
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ভাসমান একটি বাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। বাড়িটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। মিশন ক্রিক এলাকায় ওরাকল পার্কের কাছে থাকা মাত্র ২০টি ভাসমান বাড়ির একটি এটি। স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে এসব বাড়ি সাধারণত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতবদল হয়। ফলে প্রকাশ্য বাজারে এমন বাড়ি বিক্রির ঘটনা খুবই বিরল।
বাড়িটির মালিক টাইসন গ্রাহাম। তিনি ২০০২ সালে মাত্র ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারে হাউসবোটটি কিনেছিলেন। তখন এটি ছিল ৪০ ফুটের একটি নৌযান, সঙ্গে ছিল ৪০ ফুটের নোঙর করার জায়গা। সামনে ও পেছনে দুটি ডেক থাকলেও তখন বাড়িটির আয়তন ছিল ৩০০ বর্গফুটেরও কম।
শিকাগোর বাসিন্দা গ্রাহাম পরে নিজের শ্রম ও পরিকল্পনায় বাড়িটির ব্যাপক পরিবর্তন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে ছোট নৌযানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি আবাসিক বাড়িতে রূপ দেন। বর্তমানে বাড়িটিতে রয়েছে তিনটি শয়নকক্ষ ও তিনটি বাথরুম।
হাউসবোটটি তৈরির সময় গ্রাহামের পরিকল্পনায় দুটি আলাদা আবাসিক ইউনিট রাখার ব্যবস্থা ছিল। ওপরের তলাটি আলাদা ভাড়ার ইউনিট হিসেবে এবং নিচের তলাটি নিজের বসবাসের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
পরে ওপরের তলার আলাদা ইউনিটটি পরিবর্তন করে বড় মূল শয়নকক্ষে পরিণত করা হয়। সেখানে রয়েছে একটি বাথরুম ও বড় পোশাক রাখার কক্ষ। ফলে বর্তমানে পুরো বাড়িটিই একটি বড় আবাসিক ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মিশন ক্রিক এলাকায় থাকা ভাসমান বাড়িগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। গ্রাহামের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি হাউসবোট প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির জন্য উঠেছে। তার বাড়িটিও সেই বিরল তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
তবে বাড়িটি কিনতে হলে শুধু বিক্রয়মূল্য দিলেই হবে না। মালিককে প্রতি মাসে নোঙর করার জায়গার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। গ্রাহামের দাবি, এই খরচ সান ফ্রান্সিসকো শহরের অধিকাংশ আবাসন মালিক সমিতির মাসিক ফির চেয়েও কম।
পানির ওপর ভাসলেও বাড়িটিতে স্থলভাগের বাড়ির মতোই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা যায় বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম। তার মতে, পানির ওপর থাকার কারণে বাড়িটিতে আলাদা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রবল বাতাসে বাড়িটি দুলতে শুরু করলে তখনই বোঝা যায়, এটি পানির ওপর ভাসমান একটি বাড়ি।
এই বাড়ির সঙ্গে গ্রাহামের দীর্ঘদিনের অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। নৌকায় করে ফেরি ভবনের কৃষকের বাজারে যাওয়া এবং চ্যানেল স্ট্রিট এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় তিনি মিস করবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করেছেন গ্রাহাম। বর্তমানে তার বাড়ি সানোমা কাউন্টিতে। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে অবসর জীবনের পরবর্তী সময় কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নিজের সিদ্ধান্তের কারণও জানিয়েছেন গ্রাহাম। তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তানও নেই, যে ভবিষ্যতে বাড়িটির দায়িত্ব নিতে পারে। কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়ার পর এখন জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাউসবোটটি বিক্রি করছেন তিনি।
সূত্র: সিবিএস
আরটিভি/জেএমএ



