
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠেছিল সাত সদস্যের একটি পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে যায় তাদের নতুন বাড়ি। বাড়িতে ওঠার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণ বাঁচাতে ঘর ছাড়তে হয় পরিবারের সবাইকে।
ঘটনাটি গত ১ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্পোকেন কাউন্টিতে। সেদিনই পরিবারটি নতুন বাড়িতে জিনিসপত্র নিয়ে ওঠে। ঘরের ভেতর তখনো ছিল স্থানান্তরের বাক্স। অনেক জিনিসপত্রও ঠিকমতো গোছানো হয়নি।
এর মধ্যেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ভয়াবহ ওল্ড ট্রেইলস দাবানল। প্রথমে পরিবারটি ধারণা করেছিল, আগুন হয়তো তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে না। কিন্তু ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা আর অপেক্ষা করেনি।
প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান পরিবারের সাত সদস্য। শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে বের হতে পারলেও আগুন থেকে বাড়িটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, নতুন বাড়িটিতে পরিবারটি এক রাতও কাটাতে পারেনি। যে বাক্সগুলো খুলে নতুন করে সংসার সাজানোর কথা ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই আগুনে পুড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িতে ছিল নতুন শুরুর আনন্দ, দাবানল সেটিকে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে।
তবে এই পরিবারটির ক্ষতি ছিল ভয়াবহ দাবানলের একটি অংশ মাত্র। ১ আগস্ট প্রচণ্ড গরম ও শক্তিশালী বাতাসের মধ্যে স্পোকেন এলাকায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের কারণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। ধ্বংস হয় ৬০০টির বেশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় স্পোকেন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। জরুরি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে কাউন্টি কমিশনাররা জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেন। স্পোকেনের মেয়র লিসা ব্রাউন দাবানলটিকে এলাকার অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে ওল্ড ট্রেইলস দাবানল কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরে স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক কর্মকর্তারা অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩৭ বছর বয়সী ফারিনাচ্চির বিরুদ্ধে ওল্ড ট্রেইলস দাবানল শুরু করার অভিযোগ রয়েছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ১১ আগস্ট ওল্ড ট্রেইলস রোড ও অটাম লেন এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা তুলে নেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ, বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার ও অন্যান্য কাজ চলতে থাকে।
আগুন থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সামনে এখন নতুন করে জীবন গড়ার কঠিন লড়াই। কেউ পুড়ে যাওয়া বাড়িতে ফিরে খুঁজছেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কেউ খুঁজছেন আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া সামান্য কিছু স্মৃতি। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছেন।
সাত সদস্যের এই পরিবারের নতুন শুরুটা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেছে। মাত্র সাত ঘণ্টা আগে যে বাড়িতে তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে উঠেছিলেন, কয়েক ঘণ্টা পর সেই বাড়ি ছেড়ে তাদের পালাতে হয়েছে প্রাণ বাঁচাতে।
বাড়ি ও বহু জিনিসপত্র হারালেও পরিবারের সাত সদস্যই বেঁচে আছেন। ভয়াবহ সেই রাতের পর এটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আরটিভি/জেএমএ


