
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে কম সিজিপিএ থাকলেও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ থাকে। তবে কম পয়েন্ট নিয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া এবং টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচসহ পূর্ণ ফান্ডিং অর্জন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্য বা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের নিজস্ব শর্তাবলী যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এবং বিভাগভেদে ভর্তির ন্যূনতম পয়েন্ট ও ফান্ডের নিয়মে বড় ধরনের তারতম্য থাকে।
যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ইস্ট বে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২.৫ জিপিএর সমতুল্য ফল নির্ধারণ করেছে। তবে বিভাগীয় শর্তগুলো আলাদাভাবে পূরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবার ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২.৫ জিপিএ চাওয়া হলেও শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে অন্তত ২.৭৫ না থাকলে বিশেষ আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা কোনোভাবেই সরাসরি ভর্তির নিশ্চয়তা দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শক সংস্থা ‘এডুকেশনইউএসএ’ জানায়, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ছাড় ও ভাতা মিলতে পারে। তবে বেশিরভাগ স্কলারশিপ মোট খরচের কেবল একটি অংশ বহন করে। ফলে ভর্তির সুযোগ থাকা মানেই পূর্ণ ফান্ডিং পাওয়া নয়।
এ ছাড়া অনলাইনে বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’ কোনো প্রথাগত ক্যাম্পাসে পড়াশোনার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। প্রতিষ্ঠানটিতে টিউশন ফি না থাকলেও গ্র্যাজুয়েট কোর্সে অ্যাসেসমেন্ট ফি দিতে হয়। তাই শিক্ষার ধরন ও আনুষঙ্গিক খরচ আগেই স্পষ্ট হওয়া দরকার।
শিক্ষাবিদেরা জানান, কম সিজিপিএ থাকলে শক্তিশালী রিসার্চ, কাজের অভিজ্ঞতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) ও ভালো সুপারিশপত্র দিয়ে আবেদন গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব। তবে এগুলো কোনো ন্যূনতম বাধ্যবাধকতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ করে না। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে ভর্তির সার্বিক শর্ত যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এআর


