ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদুরোর ‘ঘরেই’ ঘাপটি মেরে বসেছিল গাদ্দার, সিআইএকে দিচ্ছিলো সব তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তার বাসভবনে ঢুকে তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে ঢুকে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ তুলে নিয়ে গেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। দুর্গের মতো সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাকে যেভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্দি করা হয়, তাতে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

মার্কিন বাহিনীর এই অভিযান এত সহজ হয়েছে মূলত একজন বিশ্বাসঘাতকের কারণে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি প্রতিনিয়ত তথ্য পাচার করছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র কাছে। ফলে অভিযানের সময় মাদুরোর অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

রোববার (৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানে যৌথভাবে অংশ নেয় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, সিআইএ ও এফবিআই। অভিযানের পরিকল্পনা চলছিল বহু মাস ধরে এবং এর অংশ হিসেবে বারবার মহড়া দেওয়া হয়।

সূত্র অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিজাত ইউনিট ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের হুবহু একটি নকল কাঠামো তৈরি করে সেখানে অনুশীলন চালায়। কীভাবে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী ওই ভবনে প্রবেশ করা হবে, তার প্রতিটি ধাপ ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

সিআইএর একটি ছোট দল গত আগস্ট থেকেই সক্রিয় ছিল ভেনেজুয়েলায়। মাদুরোর দৈনন্দিন চলাফেরা, সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে তারা। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি গোপনে কাজ করছিলেন সিআইএর জন্য এবং অভিযান চলাকালে তার অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর চারদিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

সে অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এই অভিযানে ২০টি ঘাঁটি থেকে ১৫০টির বেশি আকাশযান অংশ নেয়, যার মধ্যে এফ-৩৫, এফ-২২ এবং বি-১ বোমারু বিমান ছিল।

হামলার আড়ালে ভারী অস্ত্রসহ কারাকাসে প্রবেশ করে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স। রাত ১টার দিকে মার্কিন সেনারা মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শেষ পর্যন্ত সেনা ও এফবিআই সদস্যরা ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ভবনটিতে ঢুকে পড়েন। মার্কিন সেনারা ভবনের ভেতরে ঢোকার পর মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন।

আরও পড়ুন

ট্রাম্প জানান, মাদুরো একটি সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ করতে পারেননি। অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি।

ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ত্যাগ করার সময় মার্কিন বাহিনী একাধিক আত্মরক্ষামূলক সংঘর্ষে জড়ায়। ভোর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের ওপর পৌঁছায়। মাদুরো ও তার স্ত্রী তখন হেলিকপ্টারের ভেতরেই ছিলেন।

প্রায় সাত ঘণ্টা পর ট্রাম্প আরেকটি পোস্ট দেন ট্রুথ সোশ্যালে। সেখানে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় ধূসর ট্রাউজার পরিহিত মাদুরোর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইউএসএস আইও জিমা জাহাজে নিকোলাস মাদুরো।’

পুরো অভিযানটাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাভ দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলায় চালনো এ সামরিক অভিযানকে ‘টেলিভিশন শো’ দেখার মতো ‘চমকপ্রদ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, এখন ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করে সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
প্রকৃতির জাদুতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি’ হয়ে উঠল ছবির মত সুন্দর
বালির ধূধু প্রান্তর, চারদিকে শুধু শুষ্কতা আর প্রাণহীনতা—এটাই চিলির আতাকামা মরুভূমির পরিচিত চিত্র।
প্রকৃতির জাদুতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শুকনো মরুভূমি’ হয়ে উঠল ছবির মত সুন্দর
চিলিতে বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ 
চিলির দক্ষিণাঞ্চলে একটি বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে (নার্সিং হোম) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন বয়স্ক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
চিলিতে বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১৬ 
গুজব বিক্রি করে দুটি বাড়ি কিনেছেন বৃদ্ধা, করছেন রমরমা ব্যবসা  
পাড়াপড়শীর হাঁড়ির খবর রাখা অনেকেরই স্বভাব! তবে গুজব ছড়িয়ে আয় করা যায় এমন কথা কারো ভাবনায় আসার কথা নয়।
গুজব বিক্রি করে দুটি বাড়ি কিনেছেন বৃদ্ধা, করছেন রমরমা ব্যবসা  
বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১০
বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির লা পাজ বিভাগের ভিয়াচা শহরে অবস্থিত রেজিমিয়েন্তো ২ বলিভার সামরিক স্থাপনায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রিতা নেব্রাস্কা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যে হতে পারে। বিস্ফোরণে অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য উভয়েই রয়েছেন। বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এরনেস্তো জাস্তিনিয়ানো জানান, আহতদের মধ্যে ৫২ জন বেসামরিক এবং ছয়জন সামরিক সদস্য। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সামরিক স্থাপনাটির এমন একটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে যেখানে আতশবাজি বা বিস্ফোরকজাতীয় সামগ্রী সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। তবে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এবং সেখানে বিস্ফোরক সামগ্রী কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর এর প্রচণ্ড শব্দ ও কম্পনে সামরিক স্থাপনার আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কাছাকাছি থাকা কয়েকটি বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং স্থাপনার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান। প্রাথমিক স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রথমে দুটি বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী এবং এর ধাক্কায় সামরিক স্থাপনার আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ঘটনাস্থল নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। ঘটনার পর সামরিক বাহিনী সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। সম্ভাব্য আরও কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এদিকে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন হতে পারে। ফলে উদ্ধার ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন বলিভিয়ার সামরিক স্থাপনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলাদা তদন্ত চলছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সান্তা ক্রুজ বিভাগের একটি সামরিক রেজিমেন্টের গুদাম থেকে ৩৩ হাজার ৬০৮টি ৫.৫৬×৪৫ মিমি গুলি নিখোঁজ হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্তও চলছে। তবে ভিয়াচার বিস্ফোরণের সঙ্গে নিখোঁজ গোলাবারুদের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে-এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ দেয়নি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আরটিভি/এসআর
বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১০
আরও পড়ুন
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে সরকারের ‘বড় প্রস্তুতি’
শিশু কলি হত্যা, রিমান্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
শিশু রায়হানের পা কাটা নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা নেই সরকারের: তথ্যমন্ত্রী