
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি করা বহুল ব্যবহৃত একটি শিল্প-রাসায়নিক পণ্যের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে।
বেইজিংয়ে ইইউর বাণিজ্য বিষয়ক প্রধানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে শনিবার এই তদন্ত শুরু করা হয়।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দেশটির স্থানীয় শিল্পের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইইউ থেকে কম দামে পি-নাইট্রোটলুইন আমদানি করে চীনের বাজারে অতিরিক্ত পণ্য ঢোকানো হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পি-নাইট্রোটলুইন রং, ওষুধ ও কীটনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক উপাদান।
বেইজিং ও ব্রাসেলসের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা ধীরে ধীরে বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
ইইউর ২৭টি দেশ চীনের বিপুল পরিমাণ রপ্তানির কারণে নিজেদের শিল্পকে রক্ষার চেষ্টা করছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, চীনা কোম্পানিগুলো ব্যাপক সরকারি ভর্তুকি পাওয়ায় তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে।
তবে বেইজিং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
চীন বলছে, তার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কেবল সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়।
ইইউ চীনা কোম্পানির ওপর বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে বেইজিং।
ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ এবং চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও আগামী বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন।
দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বৃদ্ধি ঠেকানোই হবে আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে, সেপ্টেম্বরে চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল ইইউ।
চীনের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা। তবে প্রয়োজনে তদন্তের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চীন বারবার ইইউকে তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমস্যাগুলো সরাসরি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে দুই পক্ষের উদ্বেগ আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছে বেইজিং।
সূত্র: এএফপি।
আরটিভি/টিআর


