
নেপালের একটি মসজিদে হামলার সময় এক পা না থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে আলোচনায় আসা শেখ রহিমুল্লাহ এবার সৌদি আরবে সম্মানিত হয়েছেন। বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার জন্য কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নেপালের রাউতাহাট জেলার। গত জানুয়ারির শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পা না থাকা সত্ত্বেও ক্রাচ ও হাতে লাঠি নিয়ে মসজিদে হামলা করতে আসা একটি দলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শেখ রহিমুল্লাহ।
ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনেও তার সাহসী ভূমিকার কথা উঠে আসে। শেখ রহিমুল্লাহর এই সাহসিকতার স্বীকৃতিতে তুরস্কের একটি দাতব্য সংস্থা বাংলাদেশে নির্মিত একটি মসজিদের নামও তার নামে রেখেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধন হওয়া মসজিদটির নাম দেওয়া হয় ‘নেপালি মসজিদ রক্ষাকারী শেখ রহিমুল্লাহ মসজিদ’।
তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে সৌদি আরবের কয়েকজন সমাজকর্মী তাকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর নেপালের রামপুরের ৩২ বছর বয়সী শেখ রহিমুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যায়।
এরপর সৌদি দাতা ও আয়োজকদের সহায়তায় গত ৫ আগস্ট বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান রহিমুল্লাহ। মক্কায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় সৌদি নাগরিকরা তাকে ও তার পরিবারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং উপহার দিয়ে সম্মানিত করেন।
শুধু ওমরাহ পালনের সুযোগই নয়, একটি সৌদি সংগঠন রহিমুল্লাহর জন্য কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নিয়েছে। এক পা হারানোর পর তার জীবনে নতুনভাবে চলার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের কেরালার তরুণ মুসলিম কনটেন্ট নির্মাতা মোহাম্মদ রাফি সৌদি আরবে অবস্থানকালে রহিমুল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। তিনি আরব নিউজকে জানান, সৌদিতে পাওয়া ভালোবাসা ও আতিথেয়তায় রহিমুল্লাহ ও তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন।
গত ১৪ আগস্ট বাবা-মাকে নিয়ে নেপালের উদ্দেশে সৌদি আরব ছাড়েন শেখ রহিমুল্লাহ। সঙ্গে নিয়ে যান মক্কা ও মদিনায় কাটানো স্মৃতি এবং সৌদি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে মসজিদ রক্ষায় সামনে দাঁড়ানো সেই সাহসী নেপালি যুবকের গল্প এখন দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
সূত্র: আরব নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


