ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ভিসায় আবারও বড় পরিবর্তন ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও এক বছর বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ঘোষণা দেয় হোয়াইট হাউস।

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও সাধারণত অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালু করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।

নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ পরিশোধের প্রমাণও রাখতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগ প্রয়োজন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে মনে হলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।

১ লাখ ডলারের এই অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত এর বাস্তবায়ন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

জুলাইয়ে প্রথম সার্কিট আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করে। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।

এর পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসার আবেদন যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে আবেদন যাচাইয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিদেশি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে। হোয়াইট হাউসের হিসাবে, এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে।

তবে এই পরিসংখ্যান ও নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ফলে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সান ফ্রান্সিসকোতে বিরল ভাসমান বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ভাসমান একটি বাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। বাড়িটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
সান ফ্রান্সিসকোতে বিরল ভাসমান বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে
নিউইয়র্কে তুষার পরিষ্কার কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন বাড়ালেন মেয়র জোহরান মামদানি 
শীতের তুষারপাত সামলাতে অস্থায়ী তুষার পরিষ্কার কর্মীদের বেতন বাড়িয়েছে নিউইয়র্ক সিটি। নতুন নিয়মে জরুরি তুষার পরিষ্কার কর্মীরা ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাবেন।
নিউইয়র্কে তুষার পরিষ্কার কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন বাড়ালেন মেয়র জোহরান মামদানি 
নিউইয়র্কের আকাশে দুই গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক পাইলটের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট এলাকায় আকাশে দুটি গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষে এক পাইলট নিহত হয়েছেন।
নিউইয়র্কের আকাশে দুই গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল এক পাইলটের
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এখনও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ
আট দশকেরও বেশি সময় পরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বিশ্বের ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধ ও শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকারসহ সমকালীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে এ পরিষদের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক পরিচালক রিচার্ড গোয়ান জাতিসংঘের কার্যক্রম, এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন সামনে রেখে তিনি ইউএন নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চ হিসেবে সাধারণ পরিষদের গুরুত্ব এবং পরিবর্তনশীল ও বিভক্ত বিশ্বে এর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। নিউইয়র্ক থেকে ইউএননিউজ জানায়, ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় সাধারণ পরিষদের ভূমিকা সম্পর্কে গোয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা ধরে নিয়েছিলেন যে নিরাপত্তা পরিষদই অধিকাংশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু হবে।  তবে জাতিসংঘের কার্যক্রম শুরুর পর নিরাপত্তা পরিষদের বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে দ্রুত বিভাজন দেখা দেয়। ফলে অনেক রাজনৈতিক আলোচনা সাধারণ পরিষদে স্থানান্তরিত হয়। তিনি বলেন, ১৯৪০-এর দশক ও ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে ফিলিস্তিন প্রশ্ন ও কোরিয়া পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ পরিষদ মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। শীতল যুদ্ধের উত্তেজনায় নিরাপত্তা পরিষদ প্রায়ই অচলাবস্থায় পড়ত। গোয়ান বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই সমর্থনের জন্য সাধারণ পরিষদের দ্বারস্থ হতো। কোরীয় যুদ্ধ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা অসম্ভব হয়ে পড়লে কোরিয়া পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে সাধারণ পরিষদই আলোচনা পরিচালনা করে। ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট ও হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত আক্রমণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় সাধারণ পরিষদ সুয়েজ সংকটের অবসানে সহায়তার জন্য জাতিসংঘের প্রথম সামরিক শান্তিরক্ষা অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দেয়। শীতল যুদ্ধের সময় সংকট ব্যবস্থাপনায় এটি ছিল সাধারণ পরিষদের অন্যতম বড় অবদান। ১৯৬০-এর দশকে সদ্য স্বাধীন দেশগুলোর জাতিসংঘে যোগদানের ফলে সাধারণ পরিষদের সদস্যসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। গোয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা হয়তো ধারণা করেছিলেন যে সাধারণ পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৮০ বা ৯০টি হতে পারে। কিন্তু নতুন স্বাধীন দেশগুলো সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে। তিনি বলেন, ১৯৬০-এর দশকে সাধারণ পরিষদ দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী অ্যাপারথাইড ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭০-এর দশকে অ্যাপারথাইডপন্থী দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে গোয়ান বলেন, এসব দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাপারথাইড, আফ্রিকায় পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অব্যাহত উপস্থিতি এবং ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে সাধারণ পরিষদকে ব্যবহার করে। একই সঙ্গে তারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়েও সরব হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে সাধারণ পরিষদ উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য আরও ন্যায়সংগত একটি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর ফলে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকজুড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে কঠিন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সাধারণ পরিষদ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রধান প্ল্যাটফর্ম ছিল উল্লেখ করে গোয়ান বলেন, অ্যাপারথাইডবিরোধী আন্দোলন বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে অ্যাপারথাইডের পতনে অবদান রাখে। