
চালকের আসনে বসে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রায় ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে চলছিল একটি টেসলা গাড়ি। গাড়িটিতে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা (সেলফ ড্রাইভিং) ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে গাড়ি চলার সময় চালকের ঘুমিয়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসতেই তাকে থামিয়ে জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার সোলানো কাউন্টির আন্তঃরাজ্য ৮০ মহাসড়কে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, গাড়িটি প্রায় ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালকের আসনে থাকা ব্যক্তি আসনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তার চোখে ছিল কালো চশমা।
পরে পুলিশ গাড়িটিকে থামায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২ সেপ্টেম্বর। গাড়ি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানার টিকিট দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে বোঝানো হয়, টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকলেও গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে চালক পুরোপুরি নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন না।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলার সময় চালক ঘুমিয়ে থাকলে তার জন্য বর্তমানে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রচলিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে।
পুলিশ কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল।
টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে অনেকের মনে হতে পারে, এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা। তবে বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশের নথিতেও বলা হয়েছে, এ ধরনের চালক সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপরই থাকে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালকদের সতর্ক করেছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সবসময় সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে মহাসড়ক ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থায় দেখা যায়। ওই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা ব্যবস্থা থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই।
এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান।
পুলিশ জানিয়েছিল, গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা মদের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারে। তবে এর মাধ্যমে চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি।
সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ, এসএফগেট, দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট
আরটিভি/জেএমএ



