
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত অধ্যাপক জেসন আরডের বিরুদ্ধে লেখা চুরির অভিযোগ তোলা এক গবেষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও নৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক নাথান কোফনাস নিজেকে ‘জাতিগত বাস্তবতাবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেন। জেসন আরডের গবেষণা ও বিভিন্ন অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আলোচনার জন্ম দেন। আরডের মৃত্যুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে ঘিরে লেখা চুরির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছিল।
কোফনাস দাবি করেন, জেসন আরডের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগে ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক কর্মীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক শৃঙ্খলাজনিত তদন্তের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেসন আরডের মৃত্যু নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পেত্রা ডে সুটার ও উপ-উপাচার্য হারভিগ রেইনার্ট জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষকের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্যকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তারা মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বৈষম্য, ঘৃণা ও বর্ণবাদের বিরোধী। একই সঙ্গে তারা শিক্ষাগত স্বাধীনতা ও খোলামেলা বিতর্কের গুরুত্বে বিশ্বাসী হলেও এই স্বাধীনতা সীমাহীন নয়। অন্যের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এর ব্যবহার দায়িত্বশীল হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জেসন আরডের মৃত্যু শিক্ষাজগৎ ও এর বাইরের মানুষের পারস্পরিক আচরণ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি যখন প্রকাশ্য বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন, তখন তার সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
কোফনাসের বিরুদ্ধে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বর্ণ ও মেধা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ২০২৪ সালে কেমব্রিজের একটি কলেজে তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রকৃত মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে খেলাধুলা ও বিনোদনের বাইরে উচ্চপর্যায়ের অনেক পদে কৃষ্ণাঙ্গদের উপস্থিতি প্রায় বিলীন হয়ে যাবে।
জেসন আরডের বিরুদ্ধে লেখা চুরির অভিযোগ তুলে কোফনাস দাবি করেন, বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তার লেখা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, অনেক অংশ সামান্য পরিবর্তন করে অন্য উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও মূল লেখার সম্পাদনাগত ভুলও থেকে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আরডের কয়েকটি গবেষণামূলক লেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে দুটি গবেষণা সাময়িকী সংশ্লিষ্ট লেখাগুলোতে সংশোধনী প্রকাশ করে।
জেসন আরডের কিছু ব্যক্তিগত অর্জন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি ৩৫ দিনে ৩০টি দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়, তিন দিনে ৩০০ মাইল দৌড় এবং দাতব্য কাজের জন্য ছয় দিনে দৌড়যন্ত্রে ৬০০ মাইল দৌড়ানোর দাবি করেছিলেন। তিনি এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ দাতব্য কাজে সংগ্রহ করেছিলেন বলেও দাবি করেন।
২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান জেসন আরডে। পরে গত ১৪ আগস্টে দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে তিনি শিক্ষাবিষয়ক সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
৪১ বছর বয়সী জেসন আরডে মৃত্যুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে লেখা চুরির অভিযোগ এবং তার বিভিন্ন অর্জন নিয়ে প্রশ্নের কারণে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
আরটিভি/জেএমএ




