ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতীয়দের গ্রিন কার্ডের পথ আটকাল ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীন কার্ড । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় বাধার মুখে পড়েছে বিশ্বের কয়েকটি বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। দেশটির সরকার ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, কগনিজ্যান্ট, উইপ্রো, এইচসিএল, মাইক্রোসফট, ক্যাপজেমিনি ও অ্যাডোবিকে স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীনে কাজ করা ভারতীয় কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগ ও আইনি শর্ত পূরণের ব্যয় বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের সচিব কিথ সন্ডারলিং এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্থগিতাদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন স্থায়ী শ্রম সনদের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও বন্ধ থাকবে। তবে এই পদক্ষেপের ফলে কর্মীদের বর্তমান অস্থায়ী কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশি দক্ষ কর্মী ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের মধ্যে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, এতে দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে না।

স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি কী

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যবস্থায় কোনো নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রমাণ করতে হয়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের মজুরি বা চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানই আবেদন করে, কর্মী নিজে নয়।

অনেক দক্ষ বিদেশি কর্মী প্রথমে এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে তারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। ফলে স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচিতে বাধা তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা করা কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

২০০৫ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে নতুন স্থগিতাদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত নতুন আবেদন করতে পারবে না এবং আগের আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও এগোবে না।

মাইক্রোসফটকে নিয়ে ভ্যান্সের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। তার দাবি, মাইক্রোসফট গত বছর ছয় হাজার মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করলেও ছয় হাজার ৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় তিন হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা পেয়েছে।

তবে এসব সংখ্যার ভিত্তিতে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের প্রত্যেকের জায়গায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল আগে থেকে কর্মরত ব্যক্তিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা তাদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য; নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি মাইক্রোসফট।

কতটা প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প মেয়াদে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব নাও পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা চললে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগ, স্থানীয় কর্মী দিয়ে কাজ করানো এবং আইনি শর্ত পূরণের ব্যয় বাড়তে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে জমা দেওয়া স্থায়ী শ্রম সনদের আবেদনের দুই শতাংশেরও কম ছিল ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কর্মীদের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বাড়িয়েছে। তাদের মতে, এইচ-১বি ভিসা থেকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি ব্যবহার করেন তুলনামূলক কমসংখ্যক কর্মী।

ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশে তাদের কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার কাজে প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছে না। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত দুই বছরে স্থায়ী শ্রম সনদের জন্য তাদের আবেদন ছিল খুবই কম।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা ও স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচির অপব্যবহার, মজুরি কম দেওয়া এবং ভুয়া আবেদনসংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ জোরদার করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শ্রম দপ্তর ‘প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল’ নামে একটি তদারকি কার্যক্রম শুরু করে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিদেশ থেকে নিয়োগ করা কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি আবেদনে এককালীন এক লাখ ডলারের ফি আরোপের ঘোষণাও আসে।

এর আগে গত মাসে কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ডসংক্রান্ত আবেদন স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসা ও স্থায়ী শ্রম সনদ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য জালিয়াতি এবং মানব পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেন কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট ছয়টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন এবং এক লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ পেয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তর।

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য ও খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মী নিয়োগও বাড়ানো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, নতুন স্থগিতাদেশে ভারতীয় কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথ আরও অনিশ্চিত হতে পারে। তবে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে স্থগিতাদেশ কত দিন বহাল থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপ্যান্ডেন্ট

