
প্রযুক্তিবিশ্বের জনপ্রিয় মানচিত্র সেবা গুগল ম্যাপে ঐতিহাসিক ‘লেক অন্টারিও’ লিখে অনুসন্ধান চালিয়ে আর কোনো ফল পাচ্ছেন না ব্যবহারকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হ্রদটির নাম গুগল ম্যাপে এখন ‘লেক আমেরিকা’ দেখাচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট), যখন কানাডার সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হ্রদটির নাম পরিবর্তনের আদেশে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনিক নির্দেশনার পর দেশটির দাপ্তরিক সংস্থা ‘জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম’ (জিএনআইএস) তাদের তালিকায় লেক অন্টারিওর নাম সংশোধন করে ‘লেক আমেরিকা’ অন্তর্ভুক্ত করে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সার্চ জায়ান্ট গুগল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে, যেকোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক নামকরণে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি তথ্যভান্ডার অনুসরণ করে থাকে। সেই আন্তর্জাতিক নীতির আলোকেই যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার ভেতর গুগল ম্যাপস ব্যবহারকারীদের স্ক্রিনে ‘লেক আমেরিকা’ ভেসে উঠছে। তবে কানাডায় অবস্থানরত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ হিসেবেই সংরক্ষিত রয়েছে। আর উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের বাইরে অন্য দেশের ব্যবহারকারীরা মূল নামের পাশে বন্ধনীতে নতুন নাম দেখার সুবিধা পাচ্ছেন।
গুগল ম্যাপে এই তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন শোয়াং গুগল ম্যাপসের এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট করেন।
অবশ্য গুগলের এই পদক্ষেপের পর কানাডার সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ভৌগোলিক পরিবর্তন তাদের ভূখণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের কাছে হ্রদটির নাম চিরকাল ‘লেক অন্টারিও’ থাকবে।
উল্লেখ্য, গুগল ম্যাপস ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করে পরিবর্তন আনলেও অ্যাপল ম্যাপস ও ম্যাপকোয়েস্টের মতো অন্যান্য ডিজিটাল মানচিত্র সেবায় হ্রদটির পুরোনো নাম বহাল রাখা হয়েছে।
আরটিভি/এআর




