আরও পড়ুন
ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড
‘আমার বাবা ভালো বাবা’
মোবাইলে যেভাবে দেখবেন সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশের খেলা
গরু চুরি রোধে বাঁশের ‘ব্যারিকেড’, রাত জেগে পাহারা