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ না থাকলে জাতিসংঘের বিপুলসংখ্যক সদস্যরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেত না। যদিও বৈশ্বিক দক্ষিণের জন্য আরও ন্যায়সংগত কোনো নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি, তবু সাধারণ পরিষদ বহু দেশকে বিশ্বপরিসরে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গে গোয়ান বলেন, ওই সময়ে কূটনীতিকরা তাঁদের আদর্শগত মতপার্থক্য কিছুটা পাশে রেখে জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আরও গঠনমূলক আলোচনা করতে সক্ষম হন। এ সময় যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন পরিবেশ তৈরি হয় এবং জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের মতো নতুন উদ্যোগ গড়ে ওঠে। কমিশনটি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয়। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অনেক সদস্যরাষ্ট্র মনে করেছিল, সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা থাকা উচিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতি জি-২০-এর মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে গোয়ান বলেন, ওই সময় পরিবেশ ও পৃথিবী রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা আরও জোরালো হয়। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় এর প্রতিষ্ঠাতারা যে ধারণা পোষণ করেছিলেন, সাধারণ পরিষদের বর্তমান ভূমিকা তার চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে গোয়ান বলেন, প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেছিলেন, জাতিসংঘের ব্যবস্থা পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী কাঠামো টিকিয়ে রাখবে। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘ, বিশেষ করে সাধারণ পরিষদ, দেশগুলোকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা, বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা এবং ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিকতামুক্তির ইতিহাসে সাধারণ পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় উপস্থিত উইনস্টন চার্চিলের মতো কেউ যদি জানতে পারতেন যে সাধারণ পরিষদ এ ধরনের ভূমিকা পালন করবে, তাহলে তিনি বিস্মিত হতেন। আজকের বিশ্বে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে গোয়ান বলেন, বিশ্বে জি-৭, ব্রিকসসহ অনেক কূটনৈতিক জোট ও ফোরাম থাকলেও বহু ছোট দেশ ও মধ্যম শক্তির দেশের জন্য সাধারণ পরিষদ এখনো প্রধান মঞ্চ। বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য এটিই তাদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, জাতিসংঘের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে—এমন কথা প্রায়ই শোনা গেলেও প্রতি সেপ্টেম্বরেই সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য রেকর্ডসংখ্যক বিশ্বনেতা সমবেত হন। গোয়ান বলেন, ‘এটি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বিশ্ব যখন কোনো জরুরি সংকটে প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়, তখন সাধারণ পরিষদেই আসে। এর কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ পরিষদকে অন্য কোনো শহরে স্থানান্তর করা সম্ভব হলেও বিশ্বের বহু নেতার কাছে নিউইয়র্কে এ সংস্থার সদর দপ্তর থাকার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, এখানে তারা বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রস্থলে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পান। আরটিভি/এসআর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এখনও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হাতে পেল চীন!
অস্ট্রেলিয়া থেকে স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বদলে চীনের হাতে গেছে। এই ঘটনার পরপরই তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।  শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ তথ্য জানায়। পলিটিকোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনের কাছে যাওয়া ওই চালানে যুদ্ধবিমানের একটি ক্যানোপি বা স্বচ্ছ ছাদ রয়েছে, যা এটির স্টিলথ সিস্টেমের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্যানোপি শুধু একটি সাধারণ ছাদ নয়, এটি ককপিটের ওপর বসানো একটি গম্ভুজ সদৃশ আবরণ। মূলত এই ক্যানোপির ওপরেই রাডার ফাঁকি দেওয়ার স্বচ্ছ পদার্থ ব্যবহার করা হয়। রাডারে এফ-৩৫ ধরা না পড়ার অন্যতম কারণ হলো এটির ক্যানোপি। তবে স্বচ্ছ পদার্থটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে এগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। জানা গেছে, চীনের কাছে চলে যাওয়া ক্যানোপিটি মধ্যস্থতাভোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে চালানটি যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছিল। কিন্তু সেটি যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে গেছে চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে এগুলো কোথায় ও কার কাছে আছে তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু তারাই আশঙ্কা করছে চীন এগুলো পেয়েছে। এ ঘটনার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কংগ্রেসের যৌথ তদন্ত শুরু হয় গত জুনে। যা এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ও মিত্রদের জন্য এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরসঙ্গে এটির তদন্ত ও ভবিষ্যতে যেন এ ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিতে কাজ করছে। আরটিভি/এসআর
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ হাতে পেল চীন!
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি তরুণ পংকজ তালুকদার এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে
সমুদ্রের পানিতে ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই 
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন কিনা জানালেন মামদানি
ভিসা ফি নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো অস্ট্রেলিয়া