ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমরান খানের আপডেট নেই ছেলেদের কাছে, কী ঘটেছে তার সঙ্গে? 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বেঁচে থাকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠে গেছে। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই বলে দাবি করেছেন তার ছেলে কাসিম ও সুলাইমান।

তাদের দাবি, গত সাত মাস ধরে চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের কেউই দেখা করতে পারছেন না ইমরান খানের সঙ্গে।

কাসিম ও সুলাইমান ইসা খান বলেন, আমাদের কাছে বাবার কোনো আপডেট নেই। কারণ, গত সাত মাস ধরে পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদেরকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। খবর সিএনএনের

এ অবস্থায় ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) হাজারো নেতাকর্মী। এসব কর্মসূচি থেকে সাবেক এই ক্রিকেটার ও রাজনীতিক এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পতন হয় তার সরকারের। এরপর ২০২৩ সালে দুর্নীতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য প্রকাশসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার সাজা হয়। তবে, ইমরান খান ও তার সমর্থকেরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তাদের মতে, বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করার কারণেই এসব মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন। ২০০৪ সালে ইমরান খানের সঙ্গে তাদের মা জেমিমা গোল্ডস্মিথের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে লন্ডনে আছেন তারা।

বাবার কারাবন্দিত্বের পর থেকেই তারা তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার। কাসিম ও সুলাইমান দাবি করেন, গণমাধ্যমে বাবার বিষয়ে কথা বলার পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে নতুন নতুন বাধা তৈরি করে। কখনো তাদের ভিসা দিতে দেরি করা হয়েছে, আবার কখনো বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তাদের আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

কাসিম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, আমরা যেতে চাই। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমাদের ভিসা না দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে, কাসিম ও সুলাইমানের এই অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুজনের কাছেই ওভারসিজ পাকিস্তানিজদের জন্য ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড রয়েছে। এই কার্ড থাকলে পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য তাদের ভিসার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু, কাসিম ও সুলাইমান জানিয়েছেন, তাদের ওই কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং সেগুলো নবায়ন করা হয়নি। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের এই দাবি নিয়ে কোনো জবাব দেয়নি।

ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি বলেছে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। একইসঙ্গে তাদের একাকী বন্দিত্বও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের একাকী বন্দিত্ব আইনসম্মত নয়।

এদিকে, ইমরান খানকে সাত মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে— এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, ইমরান খান তার পরিবার ও অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ ইমরান তার এক ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছেন। এই ফোনকলই প্রমাণ করে যে ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বরং পাকিস্তানের কারাগারের নিয়ম, আদালতের নির্দেশ, অনুমোদিত সময়সূচি এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ বন্দির নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে তার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ইসলামাবাদের দাবি, ইমরান খান বর্তমানে সচেতন ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থায় কোনো গুরুতর বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অবনতি হয়নি।

সরকার আরও জানিয়েছে, ইমরান নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও ফলোআপ পাচ্ছেন। কারাগারের নিয়ম ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইমরান কারাগারে কী ধরনের পরিবেশে থাকছেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বলা হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একটি বিশেষ সাত কক্ষের কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ওই স্থাপনাটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির জন্য তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ৫৭ ফুট বাই ১৪ ফুটের একটি করিডর এবং ৩৫ ফুট বাই ৩৭ ফুটের একটি লন রয়েছে। এছাড়া, সেখানে একটি বিছানা, গদি, চারটি বালিশ, কম্বল, টেবিল, চেয়ার, স্যানিটেশন সুবিধা এবং ব্যায়ামের সরঞ্জামও রয়েছে।

পাকিস্তান সরকারের দাবি, ইমরানের থাকার এই ব্যবস্থা তাকে বিচ্ছিন্ন, অবহেলিত বা শাস্তিমূলকভাবে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।

তবে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো পাকিস্তান সরকারের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর আগে ইমরানের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সমর্থকদের ব্যাপক গ্রেপ্তারকে ইচ্ছামতো আটক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের দলের অনেক নেতাকর্মী এখনও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জনকে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য নিয়ে সন্তুষ্ট নন ইমরান খানের দুই ছেলেও। কাসিম জানান, তাদের বাবার কোনো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন তাদের দেখানো হচ্ছে না। ফলে কারাগারে থাকার সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থার কতটা অবনতি হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

তিনি বলেন, তারা আমাদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দেখাতে অস্বীকার করছে। তাই তার স্বাস্থ্য এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়ে থাকতে পারে।

ইমরানের দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন কাসিম। তার দাবি, পিটিআইয়ের অনেক নেতা-কর্মী এখনো সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জনকে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

ইমরান খান পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতায় যাবেন কি না—এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন তার দুই ছেলে।

