
সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে। অভিন্ন নীতিতে বিশ্বাসী নতুন যেকোনো দেশকে এই জোটে স্বাগত জানানোর পথ খোলা রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই তথ্য জানিয়েছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, এই চুক্তি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক। এটি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ জানান, তিন দেশের বর্তমান অভিন্ন নীতি হলো অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন না চালানো এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। পাশাপাশি সম্মিলিত প্রতিরোধের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে জোটটি গঠিত হয়েছে। এই নীতিগুলো যারা সমর্থন করবে তাদের নতুন অংশীদার হিসেবে এই জোটে যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। তবে নতুন দেশ যুক্ত করার সময় ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। একই সঙ্গে এটিকে সামগ্রিক কোনো মুসলিম সামরিক জোট বলতে নারাজ পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
তিনি বলেন, এই চুক্তিকে মূলত একটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জোট হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ত্রিদেশীয় সম্পর্ককে এখন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক কাঠামো দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এই চুক্তির কারণে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন তৈরি হবে না বলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, প্রতিটি দেশের সঙ্গেই পৃথক ও স্বাধীন কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা হয়। ঠিক যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব চীন বা ইরানের সম্পর্কের ওপর পড়ে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাকিস্তান চায় আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসুক।
আরটিভি/এআর


