
চাকরির সাক্ষাৎকারে এক নারীকে তার পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) এক প্রতিনিধি। ভারতের শাতাক্ষী দ্বিবেদী নামের ওই চাকরিপ্রত্যাশী নারীকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন দ্বিবেদী। তিনি বলেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাকে করা সবচেয়ে অনুপযুক্ত প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
দ্বিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারের শুরুতে তার বাসস্থান এবং অফিসে যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি জানান, অফিসে যাতায়াত করতে তার কোনো সমস্যা হবে না। তার স্বামীও একই এলাকায় যাতায়াত করেন, ফলে প্রয়োজনে তিনি স্বামীর সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন।
তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে এইচআর প্রতিনিধি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘একটা প্রশ্ন করতে আপনার আপত্তি নেই তো? আপনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাই তো?’
প্রশ্নটি শুনে হতবাক হয়ে যান দ্বিবেদী। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বাস্তবে তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা বৈপরীত্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
দ্বিবেদী বলেন, ‘এরপর আমরা আবার কাচের ছাদ ভাঙার কথা বলি। এসব প্রতিষ্ঠানই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলে।’
তবে কোন প্রতিষ্ঠানে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি দ্বিবেদী।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাদেরও বিয়ে, সন্তান নেওয়া এবং পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সাক্ষাৎকারে অবিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে বিয়ে করবেন। বিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে সন্তান নেবেন। সন্তান থাকলে জানতে চাওয়া হয়, কাজ আর সন্তান কীভাবে সামলাবেন। অর্থাৎ, ২২ বছর বয়স থেকে শুরু করে চাকরি ছাড়ার আগ পর্যন্ত, এমনকি ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত এই দ্বিমুখী মানসিকতার সমাজে সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন চলতেই থাকবে।’
আরেক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে। তারা সরাসরি আমার সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ২০২৬ সালেও নারীদের এমন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’
তৃতীয় এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘জবাবটা এমন হওয়া উচিত ছিল, “দুঃখিত, আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ আমি মেনে নিই না।” অথবা শুধু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে চুপ থাকা উচিত।’
ঘটনাটি আবারও চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরটিভি/এসকে


