
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ প্রায় ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম-অধ্যুষিত চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স বলছে, রোববার রাশিয়ায় জাতীয় সংসদ, আঞ্চলিক আইনসভা ও গভর্নর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য এই নির্বাচনকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ক্রেমলিন-সমর্থিত দল ও প্রার্থীরা ব্যাপক জয় পেয়েছেন।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চেচনিয়ায় কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট। ছোট ও পাহাড়ি এই অঞ্চলের নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে অতীতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
কাদিরভ অবশ্য এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে এগুলোকে তার শাসন দুর্বল করার পশ্চিমা-সমর্থিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেন। তিনি নিয়মিতই পুতিনের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে তার চেচেন বাহিনী সেখানে লড়াই করছে।
পুতিনের কাছ থেকে ব্যাপক স্বাধীনতা পেয়ে কাদিরভ চেচনিয়াকে অনেকটাই নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের মতো পরিচালনা করেন। এর বিনিময়ে ইসলামপন্থি ও রাশিয়াবিরোধী বিদ্রোহে উত্তাল ১৯৯০-এর দশকের পর অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
কাদিরভের ক্ষমতায় উত্থান ঘটে তার বাবা আখমাত কাদিরভের মৃত্যুর পর। ২০০৪ সালে বিদ্রোহীদের চালানো এক বোমা হামলায় আখমাত নিহত হন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাদিরভের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
এর মধ্যে সাংবাদিক ও সমকামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন কাদিরভ।
আরটিভি/এসআর