সুলাইমান বলেন, তার বাবা এমন কোনো সমঝোতায় রাজি হবেন না, যার ফলে অন্য রাজনৈতিক বন্দিরা কারাগারেই থেকে যাবেন। অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের সমাধান না হলে ইমরান এককভাবে সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবেন না বলেই মনে করেন তিনি।

কাসিমও মনে করেন, ইমরানের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

ইমরানের দুই ছেলে শুধু তাদের বাবার মুক্তি নয়, পাকিস্তানের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাসিম বলেন, আমি জানি, অনেক কিছুই ঘটছে। কিন্তু এটি সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়গুলোর একটি। শুধু ছেলে হিসেবে নয়, পুরো দেশের জন্যই এটি খুবই হতাশাজনক।

কাসিম আরও বলেন, ৩৫ কোটি মানুষ ইমরান খানকে ভোট দিয়েছে, তাকে সমর্থন করে এবং চায় তিনি দেশ পরিচালনা করুন। অথচ তাদের পছন্দের সেই ব্যক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং তিনি কোনো ভালো কারণ ছাড়াই কারাগারের পেছনে রয়েছেন।

ইমরান খানের দুই ছেলের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তার কারাবন্দিত্ব, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। 
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ
চেয়ারের চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব শোবার ঘরে
গাড়িটি চার চাকার। তবে চওড়ায় মাত্র ৫০ দশমিক ২ সেন্টিমিটার বা ১ ফুট ৮ ইঞ্চির মতো। আমরা ঘরে বা কার্যালয়ে যে ধরনের প্লাস্টিক চেয়ার ব্যবহার করি, গাড়িটি তার চেয়েও সরু।
চেয়ারের চেয়েও গাড়ি সরু, ঢুকিয়ে রাখা সম্ভব শোবার ঘরে
জামায়াতকে ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের
পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখতে জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।  সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদমুখী মার্চ নিয়ে জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করেন শেহবাজ। এ সময় তিনি জামায়াতের ইসলামাবাদমুখী মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। তবে লং মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দলটির আমির। জবাবে হাফিজ নাঈম বলেন, সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বা সংঘাতের মুখে ফেলা জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন এবং প্রতিবাদ করার অধিকার সরকারকে সম্মান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সরকারের অনুরোধে মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াত ছাড়বে না। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম বলছে, পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে হাফিজ নাঈমের নেতৃত্বে জামায়াতের ট্রেন মার্চ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মুলতানে পৌঁছায়। সেখানে রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ট্রেনটি চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছেছে। তবে এই বিলম্বও সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানাতে আসা ঠেকাতে পারেনি। হাফিজ নাঈম বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা মুলতানে আমাদের স্বাগত জানাতে কত মানুষ বেরিয়ে এসেছে, তা দেখুক।’ বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন শহর ও জনপদেও একইভাবে মানুষ জামায়াতের এই মার্চকে স্বাগত জানাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন এই মার্চ দক্ষিণ পাঞ্জাব হয়ে মধ্য পাঞ্জাবে যাবে বলেও জানান তিনি। সরকারের উদ্দেশে পাকিস্তান জামায়াতের আমির বলেন, রাস্তায় কনটেইনার ফেলে, বাধা দিয়ে এই মার্চ থামানো যাবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জনগণকে স্বস্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি। জামায়াতের আমির বলেন, তারা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরছেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি। হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে। চিনি আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও সমালোচনা করেন তিনি। স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি নিয়েও জামায়াতের আগের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওই ক্ষেত্রেও দলটি জনগণের স্বার্থ তুলে ধরেছিল বলে দাবি করেন জামায়াতের আমির। সংবাদমাধ্যম বলছে, গত রোববার পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে করাচি থেকে লং মার্চ শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। পরে ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সেই আন্দোলন ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দলটি দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও করেছে। এর আগে দাবিগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনাও করেছে জামায়াত। এদিকে মুলতানে পৌঁছানোর পর জামায়াতের এই বহর লাহোরের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর লং মার্চের শেষ ধাপে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। আরটিভি/এসআর
জামায়াতকে ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের
তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ
পেট্রোলিয়াম লেভি বা জ্বালানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক বাতিল করা না হলে চলমান বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানি জামায়াতের ট্রেনমার্চ
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে তুমুল গোলাগুলি, ১৬ পুলিশসহ নিহত ৩১
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বড় ধরনের হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে তুমুল গোলাগুলি, ১৬ পুলিশসহ নিহত ৩১
আরও পড়ুন
এবার গ্রেপ্তার হলেন ইমরান খানের বোন
‘ইমরানকে মুক্ত করুন’, ব্রিটেনের প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসনের আহ্বান 
এবার ইমরান খানের পাশে অস্ট্রেলিয়ার ৭ সাবেক অধিনায়ক
এবার ইমরান খানের পাশে দাঁড়ালেন ব্রায়ান লারা