গাজায় বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের দেশ ছেড়ে পালানোর হিড়িক পড়েছে। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানে ক্রমাগত সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে তোলার জেরে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার নাগরিক নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছেন অন্যান্য দেশে।
ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওত আহরোনোত’–এ প্রকাশিত তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশ ছাড়ার এই প্রবণতা রেকর্ড গতিতে বেড়েছে। সমীক্ষার তথ্যমতে, গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ইসরায়েলি স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০৯ জন, ২০২৪ সালে ৯১ হাজার ৪৯৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৯০ হাজার ৯২২ জন নাগরিক দেশ ছাড়েন, যারা টানা অন্তত তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে আর দেশে ফেরেননি।
গবেষণায় দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে ৬০ হাজারের মতো মানুষ ইসরায়েল ছাড়তেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই চিত্র বদলে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে অন্তত ৯০ হাজার মানুষ পালাচ্ছেন।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবী। চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রকৌশলী ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরাই বেশি হারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ইসরায়েলের মেধাভিত্তিক অর্থনীতি এতে মারাত্মক ধসের মুখে পড়ছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের এই গণহারে দেশত্যাগের ঘটনাকে ‘গভীর সংকট’ বলে সতর্ক করেছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে থাকায় নিরাপত্তার আশায় পালিয়ে যাওয়া এসব নাগরিকেরা নিকট ভবিষ্যতে নিজ দেশে আদৌ ফিরবেন কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/এআর



