
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হামলার ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হামলার শিকার ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারী কো-পাইলটকে আটক করেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।
রোববার (৪ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ এ ঘটনা ঘটে। বিমানটির ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালান এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেল।
ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার কয়েক মিনিট আগে কো-পাইলট হামামি তাকে জানান, তিনি নামাজ পড়তে চান। এর চার থেকে পাঁচ মিনিট পরই মাচ্ছারের মাথার পেছনে হঠাৎ প্রচণ্ড আঘাত আসে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, বিমানে হয়তো বিস্ফোরণ ঘটেছে কিংবা কোনো যান্ত্রিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কিন্তু পরপর আরও আঘাত আসতে থাকলে তিনি বুঝতে পারেন, কো-পাইলটই তাকে আক্রমণ করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় মাচ্ছারের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি অনুভব করেন, বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। প্রথমবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে হামামি তাকে বাধা দেন।
ককপিটের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় বাইরে যাত্রীদের চিৎকার শুনতে পান মাচ্ছার। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে নিজেকেই কিছু করতে হবে। শেষ শক্তিটুকু দিয়ে তিনি দরজার কাছে গিয়ে সেটি খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটে ঢুকে হামামিকে আটক করেন।
যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানান, ককপিটে ঢুকে তিনি হামামিকে বিমানের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি হামামিকে গলা ধরে নিয়ন্ত্রণযন্ত্র থেকে সরিয়ে দেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে বেঁধে ফেলেন।
হামামিকে সরানোর পর বিমানটি মাটির দিকে নেমে যেতে দেখেন হায়ুন। তিনি নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ধরে বিমানটিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন। পরে বিমানে থাকা একজন অফ-ডিউটি পাইলট দায়িত্ব নিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
এদিকে, হামামির অতীত নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে উড্ডয়ন থেকে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনাটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন দেশটির কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, হামামি এর আগে একই দুবাই-তেল আবিব রুটে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন।
এ ঘটনার পর বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলে যাতায়াতকারী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আরটিভি/এসকে