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়ল বছরের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হেনেছে ২০২৬ সালের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড় ‘ইসাইয়াস’। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড়টি।
যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়ল বছরের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়
মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন
জালিয়াতি রোধ এবং আমেরিকানদের চাকরি সুরক্ষার পদক্ষেপ জোরদার করে মাইক্রোসফট, শীর্ষস্থানীয় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এবং সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডোবিকে গ্রিন-কার্ড কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের সংখ্যা কমাতে এবং তাদের স্থায়ী বাসস্থান ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সংকুচিত করতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।  তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন কর্মসূচির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আঘাত—যা বিদেশি প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার সাধারণ পথ বন্ধ করে দিতে পারে—পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সতর্কবার্তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। জেডি ভ্যান্স বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা সিস্টেম বা ব্যবস্থার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের চেয়ে এগিয়ে।  তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, অথচ অন্যদিকে ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা গ্রহণ করেছে। আমেরিকায় বিশেষ অবদানের জন্য ট্রাম্প যখন মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলাসহ অন্যান্য প্রযুক্তি খাতের বিলিয়নেয়ারদের সম্মানিত করেন, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ভ্যান্স এই মন্তব্যগুলো করেন।  সংবর্ধিত হওয়া ইলন মাস্কের মতো নাদেলাও একসময় এইচ-১বি ভিসাধারী ছিলেন। এছাড়া সম্মানিত হওয়া অন্য সিইওদের মধ্যে তিনজনও ছিলেন অভিবাসী। পুরস্কার গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নাদেলা ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তিনি প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আমেরিকার সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ চালিয়ে যাবেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার (মার্কিন শ্রম বিভাগ)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রম প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া বা 'পিইআরএম' আবেদনের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট সবচেয়ে বড় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য পার্ম প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়, যার অধীনে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হয় যে কোনো বিদেশী কর্মী নিয়োগের ফলে মার্কিন কর্মীদের বেতন বা কর্মসংস্থানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তারা যেসব এইচ-১বি আবেদন জমা দিয়েছিল, তার প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল তাদের বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য, নতুন কোনো কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। গত জুলাই মাসে কোম্পানিটি জানায় যে তারা ৪,৮০০টি পদ বিলুপ্ত বা ছাঁটাই করবে, যা তাদের মোট বিশ্বব্যাপী জনবলের প্রায় ২.১ শতাংশ। শ্রম সচিব কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ কগনিজেন্ট , ইনফোসিস , টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো , এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সন্ডারলিং বলেন, 'আমরা এই কোম্পানিগুলোর সাথে জড়িত কোনো নতুন স্থায়ী শ্রম প্রত্যয়ন (পিইআরএম) আবেদন গ্রহণ করব না এবং পেন্ডিং বা প্রক্রিয়াধীন থাকা কোনো আবেদনও আর প্রসেস করব না।' তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০ লাখ বিদেশী কর্মী নিয়োগ করতে চেয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ২,৩০,০০০-এরও বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন এবং ১ লাখেরও বেশি স্থায়ী শ্রম প্রত্যয়ন (পিইআরএম) সনদ পেয়েছে। মার্কিন অভিবাসন তথ্যানুসারে, ২০২৬ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি সুবিধাভোগীদের সবচেয়ে বড় নিয়োগকর্তা ছিল অ্যামাজন ডটকম। এরপরের স্থানগুলোতে রয়েছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট। ভ্যান্স বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন বহাল থাকবে এবং প্রশাসন চায় কোম্পানিগুলো যেন তাদের কর্মী নিয়োগ পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটায়।  তিনি বলেন, কিছু কোম্পানি অকার্যকর চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে এবং পরবর্তীতে কম বেতনে বিদেশী কর্মী নিয়োগের যুক্তি হিসেবে আবেদনকারীর অভাবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায়। এদিকে মাইক্রোসফট তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের এইচ-১বি কর্মীদের সমমানের কাজ করা অন্যান্য কর্মীদের মতোই একই হারে বেতন প্রদান করে। ভারতের আইটি শিল্পের সংগঠন নাসকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় টেক কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর তাদের নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে এবং পার্ম (পিইআরএম) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড চাওয়া তাদের কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শ্রম বিভাগ প্রজেক্ট ফায়ারওয়াল নামক একটি প্রয়োগকারী অভিযান শুরু করে, কারণ হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় বিদেশ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের নতুন এইচ-১বি আবেদনের ওপর এককালীন ১ লাখ ডলার ফি আরোপ করা হয়েছিল। এ ছাড়াও আমেরিকান কর্মীদের বেতন কমানোর উদ্দেশ্যে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আরটিভি/এসআর
মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ / যুক্তরাষ্ট্রের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তদন্তের ঘোষণা দেন। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসি ডেভিস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। তার অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি গবেষকদের জন্য নির্ধারিত ভিসা কর্মসূচি অতিরিক্ত ব্যবহার করে মার্কিন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কর্মসংস্থান এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করছে। ভ্যান্স বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জে-১ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। বিদেশি গবেষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।  এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসা জালিয়াতি করেছে বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক।  তাদের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে এই হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষকদের উপস্থিতির হার বেশি হওয়ার অর্থ নিজে থেকেই ভিসা জালিয়াতির প্রমাণ নয়।  তদন্তে মূলত ভিসার শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্কের অনিয়ম এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসাসংক্রান্ত সব কেন্দ্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলে।  ফক্স৪০-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তদন্তের বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তে কী ধরনের নথি পরীক্ষা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জে-১ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত অস্থায়ী ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশটিতে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে।  অন্যদিকে, এইচ-১বি ভিসা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও শর্ত আলাদা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কর্মসূচির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জে-১ ভিসার মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করাচ্ছে।  তার মতে, এতে স্থানীয় গবেষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিদেশি গবেষকদের বেতন তুলনামূলক কম কি না, কিংবা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার শর্ত ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগের শর্ত, কাজের ধরন ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  ফলে ভিসা ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হতে পারে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক ডি’এসপোসিটি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরিচিতি বা মর্যাদার কারণে তদন্তের বাইরে রাখা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিসার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব এবং আর্থিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।  তবে তদন্ত চলাকালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আরটিভি/এসআর ‎  
যুক্তরাষ্ট্রের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে মারামারি নিয়ে নিরাপত্তাশঙ্কায় অভিভাবকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের সরকারি স্কুলগুলোতে এক শিক্ষাবর্ষেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছয় হাজারের বেশি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৬ হাজার ১৩১টি মারামারির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা চার বছর আগের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলগুলোতে মারামারি নিয়ে নিরাপত্তাশঙ্কায় অভিভাবকেরা
শান্তিতে নোবেল জয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক ছিলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
শান্তিতে নোবেল জয়ী কে এই নাভি পিল্লাই
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়ল বছরের প্রথম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়
৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা
টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ড. খালিদ, বাংলাদেশে পঞ্চম
যুক্তরাষ্ট্রের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের