
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বাড়ালে ইসরায়েল একপর্যায়ে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে কড়াভাবে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে এবং একপর্যায়ে নিজেদের শক্তি সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার ক্ষমতাই হারাতে পারে ইসরায়েল।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ দাবি করেন, যুদ্ধকে আরও তীব্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে সংঘাতে জড়ানোই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য।
আপতি আলাউদিনভ বর্তমানে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান ও আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।
আলাউদিনভ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র হবে—এ বিষয়টি সবার বুঝতে হবে। সংঘাত যতটা সম্ভব বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে টেনে আনাই ইসরায়েলের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েল নিজেদের শক্তিকে অনেক বেশি বড় করে দেখবে। আর এর পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অস্তিত্বই হয়তো থাকবে না।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার ইরানকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক সামগ্রীর এক চালান পাঠিয়েছে রাশিয়া। সম্প্রতি এই বিশাল অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান নিয়ে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছেছে ২ ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ।
গোয়েন্দা নথি এবং পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি।
ইরানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে যেসব জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো সব রুশ জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি এমজি-ফ্লোটের তৈরি। ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে কোম্পানিটি।
২০২৫ সালের জানুয়ারি ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ নামে একটি ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তেহরান এবং মস্কোর মধ্যে। এই চুক্তির শর্ত অনুসারে, আগামী ২০ বছর পর্যন্ত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে রাশিয়া ও ইরান।
এই চুক্তির অনেক আগে থেকেই অবশ্য রাশিয়াকে সহযোগিতা করে আসছে ইরান। বিশেষ করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে নিয়মিত নিজেদের তৈরি লাদেন বা সুইসাইড ড্রোন শাহেদ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ইরান। রাশিয়া আবার নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শাহেদ ড্রোনের মান ও বিধ্বংসী ক্ষমতার উন্নয়নও করেছে।
আরটিভি/এসএইচএম


