ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ এএম
তুরস্কের পার্লামেন্টে অধিবেশন চলাকালে একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। চুক্তিতে যৌথ প্রতিরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে দেশটিকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এতথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার মধ্যেই চুক্তি অনুমোদন করা হলো। এর আগে গত আগস্টে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষর করে তুরস্ক।

এরপর গত মাসে অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়। গত বুধবার চুক্তি অনুমোদনের প্রস্তাবের প্রথম অনুচ্ছেদ গ্রহণ করে তুরস্কের পার্লামেন্ট। তবে এরপর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত স্থগিত করেন।

বৃহস্পতিবার অধিবেশন আবার শুরু হলে চুক্তির বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করেন তুর্কি আইনপ্রণেতারা। শেষ পর্যন্ত ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।

তুরস্কের পার্লামেন্টে জমা দেওয়া চুক্তির নথি অনুযায়ী, চুক্তিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলো একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে এই অনুচ্ছেদ কার্যকর করা যাবে।

প্রথম অনুচ্ছেদ কার্যকর হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা-ও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘অন্য কোনো দেশ বা দেশগুলোর জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে চুক্তির অন্য পক্ষগুলো তাদের হাতে থাকা পারস্পরিক সহায়তার সব উপায় কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা দেবে।’

চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারা নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের (আর্টিকেল ফাইভ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমেই ন্যাটো সামরিক জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জোটের কোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে তুরস্ক একইসঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সামরিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা এ ধরনের উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

মক্কা চুক্তির অন্য অনুচ্ছেদগুলোতে প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রতিপক্ষকে আগেই নিরুৎসাহিত করা।

এসব অনুচ্ছেদের আওতায় সদস্য দেশগুলো যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হবে। তুরস্কের আইনপ্রণেতাদের অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো ১০ বছর এই চুক্তির আওতায় থাকবে। এরপর চাইলে কোনো দেশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে।

চুক্তিতে অন্য দেশগুলোর যোগ দেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বর্তমান সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে সিরিয়ার সরকার চুক্তিতে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদিত হলেও হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েন করা হবে কি না—তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের গত অক্টোবরে বলেছিলেন, চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি আরবকে সম্ভাব্য সহায়তার পরিধি নির্ধারণ করা হবে।

তুরস্কের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গুলের বলেছেন, হুতিদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিষয়টি আমরা একেবারেই বিবেচনা করছি না। বরং তুরস্কের সহায়তার লক্ষ্য হবে ‘প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা’।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে ইরান সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর এই সংঘাতের উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা প্রাণঘাতী হামলাও চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই সংঘাতও সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি।
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
নেতানিয়াহুর ক্ষমতা কি এবার শেষ? রোববার ইসরায়েলের নতুন সরকারপ্রধানের নাম ঘোষণা
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য রোববার (৮ নভেম্বর) একজন প্রার্থী মনোনীত করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
নেতানিয়াহুর ক্ষমতা কি এবার শেষ? রোববার ইসরায়েলের নতুন সরকারপ্রধানের নাম ঘোষণা
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট!
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি।
ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে এগিয়ে আইজেনকট!
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। খবর গালফ নিউজের মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এনসিএম জানায়, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, ধূলিঝড় এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডার, হাইল ও নাজরান অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মক্কা নগরী ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আদহাম ও আল আরদিয়াত এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিগ ও খুলাইস এলাকায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। এনসিএম আরও জানিয়েছে, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও টর্নেডো ও জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া কেন্দ্রের হালনাগাদ পূর্বাভাস ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ আরটিভি/এসকে
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
আরও পড়ুন
১২ দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ছাড়পত্র না দেওয়ার নির্দেশ
একনেকে অনুমোদন পেল নতুন ১১ প্রকল্প
কপ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