
নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্সের রোড টেস্ট দিতে গিয়ে ছোট একটি ভুলও পরীক্ষার্থীর ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, ব্লাইন্ড স্পট না দেখা, লেন পরিবর্তনের আগে যথাযথ পর্যবেক্ষণ না করা এবং প্যারালাল পার্কিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ভুল এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেয় নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালস বা ডিএমভি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোড টেস্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যে অতিরঞ্জিত ও ভুল দাবিও রয়েছে। যেমন, ‘৯০ শতাংশ বাংলাদেশি তিনটি নির্দিষ্ট ভুলে ফেল করেন’ এমন কোনো পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক ডিএমভি প্রকাশ করেছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। একইভাবে পরীক্ষক গাড়িতে ওঠার ‘প্রথম ১০ সেকেন্ডেই’ নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট কেটে দেন, এমন দাবিরও সরকারি ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
রোড টেস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো চারপাশের ট্রাফিক সম্পর্কে সচেতন থাকা। গাড়ি চালানো শুরু করা, লেন পরিবর্তন, পার্কিং বা অন্য কোনো ম্যানুভারের সময় শুধু মিররের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাইন্ড স্পটও পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষক দেখতে চান, চালক আশপাশের গাড়ি, পথচারী ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন কি না।
স্টপ সাইনেও নিয়মটি পরিষ্কার। নিউইয়র্ক ডিএমভির ড্রাইভার্স ম্যানুয়াল অনুযায়ী, স্টপ সাইনে গাড়িকে সম্পূর্ণ থামাতে হবে। স্টপ লাইন থাকলে তার আগে থামতে হবে। স্টপ লাইন না থাকলেও ক্রসওয়াক থাকলে সেটিতে প্রবেশের আগে থামতে হবে। কোনোটিই না থাকলে ইন্টারসেকশনে ঢোকার আগে এমন স্থানে থামতে হবে, যেখান থেকে অন্য দিকের ট্রাফিক দেখা যায়।
তবে ‘স্টপ সাইনে বাধ্যতামূলকভাবে তিন সেকেন্ড থামতে হবে’ এমন নির্দিষ্ট সময়সীমা নিউইয়র্ক ডিএমভির নিয়মে নেই। মূল শর্ত হলো গাড়ি সম্পূর্ণ থামানো এবং নিরাপদ হলে তবেই আবার চলা শুরু করা। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ‘তিন সেকেন্ডের নিয়ম’ মুখস্থ করার চেয়ে গাড়িকে সত্যিকার অর্থে সম্পূর্ণ থামানোর অভ্যাস করাই গুরুত্বপূর্ণ।
প্যারালাল পার্কিংও নিউইয়র্কের রোড টেস্টের অংশ। ডিএমভির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় চালককে গাড়ির চারপাশ এবং পেছনের এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ব্যাকআপ ক্যামেরা বা সেন্সর থাকলেও শুধু সেগুলোর ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। গাড়ির নিরাপদ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব চালকেরই।
লেন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেন পরিবর্তনের আগে সিগন্যাল দেওয়া, মিরর দেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লাইন্ড স্পট পরীক্ষা করা এবং নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর লেন পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য নয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেও এই অভ্যাস জরুরি।
রোড টেস্টের আগে গাড়িটিও পরীক্ষার উপযোগী অবস্থায় থাকতে হবে। ডিএমভি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গাড়ির শর্ত আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া ভালো। সিটবেল্ট ব্যবহারসহ মৌলিক নিরাপত্তার নিয়মগুলোও শুরু থেকেই মেনে চলতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের আরেকটি সাধারণ ভুল হলো অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে খুব ধীরে বা অনিশ্চিতভাবে গাড়ি চালানো। পরীক্ষক শুধু দ্রুতগতির ভুল দেখেন না, চালক পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ ও স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রোড টেস্টের ফল এখন নিউইয়র্ক ডিএমভির নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফলাফল দেখার পর কোন কোন দক্ষতায় ঘাটতি ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পরীক্ষার আগে অনুশীলন করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোড টেস্টের প্রস্তুতির সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘গোপন নিয়ম’ বা ‘নিশ্চিত পাসের কৌশল’কে সরকারি নিয়ম হিসেবে ধরে না নেওয়া। স্টপ সাইনে সম্পূর্ণ থামা, চারপাশ পর্যবেক্ষণ করা, ব্লাইন্ড স্পট দেখা, সঠিকভাবে সিগন্যাল ব্যবহার, নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো এবং প্যারালাল পার্কিংসহ মৌলিক ড্রাইভিং দক্ষতায় ভালো প্রস্তুতিই নিউইয়র্কের রোড টেস্টে সফল হওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
আরটিভি/এআর

